আওয়ামী লীগের ফেরা না ফেরা

স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। তবে মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় এক সামরিক অভ্যুত্থানে শেখ মুজিব দুই কন্যা ছাড়া সপরিবারে নিহত হন। এর মধ্য দিয়ে একদলীয় বাকশাল শাসনের অবসান ঘটে।

আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়
আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয় |ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগ নিঃসন্দেহে একটি প্রাচীন রাজনৈতিক দল। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের প্রথম শাসক দল। স্বাধীন বাংলাদেশে দলটি তিন দফায় রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে। সব মিলিয়ে মেয়াদকাল ছিল প্রায় সিকি শতাব্দী।

স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। তবে মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় এক সামরিক অভ্যুত্থানে শেখ মুজিব দুই কন্যা ছাড়া সপরিবারে নিহত হন। এর মধ্য দিয়ে একদলীয় বাকশাল শাসনের অবসান ঘটে। পরে অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ফের ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় ফেরে। এরপর ২০০১ সালের নির্বাচনে দলটির ভরাডুবি হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট বিপুল বিজয় পায়।

২০০৬ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় সরকারের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় ঘনিয়ে এলে ওই বছরের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার তাণ্ডব ঘটিয়ে ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেনে সেনাসমর্থিত সরকারের ক্ষমতায় আমার প্রেক্ষাপট তৈরি করে। অবশ্য, ওয়ান-ইলেভেনের মতো রাজনৈতিক ভূমিকম্প ঘটাতে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরাও ছিল তৎপর।

২০০৮ সালের কথিত অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় পায়। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনী প্রকৌশলের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় নিশ্চিত করা হয়েছিল। তখন সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ দল হিসেবে এক ভয়াবহ দৈত্যে পরিণত হয়। পরিণতিতে দেশের মানুষকে টানা সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিবাদের ঘানি টানতে হয়। ভয়াবহ ওই দুঃশাসন থেকে দেশবাসীর মুক্তি মেলে চব্বিশের ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত গণ-অভ্যুত্থানে। প্রায় ১৪ শ’ জনের জীবন দান এবং ২৫ সহস্রাধিক মানুষের আহত হওয়ার বিনিময়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার জালেম শাহীর পতন ঘটে।

এর আগেও আওয়ামী লীগ এমন পতনের মুখে পড়ে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট, যেটিকে জাতির জন্য নাজাত দিবস হিসেবে গণ্য করেন অনেকে। আওয়ামী লীগের এই যে দু’বার রাজনৈতিক বিপর্যয়; একে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক এককাতারে ফেলে গুলিয়ে ফেলছেন। পঁচাত্তর আর চব্বিশের মধ্যে যে আকাশ-পাতাল ফারাক, তারা ভুলে যান। পঁচাত্তর ও চব্বিশের মধ্যে পার্থক্যের অনেক কারণ। এই কারণগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে আছে আওয়ামী লীগের এদেশের রাজনীতিতে পুনরায় ফেরা না ফেরার জবাব। আজকের কলামে আমরা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের সম্ভাব্য একটি চিত্র আঁকতে সচেষ্ট হবো।

প্রথমে নজর দেয়া যাক শুরু থেকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গঠনপ্রক্রিয়ার দিকে। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত ভাগ হয়ে স্বাধীন দু’টি দেশের অভ্যুদয় ঘটে। এর একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পাকিস্তান। অন্যটি হিন্দু অধ্যুষিত ভারত। পাকিস্তানের আজাদি আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল মুসলিম লীগ। দলটির গোড়াপত্তন হয় ১৯০৬ সালে ঢাকায়। স্যার সলিমুল্লাহর ডাকে ‘অল ইন্ডিয়া মুসলিম এডুকেশন কনফারেনস’ অধিবেশনে ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর নিখিল ভারত মুসলিম লীগ গঠিত হয়।

প্রশাসনিক সুবিধার জন্য ১৯০৫ সালে বৃহৎ বাংলা ভেঙে ভাইসরয় লর্ড কার্জন ঢাকাকে রাজধানী করে ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম’ নামে নতুন একটি প্রদেশ গঠন করেন। কিন্তু বর্ণবাদী হিন্দু জমিদার গোষ্ঠী নতুন প্রদেশ নিজেদের স্বার্থপরিপন্থী ভেবে এর বিরুদ্ধে চরম সন্ত্রাসী আন্দোলন শুরু করে। অন্যদিকে বঙ্গভঙ্গের পক্ষে গোটা ভারতের মুসলিম জনগোষ্ঠীর সমর্থন পেতে ঢাকায় স্যার সলিমুল্লাহ অল ইন্ডিয়া মুসলিম এডুকেশন কনফারেন্স ডাকেন। দুই দিনের সেই সম্মেলনে ৩০ ডিসেম্বর নবাব সলিমুল্লাহ নিখিল ভারত মুসলিম লীগ নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠনের প্রস্তাব দেন। ব্রিটিশ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ওই শিক্ষা সম্মেলনে আসা প্রতিনিধিরা স্যার সলিমুল্লাহর প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন। এভাবে মুসলিম লীগ গঠিত হয়। হিন্দু ভারতের স্বাধীনতায় নেতৃত্ব দিয়েছে কংগ্রেস। অবসরপ্রাপ্ত ব্রিটিশ সিভিল সার্ভেন্ট অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম (এ ও হিউম) ১৮৮৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন। দেখা যাচ্ছে, একজন অভারতীয় ইংরেজের মস্তিষ্কপ্রসূত চিন্তা থেকে কংগ্রেসের জন্ম।

