তিন বছরেই ৩০ বছরের গোলাবারুদ ব্যবহার করে চরম সংকটে ইসরাইলি বাহিনী

দীর্ঘায়িত এই যুদ্ধের কারণে ইসরাইলের সেনাসদস্য, রিজার্ভ বাহিনী, সামরিক সরঞ্জাম ও আর্থিক কাঠামোর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
হামাসের হাতে নিহত এক ইসরাইলি সেনা
হামাসের হাতে নিহত এক ইসরাইলি সেনা |সংগৃহীত

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী গত তিন বছরের কম সময়ে যে পরিমাণ গোলাবারুদ ও যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করেছে, তা দেশটির আগের তিন দশকের মোট ব্যবহারের সমান।

ইসরাইলের দৈনিক পত্রিকা 'মাআরিভ'-এর রোববারের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এই তথ্য সোমবার (২৪ আগস্ট) দিয়েছে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনদোলু। দীর্ঘায়িত এই যুদ্ধের কারণে ইসরাইলের সেনাসদস্য, রিজার্ভ বাহিনী, সামরিক সরঞ্জাম ও আর্থিক কাঠামোর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সময়ে ইসরাইলি বিমানবাহিনীর তৎপরতা ছিল স্বাভাবিক সময়কালের প্রায় নয় বছরের সামরিক অভিযানের সমান। একই সঙ্গে ইসরাইলের ট্যাংক ও সাঁজোয়া যানের হাজার হাজার ইঞ্জিন ক্ষয়প্রাপ্ত ও অকেজো হয়েছে। সামরিক সরঞ্জাম পুনর্স্থাপন বা মেরামত করা সম্ভব হলেও মানবসম্পদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠা অনেক কঠিন বলে সতর্ক করেছে মাআরিভ।

অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থাকে বাদ দিয়ে কেবল সেনাবাহিনীতেই অন্তত ১,১৩৮ জন সদস্য নিহত হয়েছে। এছাড়া ১১,৭৩০ জন শারীরিক ও মানসিকভাবে আহত হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। মানসিক আঘাতে ভোগা আরও হাজার হাজার সদস্য ভবিষ্যতে এই তালিকায় যুক্ত হতে পারে।

ইসরাইলি নিয়মিত কর্মজীবনে থাকা সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যেও ক্লান্তি ও চাপের লক্ষণ স্পষ্ট। পদোন্নতি পেয়ে অধিনায়কের দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ থাকলেও অনেকে তুলনামূলক কম চাপের পেছনের সারির দায়িত্ব বেছে নিচ্ছেন বা চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন। একই সঙ্গে প্রতিদিন গড়ে ৫৩,০০০ রিজার্ভ সেনা সক্রিয় ডিউটিতে রাখা হচ্ছে। গত বছর মাত্র এক মাসের রিজার্ভ সেবার ব্যয় ছিল প্রায় ২১০০ কোটি শেকেল (প্রায় ৭০ কোটি ৩ লাখ মার্কিন ডলার), যা সাতটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বা ৭০টি মারকাভা ট্যাংকের মূল্যের সমান।

বর্তমানে ইসরাইলি বাহিনী গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় তিনটি 'নিরাপত্তা বলয়ে' মোতায়েন রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি সেনা মোতায়েন রয়েছে অধিকৃত পশ্চিম তীরে। গাজার তথাকথিত 'হলুদ রেখা' বরাবর পাঁচটি ব্যাটালিয়ন নিয়োজিত আছে, যা পুরো গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এছাড়া সীমান্তে অতিরিক্ত জনবল ও অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত দুটি বাড়তি ব্যাটালিয়ন এবং অন্যান্য আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা বাহিনী কাজ করছে। এত বড় পরিসরে সেনা মোতায়েন রাখা সেনাবাহিনীর ওপর বড় ধরনের আর্থিক ও মানবিক চাপ তৈরি করছে এবং এটি কতটা দীর্ঘস্থায়ী করা যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে মার্কিন সামরিক সহায়তার ভবিষ্যৎ নিয়েও মাআরিভ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গত এক দশকে পাওয়া ৩,৩০০ কোটি ডলারের বর্তমান চুক্তিটির মেয়াদ ২০২৮ সালে শেষ হবে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পরবর্তী চুক্তিতে এই অনুদানের পরিমাণ প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। পত্রিকাটি এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে জানায়, আগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিশ্বাস করতেন ট্রাম্প প্রশাসন একই মাত্রার আরেকটি ১০ বছরমেয়াদি চুক্তি অনুমোদন দিতে প্রস্তুত ছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সম্পদ রক্ষা ও জনবল ধরে রাখতে ইসরাইলকে অবশেষে বিভিন্ন এলাকায় সেনা মোতায়েনের পরিধি কমাতে হতে পারে।