চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা-বনগ্রাম সড়কের পাশে নির্মিত নালা এলাকার বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু গত দুই দশক ধরে নালা দখল করে নানা ধরনের স্থাপনা নির্মাণে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যা ২০ হাজার মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নয়া দিগন্তে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, নালার ওপর অবৈধ বা অনিয়ন্ত্রিত স্থাপনা নির্মাণে পানি চলাচলের পথ সঙ্কুুচিত হওয়ায় কোথাও সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বৃষ্টির পানি দ্রুত অপসারণ না হয়ে সড়কে জমে থাকছে। সৃষ্টি করছে দীর্ঘস্থায়ী জনভোগান্তি। শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত এ সমস্যার শিকার। স্মরণযোগ্য যে, একটি সড়কের পাশে নির্মিত ড্রেন বা নালা কেবল অবকাঠামোর অংশ নয়; এটি জনজীবন, পরিবেশ এবং সড়কের স্থায়িত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। সেই নালা দখল করে যখন ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়; তা শুধু আইন লঙ্ঘন নয়; জনস্বার্থের সরাসরি পরিপন্থী।
চন্দ্রঘোনা-বনগ্রাম সড়কের নালা দখল করে স্থাপনা নির্মাণে জলাবদ্ধতা, সড়ক ক্ষয় এবং জনদুর্ভোগ বেড়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। দুঃখজনক বিষয় হলো- এসব দখলের ঘটনা প্রায়ই প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় হয়। ফলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রতিকার পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অথচ প্রশাসনের দায়িত্ব হলো ঘটনার দ্রুত তদন্ত করা। অবৈধ স্থাপনা অপসারণে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া।
পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, সড়ক কর্তৃপক্ষ এবং মাঠপ্রশাসনের সমন্বিত দায়িত্ব। একই সাথে নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে, যাতে কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থে জনসম্পদ দখল করে সমাজের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে না দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন, নগর ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অক্ষুণ্ন রাখা জরুরি। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে বিষয়টি উপেক্ষিত হচ্ছে। চন্দ্রঘোনা-বনগ্রাম সড়কের নালার বর্তমান অবস্থা তার একটি উদাহরণ। যথাযথ তদারকি ও পরিকল্পনার অভাবে ব্যক্তি স্বার্থ জনস্বার্থের ওপর প্রাধান্য পাচ্ছে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে। প্রথমে নালায় নির্মিত অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। পুরো ড্রেনেজ ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করে নিয়মিত পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে নালার জায়গা দখল বা অবৈধ নির্মাণ না হয়, সে জন্য কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগ করা প্রয়োজন। পানি নিষ্কাশনের পথ দখল বা বাধাগ্রস্ত করে এমন কর্মকাণ্ড থেকে স্থানীয়দের বিরত থাকতে হবে। পরিবেশ ও জনস্বার্থ রক্ষায় সচেতন ভূমিকা পালন সবার কর্তব্য।
রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা-বনগ্রাম সড়কের জলাবদ্ধতা সমস্যা অনিবার্য বাস্তবতা নয়; এটি অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার ফল। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নিলে সঙ্কট থেকে সহজে মুক্তি মিলত। বিলম্বে হলেও এখন পদক্ষেপ নিতে হবে। স্থানীয়দের মধ্যে যে ক্ষোভের জন্ম হয়েছে; তা প্রশমনে বর্ষার আগেই উদ্যোগ নিতে হবে প্রশাসনকে।
আমরা মনে করি উন্নয়নের নামে জনস্বার্থ বিসর্জন দেয়া যাবে না। টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত জনসম্পদের সুরক্ষা করা।