১৯৪৭ সালের ১৪ অক্টোবর পাকিস্তান সৃষ্টির মধ্য দিয়ে উপমহাদেশের মুসলমানরা তাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীন দেশ পান। পাকিস্তানের অভ্যুদয়ের পর মুসলিম লীগের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসে। দলীয় রাজনীতিতে পদবঞ্চিতরা ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়। দলটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন টাঙ্গাইলের শামসুল হক। প্রথম কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জায়গা করে নেন তরুণ শেখ মুজিব। ১৯৫৫ সালে সেক্যুলার ইমেজ বাড়াতে মুসলিম শব্দ বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ নামকরণ করা হয়। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী আর মওলানা ভাসানীর আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে রাজনীতিতে শক্ত পাটাতন পান শেখ মুজিব।

১৯৫৪ সালে পূর্ববাংলায় প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিম লীগের ভরাডুবি হলে শেরেবাংলা ফজলুল হকের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট বিপুল বিজয় পায়। সেই সরকারে শেখ মুজিবও মন্ত্রিপরিষদে ঠাঁই পান। সেই থেকে তার রাজনীতিতে উত্থান শুরু। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে গিয়ে মওলানা ভাসানীর ন্যাপ গঠন এবং বৈরুতে সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুতে আওয়ামী লীগের একক কাণ্ডারিতে পরিণত হন শেখ মুজিব। ষাটের দশকে সামরিক শাসক আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে দলে শেখ মুজিবের নেতৃত্ব অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানে মুজিব পাকিস্তানের জাতীয় নেতায় উন্নীত হন। আর সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দাবিদার হন। কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব বিজয়ী দলের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় অনিবার্য হয়ে ওঠে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ।

একাত্তরে সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। ১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দেশে ফেরেন শেখ মুজিব। আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা নিয়ে সদ্য স্বাধীন দেশের শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করেন। কিন্তু চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতায় তার শাসনামলে দেশের মানুষ জুলুমতন্ত্রের চূড়ান্ত রূপ দেখেন। রাজনীতি সামাল দিতে ভিন্নমত গলাটিপে মেরে শেখ মুজিব কায়েম করেন একদলীয় শাসনব্যবস্থা-বাকশাল। অনেকেই মনে করেন, বাকশাল গঠনই পঁচাত্তরে শেখ মুজিবের নিহত হওয়ার অন্যতম কারণ। শেখ মুজিব নিহত হলে আওয়ামী নেতৃত্ব কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। কিন্তু পঁচাত্তরের বিয়োগান্ত ঘটনায় আওয়ামী লীগ ছিল ভিকটিম। মুজিবকন্যা শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের বদান্যতায় দেশে ফিরে বহুধাবিভক্ত আওয়ামী লীগকে একত্রিত করে এক ছাতার নিচে এনে দলকে পুনরুজ্জীবিত করেন। স্মরণযোগ্য যে, আবদুল মালেক উকিলের নেতৃত্বে দেশের দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েও ১৯৭৯ সালে ৩৯টি আসনে জয়লাভ করে দলটি।

কিন্তু চব্বিশে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। শেখ হাসিনা তৃতীয়বার ২০০৮ সালে নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়ে দেশে কায়েম করেন ফ্যাসিবাদী শাসন। ফলে ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যেতে হয়। লক্ষণীয়, দ্বিতীয়বার আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে তীব্র জনরোষে। চব্বিশে ক্ষমতাসীন দল হিসেবে আওয়ামী লীগ নিজেই জুলুমকারী। ফলে সময়ের সাথে সাথে দলটির প্রতি জনভাবনা পরিবর্তন হবে, তার সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ। উপরন্তু পালিয়ে যাওয়া একজন নেত্রীর প্রতি সম্মান কিংবা শ্রদ্ধা কোনোটিই আর অবশিষ্ট থাকে না। যদি শেখ হাসিনা গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আরেক স্বৈরশাসক এরশাদের মতো জেল-জুলুম সহ্য করে দেশে অবস্থান করতেন; তাহলে তার প্রতি কিছু মানুষের সহানুভূতি হয়তো থাকত। পালিয়ে গিয়ে সেই সম্ভাবনাটুকুও তিনি নিঃশেষ করেছেন। তার ওপর এবারের নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় ভোটে অংশ নেয়ারও পথ খোলা ছিল না।

