দ্রুতই সুফল দেখা যাবে

যুক্তরাষ্ট্রকে পরোয়া না করেই ইরানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছে : আইআরজিসি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরুর বিষয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন... মুখপাত্র একে সামরিক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের এক পরোক্ষ স্বীকারোক্তি হিসেবে দেখছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
আইআরজিসির মুখপাত্র সরদার মহেব্বি
আইআরজিসির মুখপাত্র সরদার মহেব্বি |হামশাহরি

সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ আরো বাড়ানোর যে হুমকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছে, সে প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন দেশটির ইসলামি বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী বা আইআরজিসির মুখপাত্র সরদার মহেব্বি। তিনি বলেছেন, অর্থনৈতিক যুদ্ধসহ ওয়াশিংটনের যেকোনো শত্রুমূলক পদক্ষেপের বিপরীতে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের কার্যকর পাল্টা পরিকল্পনা রয়েছে। ইরান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পরোয়া না করেই করবে।

তেহরানে নগর পরিষদ থেকে প্রকাশিত অন্যতম জনপ্রিয় দৈনিক হামশাহরি অনলাইন সোমবার (২৪ আগস্ট) জানায়, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরুর বিষয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আইআরজিসি মুখপাত্র একে সামরিক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের এক পরোক্ষ স্বীকারোক্তি হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, 'মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলছেন যে তিনি অর্থনৈতিক যুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু করেছেন। এটি আসলে সামরিক অঙ্গনে শত্রুর অপমানজনক পরাজয়ের পরোক্ষ স্বীকারোক্তি।'

সরদার মহেব্বি আরো বলেন, 'যদি আপনারা সামরিকভাবে জয়ী হতেন, তবে আপনাদের অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু করার প্রয়োজনই হতো না। কিন্তু এই অর্থনৈতিক যুদ্ধ কি নতুন কিছু? পশ্চিমারা গত ৪৭ বছর ধরে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে এবং ইরানের অর্থনীতির প্রতিটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।'

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপগুলোর মূল উদ্দেশ্য জনমতকে প্রভাবিত করা—উল্লেখ করে আইআরজিসি মুখপাত্র জানান, শত্রুর বর্তমান কাজ কেবল সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি করা।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'আমরা বারবার ঘোষণা করেছি যে শত্রুর প্রতিটি শত্রুমূলক পদক্ষেপের মোকাবিলায় আমাদের সুনির্দিষ্ট কৌশল রয়েছে। শত্রুর এমনই একটি পদক্ষেপ হলো অর্থনৈতিক যুদ্ধ। শত্রুর এই যুদ্ধের বিরূপ প্রভাব বানচাল করে দিতে এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহজে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে ইরানের নিজস্ব পরিকল্পনা রয়েছে; তাই অর্থনৈতিক ক্ষেত্র নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।'

মহেব্বি আরো বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রকে আমরা পাস কাটিয়ে যাচ্ছি এবং অদূর ভবিষ্যতেই আপনারা এর ফলাফল দেখতে পাবেন।'