ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হাত বাঁধা

ইতিহাসে শুধু আকাশশক্তি বা বিমানবাহিনী ব্যবহার করে কোনো যুদ্ধ জয় করা যায়নি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র |সংগৃহীত

ইরানের বন্দরগুলো অবরোধের পরিধি আরো বাড়াতে গেলে মার্কিন সেনাদের বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে হবে। ফলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিকভাবে উত্তেজনা বাড়ানোর সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এখন খুবই সীমিত।

এমন মন্তব্য করেছেন হাডসন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো ব্রায়ান ক্লার্ক।

আল জাজিরা মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) জানায়, ক্লার্ক বলেছেন, ইতিহাসে শুধু আকাশশক্তি বা বিমানবাহিনী ব্যবহার করে কোনো যুদ্ধ জয় করা যায়নি।

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এখন যে সামরিক বিকল্পটি অবশিষ্ট আছে, তা হলো হরমুজ প্রণালী খুলে দিয়ে সেখানে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে নিরাপত্তা দেয়া। এ জন্য বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে মার্কিন নৌ ও বিমানবাহিনীকে সরাসরি দায়িত্ব নিতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন এমন পদক্ষেপ এড়িয়ে গেছে।

ক্লার্ক বলেন, 'হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে রক্ষায় তারা এখনো সত্যিকার অর্থে নিজেদের জাহাজ ব্যবহার করেনি।' এর ফলে ১৯৮০-এর দশকের ‘ট্যাংকার যুদ্ধ’-এর পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং জাহাজগুলো হামলার শিকার হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

তিনি বলেন, এর পরের ধাপ হতে পারে স্থলবাহিনী মোতায়েন। তবে তার আগে যুক্তরাষ্ট্র সীমিত পরিসরে জাহাজ পাহারা দেয়ার চেষ্টা করতে পারে। এর মাধ্যমে ইরানকে দেখানো হবে যে, হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেই।

ক্লার্কের ধারণা, শেষ পর্যন্ত ইরান ও ইয়েমেনিরাই কোনো ধরনের ফি বা শুল্কের ব্যবস্থা করে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে। তখন ওয়াশিংটনের প্রয়োজন হবে এমন একটি 'সম্মান রক্ষার ব্যবস্থা', যার মাধ্যমে তারা অন্তত দাবি করতে পারে যে, মার্কিন স্বার্থের বড় ক্ষতি না করেই সংকটটির সমাধান করা হয়েছে।