এই যখন অবস্থা, তখন প্রশ্ন হলো— আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিণতি কী? এই প্রশ্নের সম্ভাব্য দু’টি ফলাফল আসতে পারে। প্রথমত, আওয়ামী সমর্থক গোষ্ঠীর একটি অংশ নিজেদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থান টিকিয়ে রাখতে সুবিধামতো একটি রাজনৈতিক দলে মিশে যাবে। না হলে বিকল্প হিসেবে নতুন নামে একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পারে। নিদেনপক্ষে রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে।

দ্বিতীয়ত, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে আওয়ামী রাজনীতি সম্পূর্ণভাবে শেখ পরিবারকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। যার উদাহরণ আমরা পাই পঁচাত্তর-পরবর্তী বহুধাবিভক্ত আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ঐক্য পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ভারতে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে নেতৃত্বের আসনে বসানোয়। বর্তমান বাস্তবতায় শেখ হাসিনা কিংবা তার ছেলেমেয়ে কেউ বাংলাদেশে ফিরে দলীয় রাজনীতির হাল ধরবেন, এমন অবস্থা বা সম্ভাবনা হাজির নেই। এবার পরিবারকেন্দ্রিক নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ দেশের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিকতা হারাবে বলে মনে হয়। এর মানে, বাংলাদেশের সমাজবাস্তবতায় দলটির রাজনৈতিকভাবে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ার সম্ভাবনাই প্রবল।

দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের প্রাসঙ্গিকতা-অপ্রাসঙ্গিকতা নিয়ে যে আলোচনা সাম্প্রতিক সময়ে ঝড় তুলেছে— তা বাস্তবতার নিরিখে গুরুত্ব বহন করে না। সংসদে অধ্যাদেশ পাস হয়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম এখন আইনত নিষিদ্ধ। এটি যদি দীর্ঘদিন বলবৎ থাকে, তাহলে বাম আদর্শের ধ্বজাধারী নিষিদ্ধ ঘোষিত দেশের সর্বহারা রাজনীতির যে পরিণতি হয়েছে, আওয়ামী লীগও রাজনীতিতে সেই ভাগ্য বরণ করলে তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে কী?

অন্যদিকে দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থেকে চব্বিশের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গঠিত বিএনপি সরকারও রাজনৈতিক স্বার্থে চাইবে না দ্রুত আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন; বরং আওয়ামী লীগের কার্যক্রম দীর্ঘ দিন নিষিদ্ধ থাকলে বিএনপির রাজনৈতিক ফায়দা বেশি। দেশে একটি রাজনৈতিক প্রবণতা প্রবলভাবে বিদ্যমান, পিঠ বাঁচাতে সুবিধাবাদী নেতাকর্মীরা ক্ষমতাসীন দলে আশ্রয় নেন। ফলে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে বিএনপি কেন এই রাজনৈতিক মওকা ছাড়বে। বাংলায় একটি কথা প্রচলিত আছে, নিজের স্বার্থ পাগলেও বোঝে।

তাই শেখ হাসিনাবিহীন আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা প্রায় অসাধ্য। এ দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, যারা আওয়ামী লীগের প্রকাশ্যে রাজনীতিতে ফেরা নিয়ে আশাবাদী তাদের এমন চিন্তা বাস্তবতাবিবর্জিত। বাংলাদেশে পতিত আওয়ামী লীগ ও শেখ পরিবারের পুনরুজ্জীবন বা পুনর্বাসন অদূর ভবিষ্যৎ নয়; বরং আর কখনোই হয়তো সম্ভব হবে না; বরং এদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের আলোচনা-পর্যালোচনা বা গবেষণার বিষয় হয়ে থাকবে আওয়ামী লীগ। দেশের গণমানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রাসঙ্গিকতায় স্থান পাওয়ার কোনো কারণ আওয়ামী রাজনীতিতে অবশিষ্ট থাকার কোনো কারণ আছে কী?

আমাদের দুঃখ হয় এই ভেবে যে, একজন শেখ হাসিনার খামখেয়ালির জন্য দেশের ঐহিত্যবাহী একটি রাজনৈতিক দলের এমন পরিণতি হলো। অবশ্য, রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের মাদার অর্গানাইজেশন মুসলিম লীগের মতো একই দশা হয়েছে।

লেখক : সহকারী সম্পাদক, নয়া দিগন্ত

[email protected]