জুলাই বিপ্লবের পর ছাত্র-জনতার গণহত্যাকারী নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কার্যক্রম মোটাদাগে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তারা সামান্য কিছু কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করলেও জনগণ তাদের প্রতিহত করে। একই সাথে ড. ইউনূস সরকারও এসব দলের বিরুদ্ধে কঠোর ছিল। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দৃশ্যপট যেন কিছুটা পাল্টেছে। এখন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নামধারী অনেকে নানা স্থানে ঝটিকা মিছিল করছে, ব্যানার ও পোস্টার লাগানোর চেষ্টা করছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দেখা যাচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারে পুরো সময়জুড়ে ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসগুলোতে যে কয়টি কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করেছে, বর্তমান নির্বাচিত সরকারের কয়েক মাসেই তার চেয়ে বেশি করেছে। ক্যাম্পাসের বাইরেও আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ ঝটিকা মিছিল করছে। শুধু মিছিল নয়, আওয়ামী লীগ নেতাদের জানাজায় প্রকাশ্যে স্লোগান দিতেও দেখা গেছে। বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলাও হয়েছে। অবশ্য এসব কর্মকাণ্ডের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিছু ব্যবস্থাও নিয়েছে। কিন্তু মিছিল ও পোস্টার লাগানোর ঘটনাগুলো যেখানে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আগেই ঠেকানো যেত, সেখানে কার্যক্রম চালানোর জন্য তাদের যেন সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। এ থেকে প্রশ্ন ওঠা খুব স্বাভাবিকÑ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীরবতায় কিংবা কিছু ক্ষেত্রে তাদের মৌন সম্মতিতে কি তারা এসব কর্মকাণ্ড করতে পারছে? জুলাই বিপ্লবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা আমরা ভুলে যাইনি। এ অবস্থায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় নিষিদ্ধ ফ্যাসিবাদী সংগঠন তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকলে তা জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করবে, ঘটতে পারে আইন হাতে তুলে নেয়ার ঘটনা।
আওয়ামী লীগ জুলাই বিপ্লবে দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রায় দুই হাজার ছাত্র-জনতা হত্যা করেছে, অসংখ্য মানুষকে আহত করেছে, পঙ্গু করেছে, অন্ধ বানিয়েছে, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেই আওয়ামী লীগের ভোট পাওয়ার জন্য প্রায় সব রাজনৈতিক দল ব্যাকুল হয়ে পড়েছিল। এই দলের অনেক সদস্যকে জুলাইয়ের পক্ষের অনেক রাজনৈতিক দল তাদের নিজেদের দলে নিয়েছে। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ আবার দেশের রাজনীতিতে ফিরুক- একটি রাজনৈতিক দলের কিছু নেতাকর্মীর বক্তব্যে যেন সেই ধ্বনিই প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, যা শুধু বিপজ্জনকই নয়; আত্মঘাতীও বটে!
গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগকে দেশের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক করার জন্য একশ্রেণীর মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবী আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে। এরা দলটির ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডের সহযোগী ও নীরব সমর্থক। হাসিনাকে বছরের পর বছর ফ্যাসিস্ট হতে আশকারা দিয়ে গেছে।
আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ কিংবা যুবলীগের অবৈধ কর্মকাণ্ডের চেষ্টায় জনগণ ক্ষুব্ধ। একই সাথে এসব নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যাপারে পুলিশ, রাজনৈতিক দল ও ফ্যাসিবাদের সমর্থক মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকায় তারা মর্মাহত। তাই জুলাইয়ের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর বোধোদয়ের সময় এসেছে। তারা যে জনগণের শক্তির ওপর ভর করে ফ্যাসিবাদী শাসন উৎখাতে সক্ষম হয়েছে, সেই ফ্যাসিবাদী শক্তিকে আবার রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক করা মানে জনগণের শক্তিকেই অবজ্ঞা করা।
জুলাইয়ের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোকে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক করার পক্ষে ওকালতি বন্ধ করতে হবে। যেসব মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবী আওয়ামী লীগকে রাজনীতির মাঠে ফেরানোর অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও আরো কঠোর হতে হবে। গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে তাদের তৎপরতা শুরুর আগেই নস্যাৎ করে দিতে হবে।



