জরুরি বিধানাবলি

প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ বা অনুমোদন ছাড়া রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারবেন না। এ ঘোষণা জারির পর ১২০ দিনের মধ্যে এটি সংসদে পাস হতে হবে অথবা সংসদ অধিবেশন না থাকলে সংসদ পুনর্গঠন পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে তা অনুমোদিত হতে হবে, অন্যথায় বাতিল হবে। জরুরি অবস্থা জারিকালীন মৌলিক অধিকার স্থগিত থাকবে এবং আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার অধিকারও স্থগিত থাকবে

বাংলাদেশের সংবিধানের নবম-ক ভাগ জরুরি বিধানাবলি-বিষয়ক। নবম-ক ভাগটি ১৪১-ক, ১৪১-খ ও ১৪১-গ, এই তিন অনুচ্ছেদ সমন্বয়ে গঠিত। সংবিধান প্রণয়নকালে নবম-ক ভাগ সন্নিবেশিত ছিল না। সংবিধান (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ১৯৭৩-এর মাধ্যমে এটি সংবিধানে সংযোজিত হয়। সংযোজন পরবর্তী নবম-ক ভাগ সংবিধান (চতুর্থ সংশোধন) আইন, ১৯৭৫, সংবিধান (দ্বাদশ সংশোধন) আইন, ১৯৯১ এবং সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১-এর মাধ্যমে সংশোধিত, বিয়োজিত ও সন্নিবেশিত হয়।

জরুরি অবস্থা ঘোষণার এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির ওপর অর্পিত হলেও তার ক্ষমতার সীমাবদ্ধতায় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ও প্রতিস্বাক্ষর ছাড়া তিনি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন না। প্রণিধানযোগ্য, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮(৩) এ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, এই সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্ট্রপতি তার অন্য সব দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করবেন।

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪১-ক জরুরি অবস্থা ঘোষণা-বিষয়ক। অনুচ্ছেদটি দু’টি দফা সমন্বয়ে গঠিত। দফা (১) এ বলা হয়েছে— রাষ্ট্রপতির নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয়, এমন জরুরি অবস্থা বিদ্যমান রয়েছে, যাতে যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের দ্বারা বাংলাদেশ বা এর যেকোনো অংশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবন বিপদের সম্মুখীন, তা হলে তিনি অনধিক ১২০ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারবেন। ‘অনধিক ১২০ দিনের জন্য’ শব্দগুলো সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন-২০১১ এর মাধ্যমে সন্নিবেশিত হয়। দফাটির সাথে শর্তাংশ জুড়ে দিয়ে বলা হয়— তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ ঘোষণার বৈধতার জন্য ঘোষণার আগেই প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষরের প্রয়োজন হবে। শর্তাংশটি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থার প্রবর্তন করা হলে বিলুপ্ত করা হয়। পরবর্তীতে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে পুনঃসংসদীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থার প্রবর্তন হলে শর্তাংশটি পুনঃসংযোজিত হয়। দফা (২) এ বলা আছে— জরুরি অবস্থা ঘোষণা (ক) পরবর্তী ঘোষণার দ্বারা প্রত্যাহার করা যাবে; (খ) সংসদে উপস্থাপিত হবে; (গ) ১২০ দিন সময়ের অবসানে কার্যকর থাকবে না। উল্লিখিত উপদফা (গ) হতে ‘অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে সংসদের প্রস্তাব দ্বারা অনুমোদিত না হলে উক্ত শব্দগুলো সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী দ্বারা বিয়োজন করা হয়। উপদফা (২) এর সাথে শর্তাংশ জুড়ে দিয়ে বলা হয়— তবে শর্ত থাকে যে, যদি সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় অনুরূপ কোনো ঘোষণা জারি করা হয় কিংবা এ দফার (গ) উপদফায় বর্ণিত ১২০ দিনের মধ্যে সংসদ ভেঙে যায়, তা হলে তা পুনর্গঠিত হওয়ার পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হতে ৩০ দিন অতিবাহিত হওয়ার আগে ঘোষণাটি অনুমোদন করে সংসদে প্রস্তাব গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত ওই ৩০ দিনের অবসানে অথবা ১২০ দিন সময়ের অবসানে, যা আগে ঘটে, অনুরূপ ঘোষণা কার্যকর থাকবে না। শর্তাংশটিতে ‘অথবা ১২০ দিন সময়ের অবসানে, যা আগে ঘটে’ শব্দগুলো সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী দ্বারা সন্নিবেশিত হয়। দফা (৩) এ বলা আছে— যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের বিপদ আসন্ন বলে রাষ্ট্রপতির কাছে সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হলে প্রকৃত যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগ সংঘটিত হওয়ার আগে তিনি অনুরূপ যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের জন্য বাংলাদেশ বা এর যেকোনো অংশের নিরাপত্তা বিপন্ন বলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারবেন।

