যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন হলে ইউক্রেন ‘ভাগ হয়ে যাবে’ : জেলেনস্কি

রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ চলার সময়ে ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন হলে ইউক্রেন ‘ভাগ হয়ে যাবে’।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি |ফাইল ছবি

রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ চলার সময়ে ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন হলে ইউক্রেন ‘ভাগ হয়ে যাবে’।

সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানানোর পর রোববার (২৩ আগস্ট) প্রকাশিত এক বক্তব্যে জেলেনস্কি এ কথা বলেন।

রাজনৈতিক চাপের মুখে জেলেনস্কি নরওয়ের সাথে নতুন একটি ড্রোন চুক্তিরও ঘোষণা দিয়েছেন। রাশিয়াকে হামলা বন্ধে চাপ দেয়ার উপায় নিয়ে সোমবারের বৈঠকের আগে ইউরোপীয় নেতারা আলোচনার জন্য কিয়েভে পৌঁছেছেন।

ইউক্রেন সামরিক আইন জারি থাকায় নির্বাচন স্থগিত রেখেছে। রুশ হামলা মোকাবেলায় দেশটি মনোযোগ দেয়ায় জনগণের বড় অংশ এখনো এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে।

২০২২ সালে রুশ হামলা শুরুর পর থেকেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান পেয়ে আসছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তাকে নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন। এর মধ্যেই মস্কো প্রতিদিন ইউক্রেনজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

জেলেনস্কি বলেন, ‘এ ধরনের যুদ্ধে নির্বাচন আয়োজন করাটা অত্যন্ত বড় ঝুঁকি বলে আমি মনে করি। এখন নির্বাচন ইউক্রেনের জন্য সুনামির মতো হবে, যা দেশটিকে বিভক্ত করে দেবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যদি দেশটিকে ধ্বংস করতে চাই, তাহলে এই যুদ্ধের সময়ে নির্বাচন আয়োজনের পথে এগোতে পারি।’

শনিবার সাংবাদিকদের সাথে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচন আয়োজনের বাধা
জেলেনস্কি জনপ্রিয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে বরখাস্ত করার পর চলতি গ্রীষ্মে কিয়েভে রাজনৈতিক সঙ্কট দেখা দেয়।

হাজার হাজার মানুষ তার পুনর্বহালের দাবিতে রাস্তায় নামে। এ সময় ফেদোরভ সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের তীব্র সমালোচনা করেন।

এই বিরোধের জেরে জেলেনস্কিকে সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ককে বরখাস্ত করতে হয়। এরপর কয়েক দিন আগে বরখাস্ত হওয়া ফেদোরভ নির্বাচন আয়োজনের উপায় খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়ে বিস্ময় সৃষ্টি করেন।

তিনি সরাসরি জেলেনস্কির বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা বলেননি। তবে তার এই আকস্মিক উদ্যোগে এমনকি তার কিছু সমর্থকও দূরত্ব তৈরি করেন।

বিশেষজ্ঞরা নির্বাচন আয়োজনের পথে নানা বাধার কথা বলেছেন। এর মধ্যে রয়েছে সেনাসদস্য, লাখ লাখ ইউক্রেনীয় শরণার্থী এবং রুশ দখলকৃত এলাকার বাসিন্দারা কিভাবে ভোট দেবেন, তা নির্ধারণ করা। এর পাশাপাশি রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ও শারীরিক হামলার আশঙ্কাও রয়েছে।

একটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ১৫ শতাংশ ইউক্রেনীয় মনে করেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে নির্বাচন হওয়া উচিত।

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় দেশের ভেতরে জেলেনস্কির সমালোচনা বাড়লেও তিনি এখনো ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়।

ফেদোরভের দল রোববার বার্তাসংস্থা এএফপিকে নিশ্চিত করেছে, তিনি শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাবেন।

এই সফরের ফলে তিনি জেলেনস্কির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন কি-না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।

সাবেক এই প্রতিরক্ষামন্ত্রী ড্রোনযুদ্ধের কৌশলের অন্যতম প্রধান সমর্থক ছিলেন। রাশিয়ার সাথে ইউক্রেনের যুদ্ধে এই কৌশল এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি সেনাবাহিনীতে সংস্কারের পক্ষেও ছিলেন। এতে তিনি জনসমর্থন পেয়েছিলেন।

সূত্র : বাসস