মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই বিপ্লব : দু’টি পরিপূরক অধ্যায়

একাত্তর বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেছে; জুলাই সেই স্বাধীনতার ভেতরে জনগণের সার্বভৌমত্ব, মর্যাদা ও জবাবদিহির দাবি পুনরুজ্জীবিত করেছে। এই দুই ইতিহাস নির্ণায়ক ঘটনা পরস্পর সমতুল্য নয়; কিন্তু জনগণের মুক্তি, ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির একই ঐতিহাসিক পথ ও জাতীয় নিয়তির ধারাবাহিকতা

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং চব্বিশের জুলাই বিপ্লব ইতিহাস, ব্যাপ্তি, আইনি চরিত্র, লক্ষ্য ও আত্মত্যাগের বিচারে এক বা সমতুল্য ঘটনা নয়। একাত্তর পাকিস্তানি সামরিক শাসন ও দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বাঙালির স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মুক্তিযুদ্ধ; জুলাই স্বাধীন বাংলাদেশের ভেতরে বৈষম্য, রাষ্ট্রীয় দমন, রাজনৈতিক অজবাবদিহি ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার বিপ্লব; কিন্তু এই দুই ঘটনা বিচ্ছিন্নও নয়। এগুলো জনগণের সার্বভৌমত্ব, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং রাষ্ট্রের ওপর জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠার একই ঐতিহাসিক পথ ও জাতীয় নিয়তির ধারাবাহিক অধ্যায়। একাত্তর রাষ্ট্রকে স্বাধীন করেছে; জুলাই স্মরণ করিয়ে দিয়েছে— স্বাধীন রাষ্ট্রও জনগণের সম্মতি, অধিকার ও জবাবদিহি ছাড়া প্রকৃত অর্থে মুক্ত থাকে না।

একাত্তরের সঙ্কট কোনো বিদেশী ষড়যন্ত্রের ফল ছিল না; এর শিকড় ছিল দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বঞ্চনা, অর্থনৈতিক বৈষম্য, সাংস্কৃতিক অবমূল্যায়ন, প্রশাসনিক আধিপত্য এবং পূর্ব পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক অধিকার অস্বীকারে। পাকিস্তানের প্রায় ৫৫ শতাংশ মানুষ পূর্বাঞ্চলে বাস করলেও রাষ্ট্রক্ষমতা কেন্দ্রীভূত ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯টির মধ্যে ১৬৭টি আসন জিতে জাতীয় পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। তবু ক্ষমতা হস্তান্তর না করে অধিবেশন স্থগিত করা হয়, যা ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সুস্পষ্ট রায়ের প্রত্যাখ্যান। এটি শুধু একটি দলের প্রতি অবিচার ছিল না; ছিল গণতন্ত্রের প্রকাশ্য ও চরম অস্বীকৃতি।

পাকিস্তান গঠিত হয়েছিল প্রধানত অভিন্ন মুসলিম পরিচয়ের ভিত্তিতে। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের বেশির ভাগ মানুষ মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও ধর্মীয় পরিচয়, রাজনৈতিক সমতা, মানবিক মর্যাদা কিংবা ভ্রাতৃত্ব নিশ্চিত করতে পারেনি। পাকিস্তানি সামরিক ও রাজনৈতিক শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগণের নির্বাচনী রায়, ভাষা, সংস্কৃতি ও ন্যায্য প্রতিনিধিত্বের প্রতি সম্মান দেখায়নি। একাত্তর তাই একটি কঠিন সত্য প্রতিষ্ঠা করেছে— ন্যায়বিচার ছাড়া ধর্মীয় ঐক্য টেকসই হয় না; গণতন্ত্র ছাড়া রাষ্ট্রীয় ঐক্য জবরদস্তিতে পরিণত হয়। আর নাগরিক মর্যাদা অস্বীকার করে কোনো রাষ্ট্র কেবল অস্ত্রের শক্তিতে অখণ্ড থাকতে পারে না।

