আবার ভারতের অবৈধ পুশইন শুরু

এই অন্যায় বন্ধে স্পষ্ট করে বলুন

বাংলাদেশ এ গুরুতর নেতিবাচক আচরণের শিকার হলেও এখন পর্যন্ত এর মোকাবেলায় কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি। বর্তমান সরকারও এ নিয়ে অনেকটা চুপচাপ থাকার নীতি নিয়ে চলছে। অথচ ভারতকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিতে পারে বাংলাদেশ। স্পষ্ট করে বলতে পারে অবন্ধুসুলভ এই আচরণ বন্ধ করতে।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নেতৃত্বে নতুন সরকার যাত্রা শুরুর পর পুশইনের তোড়জোড় আবার জোরেশোরে শুরু করেছে। ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল দিয়ে চালানো বিএসএফের ১০টি অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বিজিবি। পুশইন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র হিসেবে প্রয়োগ করছে ভারত। রাজনৈতিক ফায়দা লোটতে সময় বুঝে এই অস্ত্র প্রয়োগ করলেও এবার সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যসরকার স্থায়ী নীতি হিসেবে গ্রহণ করতে যাচ্ছে বলে মনে হয়। পুশইন করতে গিয়ে ভারত দেশীয়, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার কিছুর তোয়াক্কা করছে না। এ দিকে এর ভুক্তভোগী বাংলাদেশও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আনুষ্ঠানিক মোকাবেলার নীতি গ্রহণ করেনি। ফলে ভারত একতরফা বেআইনি কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে পারছে।

শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর চরম অস্থিতিশীল অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকার দেশ চালাতে যখন হিশশিম খাচ্ছিল, তখন ভারত পুশইন শুরু করে। ২০২৫ সালের শুরুতে কয়েক হাজার মানুষকে পুশইন করেছে। বাংলাদেশের একটি শান্তিপূর্ণ স্থিতিশীল উত্তরণে বাধাগ্রস্ত করতে সীমান্তে এ অস্থিরতা তৈরি করা হয়। দীর্ঘ দিন ধরে ভারতের এমন অবন্ধুসুলভ আচরণ লক্ষ করা গেছে। যখনই কোনো সরকার পছন্দ হয়নি, দিল্লি এ অপকর্ম করেছে।

শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে থাকা ‘বাংলাদেশীদের’ ফেরত পাঠানোর ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছে। নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের পর তার প্রথম কাজ পুশইন দিয়ে শুরু করেছে। ঝিনাইদহ, যশোর, জয়পুরহাটসহ ১০টি সীমান্ত দিয়ে ১০-৪০ জনের গ্রুপ করে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার অপচেষ্টা চালিয়েছে। এ অপকর্ম ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকবে।

এ জন্য ইতোমধ্যে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলায় ‘ডিটেনশন ক্যাম্প’ স্থাপন করা হয়েছে। ঠেলে পাঠানোর আগে সেখানে তাদের গাদাগাদি করে রাখা হবে। দিল্লি, রাজস্থান, জম্মু, গুজরাট, তেলেঙ্গানা এবং কর্নাটকসহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের সন্দেহ হলে ধরে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ হঠকারী কাজ আগে থেকে করে আসছে। এখন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি সরকার এর সাথে নতুন ধারা যুক্ত করল। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত কোনো আইন মেনে চলছে না।

এক দেশ থেকে কাউকে অন্য দেশে পাঠাতে হলে প্রত্যাবর্তন আইন রয়েছে। উপরন্তু ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি আছে। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যেও বহু সমঝোতা ও বোঝাপড়া রয়েছে। দুই বাহিনী প্রতি বছর শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়। পুশইনের ক্ষেত্রে ভারত এগুলোর কিছু ভ্রƒক্ষেপ করে না। মানবাধিকারের প্রতিও কোনো সম্মান দেখায় না। যেভাবে ধরে বেঁধে পুশইনের জন্য সীমান্তে আনা হয়; সেটি অপহরণের কৌশলে করে করা হয়। রাতের আঁধারে অনেক সময় বন্দুকের নলের মুখে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে বাধ্য করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে সন্তানসম্ভবা, বৃদ্ধ ও নারীদের অমানবিক এ পুশইনের শিকার হতে হয়েছে।

বাংলাদেশ এ গুরুতর নেতিবাচক আচরণের শিকার হলেও এখন পর্যন্ত এর মোকাবেলায় কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি। বর্তমান সরকারও এ নিয়ে অনেকটা চুপচাপ থাকার নীতি নিয়ে চলছে। অথচ ভারতকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিতে পারে বাংলাদেশ। স্পষ্ট করে বলতে পারে অবন্ধুসুলভ এই আচরণ বন্ধ করতে।