অনুচ্ছেদ ১৪১-খ জরুরি অবস্থার সময় সংবিধানের কতিপয় অনুচ্ছেদের বিধান স্থগিতকরণ-বিষয়ক। অনুচ্ছেদটিতে বলা আছে— এ সংবিধানের তৃতীয় ভাগের অন্তর্গত বিধানাবলির কারণে রাষ্ট্র যে আইন প্রণয়ন করতে ও নির্বাহী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সক্ষম নন, জরুরি অবস্থা ঘোষণা কার্যকরতাকালে এ সংবিধানের ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০ ও ৪২ অনুচ্ছেদগুলোর কোনো কিছুই সেরূপ আইন প্রণয়ন ও নির্বাহী ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পর্কিত রাষ্ট্রের ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করবে না; তবে অনুরূভাবে প্রণীত কোনো আইনের কর্তৃত্বে যা করা হয়েছে বা করা হয়নি, তা ব্যতীত অনুরূপ আইন যে পরিমাণে কর্তৃত্বহীন, জরুরি অবস্থা ঘোষণা বা কার্যকর হওয়ার অব্যবহিত পরে তা সে পরিমাণে অকার্যকর হবে।

এখন দেখার বিষয় অনুচ্ছেদ ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০ ও ৪২ কী বলে। অনুচ্ছেদ ৩৬ চলাফেরার স্বাধীনতা-বিষয়ক। অনুচ্ছেদটিতে বলা আছে— জনস্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে বাংলাদেশের সর্বত্র অবাধ চলাফেরা, এর যেকোনো স্থানে বসবাস ও বসতি স্থাপন এবং বাংলাদেশ ত্যাগ ও বাংলাদেশে পুনঃপ্রবেশ করবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে।

অনুচ্ছেদ ৩৭ সমাবেশের স্বাধীনতা-বিষয়ক। এতে বলা হয়েছে— জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হওয়ার এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় যোগদানের অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে।

অনুচ্ছেদ ৩৮ সংগঠনের স্বাধীনতা-বিষয়ক। এতে বলা হয়েছে— জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে সমিতি বা সংঘ গঠন করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে। দফাটির সাথে শর্তাংশসহ চারটি উপদফা সংযুক্ত করে বলা আছে— তবে শর্ত থাকে যে, কোনো ব্যক্তির উক্তরূপ সমিতি বা সংঘ গঠন করার কিংবা এর সদস্য হওয়ার অধিকার থাকবে না, যদি (ক) তা নাগরিকদের মধ্যে ধর্মীয়, সামাজিক এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করবার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়; (খ) তা ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ, জন্মস্থান বা ভাষার ক্ষেত্রে নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করবার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়; (গ) তা রাষ্ট্র বা নাগরিকদের বিরুদ্ধে কিংবা অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী বা জঙ্গি কার্য পরিচালনার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়; বা (ঘ) তার গঠন ও উদ্দেশ্য এ সংবিধানের পরিপন্থী হয়। উল্লিখিত দফা হতে শর্তাংশসহ চারটি উপদফা সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী দ্বারা বিলুপ্ত করা হয়। পরবর্তীতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল ঘোষিত হলে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে পুনঃশর্তাংশসহ চারটি উপদফা প্রতিস্থাপিত হয়।

অনুচ্ছেদ ৩৯ চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক-স্বাধীনতা-বিষয়ক। অনুচ্ছেদটির দফা (১) এ বলা হয়েছে— চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তাদান করা হলো। দফা (২) এর সাথে দু’টি উপদফা সংযুক্ত করে বলা হয়েছে— রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা বা নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুঙ্গিসঙ্গত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে; (ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের এবং (খ) সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তাদান করা হলো।