মার্চ ১৯৭১-এ রাজনৈতিক আলোচনা চলছিল, কিন্তু একই সময়ে পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানি সামরিক শক্তি বাড়ানো হচ্ছিল। ঐতিহাসিক নথিতে দেখা যায়, আলোচনা চলাকালে অতিরিক্ত সেনা আনা ও সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়। পরে ২৫ মার্চ রাতে সামরিক অভিযান শুরু হয়। অর্থাৎ সংলাপকে আন্তরিক রাজনৈতিক সমঝোতার পথ হিসেবে গ্রহণ না করে সময়ক্ষেপণ ও সামরিক প্রস্তুতির আবরণ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগের শক্ত ভিত্তি আছে। পাকিস্তানের শাসকরা যদি সত্যিই রাষ্ট্রের ঐক্য রক্ষা করতে চাইতেন, তাহলে নিশ্চয় নির্বাচনী রায় মেনে ক্ষমতা হস্তান্তর, স্বায়ত্তশাসন ও সংবিধান নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া এবং সমাধানে পৌঁছানো পর্যন্ত রাজনৈতিক পথ খোলা রাখতেন। তা না করে অস্ত্রের পথ বেছে নেন তারা।

মুক্তিযুদ্ধকে ‘ভারতের ষড়যন্ত্র’ বলা ইতিহাসসম্মত নয়। সঙ্কটের জন্ম পাকিস্তানের ভেতরে— সংখ্যাগরিষ্ঠের নির্বাচনী রায় প্রত্যাখ্যান, ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি এবং ২৫ মার্চের সামরিক দমন থেকে। ভারত শরণার্থীদের আশ্রয় ও মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেছিল। ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তান ভারতীয় বিমানঘাঁটিতে আক্রমণ করলে পূর্ণাঙ্গ ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হয়। ভারত বিজয়ের নির্ণায়ক সহায়ক ছিল, মুক্তিযুদ্ধের স্রষ্টা নয়।

২৫ মার্চের অভিযানের পর বাঙালি মুসলমান, হিন্দু এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষ ব্যাপক হত্যা, নির্যাতন, ধ্বংস ও বাস্তুচ্যুতির শিকার হয়। প্রায় এক কোটি মানুষ ভারতে শরণার্থী হয়। পাকিস্তানি বাহিনী স্থানীয় সহযোগী ও সহায়ক বাহিনীকে স্বাধীনতাকামী জনগণ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছিল। তবে ইতিহাসের ন্যায়সঙ্গত মূল্যায়নে কোনো সম্পূর্ণ ভাষাগত, জাতিগত বা ধর্মীয় জনগোষ্ঠীকে সমষ্টিগতভাবে অপরাধী করা যাবে না। দায় নির্ধারিত হবে নির্দিষ্ট ব্যক্তি, সংগঠন ও বাহিনীর কার্যকলাপের ভিত্তিতে। মুক্তিযুদ্ধ ছিল বাঙালির রাজনৈতিক অধিকার, জাতীয় অস্তিত্ব ও মানবিক মর্যাদা রক্ষার সংগ্রাম, যেখানে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন বাঙালি মুসলমান এবং সব ধর্মের মানুষ স্বাধীনতার পক্ষে অংশ নিয়েছিলেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারকে নতুন রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। অর্থাৎ একাত্তরের লক্ষ্য শুধু ভূখণ্ড, পতাকা বা নতুন সরকার অর্জন ছিল না; লক্ষ্য ছিল এমন একটি রাষ্ট্র গড়া, যেখানে জনগণের ইচ্ছা হবে ক্ষমতার উৎস, নাগরিক অধিকার থাকবে সুরক্ষিত এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থাকবে আইন ও ন্যায়বিচারের অধীন। এ প্রতিশ্রুতিগুলো পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত না হলে স্বাধীনতা কেবল ভৌগোলিক অর্জনে সীমিত হয়ে যায়। এখানেই জুলাই বিপ্লবের সাথে একাত্তরের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা।

জাতীয় নিয়তির ধারাবাহিকতা বলতে কোনো পূর্বনির্ধারিত দলীয় মতবাদ বোঝায় না; বোঝায় জনগণের সেই পুনরাবৃত্ত আকাঙ্ক্ষা, যা প্রতিটি যুগে স্বাধীনতা, সমতা ও মর্যাদার নতুন ভাষা খুঁজে নেয়। একাত্তর যে রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছিল, জুলাই সেই রাষ্ট্রকে তার প্রতিষ্ঠাকালীন অঙ্গীকারের সামনে আবার দাঁড় করিয়েছে। এ ধারাবাহিকতাকে অস্বীকার করার মানে হলো— আমরা ইতিহাসকে স্মরণ করি, কিন্তু তার নৈতিক দায়িত্ব গ্রহণ করি না।

