অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরের কাছে একটি ফিলিস্তিনি পরিবারের বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। স্থানীয় বাসিন্দা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বসতবাড়ি ধ্বংসের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার (৮ জুন) ইসরাইলি সেনাবাহিনী ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে হেবরনের দক্ষিণে খিরবেত কালকাস এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফিলিস্তিনি পরিবারের বসতবাড়িটি ভেঙে ফেলে। অভিযানের সময় এলাকায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয় এবং নিরাপত্তার অজুহাতে আশপাশের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
বাড়ির মালিকের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, কোনো কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা বা পুনর্বাসনের সুযোগ না দিয়েই তাদের বসতভিটা ধ্বংস করা হয়েছে। ফলে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের দাবি, সংশ্লিষ্ট স্থাপনাটি প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে, পশ্চিম তীরে তাদের জন্য নির্মাণ অনুমোদন পাওয়া অত্যন্ত কঠিন, ফলে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে অনুমোদন ছাড়াই ঘরবাড়ি নির্মাণ করে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, বাড়িঘর ধ্বংসের ফলে শুধু পরিবারগুলো গৃহহীনই হচ্ছে না, বরং তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে এ ধরনের পদক্ষেপ অঞ্চলটিতে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ, ভূমি দখল এবং বাড়িঘর উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে ইসরাইলিবাহিনী ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এ ধরনের অভিযানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। অন্যদিকে ইসরাইলিকর্তৃপক্ষ তাদের পদক্ষেপকে আইনগত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অংশ বলে দাবি করেছে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এ ঘটনাকে নতুন করে সংঘাত ও অস্থিরতা বৃদ্ধির একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র : আল জাজিরা



