১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪২৯, ১২ জিলহজ ১৪৪৫
`

নির্বাচন নিয়ে দু’বার প্রতারণা করেছে আ’লীগ আর নয় : ফখরুল

গৌতম চক্রবর্তীর স্মরণসভায় বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : নয়া দিগন্ত -


নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ‘ডেড’ নয়, এখন ‘লাইভ’ ইস্যু বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ডেড ইস্যু- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের জবাবে গতকাল দুপুরে এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এই মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশকে এই সরকার চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। যে কারণে আমরা বারবার করে বলছি যে, এই সরকারের এখন ক্ষমতায় থাকার আর কোনো কারণ নেই। তারপরও তার নেতা, তার মন্ত্রীরা বলছেন যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাকি এখন ডেড ইস্যু। তিনি বলেন, ডেড ইস্যু হবে কেন? এটাই তো এখন সবচেয়ে লাইভ ইস্যু। কারণ আমরা মনে করি যে, এই সরকারের এই মুহূর্তে পদত্যাগ করা উচিত। এত চুরি করেছে, এত দুর্নীতি করেছে এবং একটা সমস্যারও সমাধান করতে পারেনি সেই সরকারের ক্ষমতায় থাকার কারণ নেই। সেই কারণে আমরা বলেছি যে, একটা তত্ত্বাবধায়ক সরকার অথবা একটা নিরপেক্ষ এবং নির্দলীয় সরকারকে দায়িত্ব দিতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ভোট দেয়ার ব্যবস্থা, নির্বাচনীব্যবস্থাকে তারা ধ্বংস করে দিয়েছে পরিকল্পিতভাবে। কারণ তারা জানে যে, তারা এত চুরি-চামারি করেছে যে, সাধারণভাবে যদি সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন হয় তাহলে কোনো দিনই তারা ক্ষমতায় ফিরে আসা দূরে থাকুক, পার্লামেন্টে ১০ ভাগেরও বেশি ভোট পাবে না। সেই সরকার আজকে ক্ষমতায় বসে আছে। আমরা খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই যে, বাংলাদেশের মানুষ দুইটা ইলেকশন দেখেছে ২০১৪ সালে ও ২০১৮ সালে। আবার ওই জায়গায় ফেরত যাওয়ার প্রশ্নই উঠতে পারে না। গত ’১৮ সালে শেখ হাসিনা আমাদের ডেকেছিলেন সংলাপের জন্য। আমরা গিয়েছিলাম এজন্য যে, আমরা মনে করেছিলাম আলোচনার মাধ্যমে যদি একটা অবস্থা তৈরি হয় সেই অবস্থায় যদি একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পারি তাহলে হয়তোবা জনগণের ইচ্ছা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারব। সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের উদ্যোগে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক গৌতম চক্রবর্তীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়।

ওদের বিশ্বাস করা যায় না : মির্জা ফখরুল বলেন, আইনমন্ত্রী পার্লামেন্টে বলেছেন যে, যখন নির্বাচন চলবে, নির্বাচন কমিশনের সেই ক্ষমতা থাকবে যে, তখন আর কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না বা কাউকে আটক করা যাবে না। এই কথা কে বিশ্বাস করবে? সেই রাখাল বালকের গল্পের মতো। আপনারা সেই রাখাল বালককে গ্রামবাসীকে বোকা বানানোর জন্য যখন প্রায় চিৎকার করত যে, বাঘ আসছে বাঘ আসছে বলে গ্রামবাসী তখন লাঠিসোটা নিয়ে দৌড়ে বেরিয়ে আসত। এসে দেখে যে, কিছু নেই। সেই রাখাল বালক দূরে দাঁড়িয়ে হাসছে।
থার্ড টাইম যখন সত্যি সত্যি বাঘ এসেছে, চিৎকার শুরু করেছে তখন দেখে গ্রামবাসী কেউ আসেনি। তো আমরা তো দুইবার প্রতারণার শিকার হয়েছি। থার্ড টাইম এ দেশের মানুষ আর প্রতারণার শিকার হবে না। আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, তোমাদের এই সমস্ত কথায় কেউ ভুলবে না। কারণ কখনই তোমরা প্রমিজ রক্ষা করোনি। তিনি বলেন, আমরা কোনো কথা শুনতে চাই না। আগে পদত্যাগ করুন, তারপরে সংসদ বিলুপ্ত করে নির্বাচনকালীন একটা নির্দলীয় সরকার গঠন করার জন্য সেই ব্যবস্থা নিন। নতুন নির্বাচন কমিশন নতুন পার্লামেন্ট নির্বাচন করবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, তারা তো বেশি উন্নয়নের কথা বলেছে কিছুদিন আগে পর্যন্ত যেন খৈ ফুটে মুখের মধ্যে, সব দিকে নাকি তারা উন্নয়নে একেবারে সমুদ্র বইয়ে দিয়েছে। আমরা তখনো বলেছি, গণতন্ত্রবিহীন উন্নয়ন কখনো উন্নয়ন হতে পারে না- এটা টেকসই নয়। এটা ভেঙে যাবে।

আজকে আমাদের কথার প্রতিধ্বনি করছে আন্তর্জাতিক পত্রিকাগুলোতে। সরকার বলছে, বাংলাদেশ উন্নয়নের রোড মডেল। আর আন্তর্জাতিক পত্রিকাগুলো বলছে যে, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন ঝুঁকিতে, বাংলাদেশের সাফল্য গল্প টক হয়ে গেছে। কথাটা আমার নয়, কথাটা ভারতের টেলিগ্রাফের অনলাইন ভার্সনে পরাণ বালাকৃষ্ণা বলে একজন প্রতিবেদক তার প্রতিবেদনে এসব এসেছে। আরো এসেছে যে, বাংলাদেশের সরকার ইতঃপূর্বে যে সমস্ত দাবি করেছে সেই দাবিগুলো যে কতটা ঠুনকো ছিল তা ক্রাইসিসে যখন বাংলাদেশ পড়েছে তখন সেটা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
ফখরুল বলেন, প্রতিবেদনে বলছে, বাংলাদেশের পুরো ব্যবস্থাটাই এখন আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গেছে। এমনকি রফতানি থেকেও ডলার ফেরত আসছে না। রফতানির রশিদ সংখ্যা, রফতানি শিপমেন্টের সংখ্যা মেলানো খুব কঠিন। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন জোর দিচ্ছে কমপক্ষে ৩০ লাখ ডলারের ওপর যেকোনো এলসিতে তারা ক্লিয়ারেন্স দেবে যা বাণিজ্যের জন্য আরো একটি বোঝা হবে। বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে প্রয়াত গৌতম চক্রবর্তীর সম্পৃক্ততা দেখে সংগঠনের নেতাকর্মীদের চলমান আন্দোলনে আরো সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব। হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার ও মহাসচিব তরুণ কুমার দের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের উপদেষ্টা অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, তপন চন্দ্র মজুমদার, সুশীল বড়ুয়া, ভাইস চেয়ারম্যান অর্পনা রায়, নিতাই চন্দ্র ঘোষ, রমেশ দত্ত, প্রয়াত নেতার ছেলে গৌরব চক্রবর্তী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান গৌতম চক্রবর্তীর সহধর্মিণী ও ফ্রন্টের উপদেষ্টা দিপালী সাহা চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।


আরো সংবাদ



premium cement