চব্বিশের জুলাই আন্দোলন শুরু হয়েছিল সরকারি চাকরির কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে। শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল সমতা, মেধা, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীনতার ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা। সরকারের সামনে আলোচনা, ব্যাখ্যা, নীতিগত সংশোধন এবং পারস্পরিক সম্মানের মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর সুযোগ ছিল; কিন্তু কার্যকর সংলাপের পরিবর্তে দমনমূলক শক্তি, সহিংসতা, ব্যাপক গ্রেফতার, ভয়ভীতি এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অতিরিক্ত প্রয়োগ পরিস্থিতিকে দ্রুত বিস্ফোরণমুখী করে তোলে। জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার দফতরের অনুসন্ধান তৎকালীন সরকার, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা এবং আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট সহিংস অংশের মাধ্যমে গুরুতর ও পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘন সংঘটিত হওয়ার যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি পেয়েছে। রাষ্ট্রীয় দমন, হতাহত, গণগ্রেফতার এবং সরকারের প্রতি ক্রমবর্ধমান আস্থাহীনতার প্রেক্ষাপটে একটি নীতিসংস্কারের আন্দোলন বৃহত্তর রাজনৈতিক বিপ্লবে রূপ নেয়।

তবু ঐতিহাসিক সীমারেখা স্পষ্ট রাখা জরুরি। একাত্তর পাকিস্তানি সামরিক দমন, রাজনৈতিক অধীনতা এবং বৈষম্যমূলক রাষ্ট্রকাঠামো থেকে জাতীয় মুক্তি ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ; জুলাই সেই স্বাধীন রাষ্ট্রের ভেতরে জনগণের অধিকার, সমতা, জবাবদিহি ও রাজনৈতিক মর্যাদা পুনরুদ্ধারের বিপ্লব। এই দুয়ের মিল যুদ্ধের প্রকৃতি, আইনি চরিত্র কিংবা আত্মত্যাগের সংখ্যায় নয়; মিলটি শাসনের একটি পুনরাবৃত্ত বিপদের বিরুদ্ধে জনগণের অবস্থানে— রাষ্ট্র কোনো শাসকের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। একই সাথে শক্তি প্রয়োগ কখনো জনগণের সম্মতির বিকল্প হতে পারে না। এ সীমারেখা অক্ষুণ্ন রেখে দু’টি ঘটনার মধ্যকার নৈতিক ও রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা বুঝতে হবে।

ক্ষমতায় থাকা প্রত্যেক ব্যক্তি ও দলের জন্য এই ইতিহাসে কঠোর সতর্কবার্তা রয়েছে। কোনো শাসক যেন মনে না করেন যে, শুধু তিনিই দেশ বোঝেন। শুধু তার দল জনগণের কল্যাণ জানে। দেশপ্রেমের একমাত্র সনদ তার কাছে আছে। ক্ষমতা মানুষকে এমন আত্মপ্রবঞ্চনায় ফেলতে পারে, যেখানে জনগণের সমালোচনা ষড়যন্ত্র, ভিন্নমত দেশদ্রোহিতা এবং প্রতিবাদ রাষ্ট্রবিরোধিতা বলে মনে হয়। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ বিপরীত হতে পারে— যে শাসক নিজেকে জাতির একমাত্র অভিভাবক মনে করেন, তিনি একসময় জনগণের কাছে অত্যাচারী, নিন্দিত ও ঘৃণিত শাসকে পরিণত হতে পারেন। রাষ্ট্রীয় প্রচার, দলীয় প্রশংসা, নিরাপত্তাবেষ্টনী কিংবা অনুগতদের করতালি কোনো শাসককে জনগণের বিচার থেকে রক্ষা করতে পারে না।

ক্ষমতাসীনদের আরো মনে রাখা দরকার— জনগণ নীরব থাকলে তারা সম্মত, এমন নয়। ভয়কে আনুগত্য এবং সাময়িক নিয়ন্ত্রণকে স্থায়ী বৈধতা মনে করা বিপজ্জনক। শাসক যখন ভাবেন তিনি কখনো ভুল করেন না, তখন তার সবচেয়ে বড় ভুল শুরু হয়। যে সরকার সংলাপকে দুর্বলতা, ক্ষমা প্রার্থনাকে পরাজয় এবং সমঝোতাকে আত্মসমর্পণ মনে করে, সে সরকার নিজেই সঙ্ঘাতের পথ তৈরি করে। জনগণের ওপর শক্তি প্রয়োগ করে কিছু সময়ের জন্য রাস্তা খালি করা যায়; কিন্তু ক্ষোভ, অপমান ও স্মৃতি মুছে ফেলা যায় না। ইতিহাসের আদালতে ক্ষমতার মেয়াদ নয়, ক্ষমতার ব্যবহারই শেষ পর্যন্ত বিচারিত হয়।

