গাজায় প্রতি রাতে গণহারে ফিলিস্তিনিদের হত্যার উসকানি দেয়ায় ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেনগভিরের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন জার্মানির মূলধারার রাজনীতির এক শীর্ষ নেতা।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনদোলু সোমবার (১৭ আগস্ট) জানায়, জার্মানির ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ জোটের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক মুখপাত্র ইয়ুরগেন হার্ট এই দাবি জানান। ডেনিশ ও জার্মান সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বেনগভিরের চরমপন্থী মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান এবং একে মানবতাবিরোধী বলে আখ্যা দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন ও ক্রিশ্চিয়ান সোশ্যাল ইউনিয়ন (সিডিইউ/সিএসইউ) সংসদীয় দলের এই মুখপাত্র জানান, বেনগভিরের অমানবিক ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সোচ্চার হওয়া উচিত। তিনি স্পষ্ট করেন, সর্বজনীন মানবমর্যাদা ও মানবাধিকারের সুরক্ষার স্বার্থে ইইউর উচিত বেনগভিরের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয়া।
জার্মান এই আইন প্রণেতা আরো মনে করেন, ইসরাইলের বর্তমান সরকারে বেনগভিরের মতো উগ্র ব্যক্তিত্বদের না থাকাটাই তেল আবিব ও ইউরোপের মধ্যকার সম্পর্ককে আরো ঘনিষ্ঠ করতে সাহায্য করবে।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে বেনগভির বলেন, গাজায় কেবল তাৎক্ষণিক হুমকি সৃষ্টি করে এমন ব্যক্তিদের ওপর হামলাই যথেষ্ট নয়, বরং ইসরাইলের উচিত সেখানে প্রতিদিন রাতে অন্তত '৩০ বা ৪০' জনকে চিহ্নিত করে হত্যা করা। তার এই দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
জার্মানির বর্তমান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মেরৎস এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুল উভয়েই সিডিইউ দলের সদস্য। নিজ দলের জ্যেষ্ঠ নেতা হার্টের এই কঠোর অবস্থানের ফলে বেনগভির ও ইসরাইলের চরমপন্থী নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চ্যান্সেলর মেরৎসের সরকারের ওপর চাপ আরো বৃদ্ধি পেল।
ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে এর আগেও বেশ কয়েকটি দেশ বেনগভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। একই ধরনের পদক্ষেপে ইইউর সম্মতি থাকলেও সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের অভাবে এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।