অনুচ্ছেদ ৪০ পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা-বিষয়ক। এতে বলা আছে— আইনের দ্বারা আরোপিত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে কোনো পেশা বা বৃত্তি গ্রহণের কিংবা কারবার বা ব্যবসায় পরিচালনার জন্য আইনের দ্বারা কোনো যোগ্যতা নির্ধারিত হয়ে থাকলে অনুরূপ যোগ্যতাসম্পন্ন প্রত্যেক নাগরিকের যেকোনো আইনসঙ্গত পেশা বা বৃত্তি গ্রহণের এবং যেকোনো আইনসঙ্গত কারবার বা ব্যবসায়ে পরিচালনার অধিকার থাকবে।

অনুচ্ছেদ ৪২ সম্পত্তির অধিকার-বিষয়ক। এর দফা (১) এ বলা আছে— আইনের দ্বারা আরোপিত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের সম্পত্তি অর্জন, ধারণ, হস্তান্তর ও অন্যভাবে বিলি ব্যবস্থা করবার অধিকার থাকবে এবং আইনের কর্তৃত্ব ব্যতীত কোনো সম্পত্তি বাধ্যতামূলকভাবে গ্রহণ, রাষ্ট্রায়ত্ত বা দখল করা যাবে না। দফা (২) এ বলা হয়েছে— এ অনুচ্ছেদের (১) দফার অধীন প্রণীত আইনে ক্ষতিপূরণসহ বাধ্যতামূলকভাবে গ্রহণ, রাষ্ট্রায়ত্তকরণ বা দখলের বিধান করা হবে এবং ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ কিংবা ক্ষতিপূরণ নির্ণয় ও প্রদানের নীতি ও পদ্ধতি নির্দিষ্ট করা হবে; তবে অনুরূপ কোনো আইনে ক্ষতিপূরণের বিধান অপর্যাপ্ত হয়েছে বলে সে আইন সম্পর্কে কোনো আদালতে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না। সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী দ্বারা দফা (২) ও (৩) প্রতিস্থাপিত হয়। পরবর্তীতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল ঘোষিত হলে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে উপদফা (২) ও (৩) এর পরিবর্তে উপদফা (২) প্রতিস্থাপিত হয়।

অনুচ্ছেদ ১৪১গ জরুরি অবস্থার সময় মৌলিক অধিকারগুলো স্থগিতকরণ-বিষয়ক। অনুচ্ছেদটির দফা (১) এ বলা হয়েছে— জরুরি অবস্থা ঘোষণার কার্যকরতাকালে প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি আদেশ দ্বারা ঘোষণা করতে পারবেন যে, আদেশে উল্লিখিত এবং সংবিধানের তৃতীয় ভাগের অন্তর্গত মৌলিক অধিকারগুলো বলবৎকরণের জন্য আদালতে মামলা রুজু করার এবং আদেশে অনুরূপভাবে উল্লিখিত কোনো অধিকার বলবৎকরণের জন্য কোনো আদালতে বিবেচনাধীন সব মামলা জরুরি অবস্থা ঘোষণার কার্যকরতাকালে কিংবা ওই আদেশের দ্বারা নির্ধারিত স্বল্পতর কালের জন্য স্থগিত থাকবে।

সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ‘কার্যকরতাকালে রাষ্ট্রপতি’ শব্দগুলোর পরিবর্তে ‘কার্যকরতাকালে প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি’ শব্দগুলো প্রতিস্থাপিত হয়। উপদফা (২) এ বলা হয়েছে— পুরো বাংলাদেশ বা এর যেকোনো অংশে এ অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত আদেশ প্রযোজ্য হতে পারবে। অনুচ্ছেদটির দফা (৩) এ বলা হয়েছে— এ অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত প্রত্যেক আদেশ যথাসম্ভব শিগগির সংসদে উপস্থাপিত হবে।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট প্রতিভাত— প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ বা অনুমোদন ছাড়া রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারবেন না। এ ঘোষণা জারির পর ১২০ দিনের মধ্যে এটি সংসদে পাস হতে হবে অথবা সংসদ অধিবেশন না থাকলে সংসদ পুনর্গঠন পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে তা অনুমোদিত হতে হবে, অন্যথায় বাতিল হবে। জরুরি অবস্থা জারিকালীন মৌলিক অধিকার স্থগিত থাকবে এবং আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার অধিকারও স্থগিত থাকবে।

লেখক : সাবেক জজ এবং সংবিধান, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিশ্লেষক

[email protected]