আজ যারা ক্ষমতায় আছেন এবং ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসবেন— সবার জন্য শিক্ষা একই। বিরোধী অবস্থায় যে দমনকে অন্যায় বলা হয়, ক্ষমতায় গিয়ে সেই একই দমনকে রাষ্ট্ররক্ষা বলে বৈধতা দেয়া যাবে না। এক সরকারের অন্যায়কে নিন্দা করে আরেক সরকার একই অন্যায়ের পুনরাবৃত্তি করলে ইতিহাসের ধারাবাহিকতা ভাঙে না; কেবল নিপীড়ক বদলায়। জুলাই বিপ্লব কোনো নতুন ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীকে সীমাহীন ক্ষমতার অনুমতিপত্র দেয়নি; বরং প্রত্যেক ভবিষ্যৎ সরকারকে আরো বেশি জবাবদিহির অধীন করেছে। যারা জুলাইয়ের নামে ক্ষমতা চাইবেন, তাদের প্রথম দায়িত্ব হবে জুলাইয়ের বিরুদ্ধে যে আচরণ জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছেন, সেই আচরণের পুনরাবৃত্তি না করা।

আমাদের রাজনৈতিক মতপার্থক্য যত গভীর হোক, সঙ্ঘাত, সহিংসতা, প্রতিশোধ বা দমন-পীড়ন তার সমাধান হতে পারে না। গ্রহণযোগ্য ও ন্যায়সঙ্গত সমাধানে পৌঁছানো পর্যন্ত সংলাপ, আলোচনা, যুক্তি এবং পারস্পরিক সম্মানের পথ খোলা রাখতে হবে। সংলাপ মানে নীতিহীন আপস নয়; বরং প্রতিপক্ষের অস্তিত্ব, রাজনৈতিক অধিকার এবং নাগরিক মর্যাদা স্বীকার করে শান্তিপূর্ণ সমাধান খোঁজা। কোনো পক্ষই সমগ্র সত্যের মালিক নয়, আর কোনো দলই চিরকাল সমগ্র জাতির একমাত্র প্রতিনিধি হয়ে থাকতে পারে না।

দেশ কোনো ব্যক্তি, পরিবার, দল বা গোষ্ঠীর একক সম্পত্তি নয়। কেউ এমন আচরণ করতে পারেন না, যেন রাষ্ট্র ও জনগণের ওপর শুধু তার অধিকার আছে। দেশপ্রেমের একচ্ছত্র মালিকানাও কেউ দাবি করতে পারেন না। প্রকৃত দেশপ্রেম হলো জনগণের রায়কে সম্মান করা, ভিন্নমতকে মর্যাদা দেয়া, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অধিকার রক্ষা করা এবং রাষ্ট্রীয় শক্তিকে প্রতিশোধের অস্ত্র না বানানো। একাত্তরের ইতিহাসকে কোনো দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি এবং জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে কোনো নতুন ক্ষমতাগোষ্ঠীর একক রাজনৈতিক পুঁজি হতে দেয়া যাবে না।

একাত্তর বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেছে; জুলাই সেই স্বাধীনতার ভেতরে জনগণের সার্বভৌমত্ব, মর্যাদা ও জবাবদিহির দাবি পুনরুজ্জীবিত করেছে। এই দুই ইতিহাস নির্ণায়ক ঘটনা পরস্পর সমতুল্য নয়; কিন্তু জনগণের মুক্তি, ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির একই ঐতিহাসিক পথ ও জাতীয় নিয়তির ধারাবাহিকতা। তাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথ স্পষ্ট— সঙ্ঘাত নয়, সংলাপ; দমন নয়, ন্যায়বিচার; প্রতিশোধ নয়, সহাবস্থান; একক মালিকানা নয়, সবার অংশীদারত্ব। শাসক বদলালে ইতিহাসের শিক্ষা বদলায় না, যে ক্ষমতা নিজেকে জনগণের ঊর্ধ্বে স্থাপন করতে চাইবে, জনগণ একদিন সেই ক্ষমতাকে প্রশ্ন করবে।

লেখক : সাবেক সংসদ সদস্য।

[email protected]