২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩০, ১৫ জিলহজ ১৪৪৫
`

বহুমুখী সঙ্কটে অসহায় গার্মেন্ট মালিকরা

-


-ডলারের লিমিট ৩০ পার্সেন্ট কমিয়ে দিয়েছে ব্যাংক
-ডলার সঙ্কটে মালামাল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে
-গ্যাস সঙ্কটে কমে গেছে উৎপাদন

বহুমুখী সঙ্কটে অসহায় হয়ে পড়েছে দেশের তৈরী পোশাক শিল্প মালিকরা। গ্যাসের মূল্য বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু গ্যাস না পাওয়ার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে অনেক শিল্পকারখানা। বিদেশী ক্রেতাদের সময়মতো পণ্য দিতে পারছেন না অনেক রফতানিকারক। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশের পোশাক খাতের অর্ডার অন্য দেশে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন গার্মেন্ট শিল্প উদ্যোক্তারা।
দেশের গার্মেন্ট শিল্পের বেশির ভাগ কারখানা নারায়ণগঞ্জ জেলায়। এখানের গার্মেন্ট মালিকরা জানান, নানা রকম সঙ্কটে পড়েছেন তারা। বিশেষ করে এসব সঙ্কটের প্রভাব পড়বে শ্রমিকদের ওপর। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস না পাওয়া গেলে নতুন শিল্প উদ্যোক্তারা যেমন মুখ ফিরিয়ে নেবে তেমনি শিল্প কারখানা বন্ধ হলে লাখ লাখ শ্রমিক চাকরি হারাবে।
তৈরী পোশাক শিল্প মালিকদের বৃহৎ সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান জানান, আমরা এখন অসহায়। নিরীহ মানুষের থেকেও আমরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। আমরা যারা গার্মেন্টে ব্যবসার কারণে ডলার নিয়ে ব্যবসা করি আমাদের মতো অসহায় অবস্থা অন্য কোনো ব্যবসায় দেখা যায়নি।

সেলিম ওসমান বলেন, ব্যাংক আমাদের ডলারের লিমিট দিয়েছে। হঠাৎ সকালে শুনলাম ডলারের লিমিট ৩০ পার্সেন্ট কমিয়ে দিয়েছে। এটা কেমন কথা। আমরা এলসি খুলছি আমাদের যারা সাপ্লাই করছে তাদেরকে ডলার দেয়া যাচ্ছে না। কারণ ব্যাংকের কাছে ডলার রিজার্ভ নেই। আমাদেরকে মালামাল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, গ্যাস আমাদের শেষ হয়ে গেছে। সরকার আমাদেরকে বললেন তোমরা যদি ইমপোর্টের পয়সা দাও আমরা তোমাদেরকে গ্যাস দেবো। আমরা দীর্ঘ মিটিং করলাম। রাজি হয়ে গেলাম গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করে দেন। ১০০ পার্সেন্ট বৃদ্ধি করে দেয়া হলো। আমাদের মানুষগুলোকে বাঁচতে হবে। আমরা বাঁচব কিনা সেটা কথা ছিল না শ্রমিক ভাইয়ের বাঁচার কথা চিন্তা করি। ৬৫ পার্সেন্ট মহিলা শ্রমিক আমাদের কাজের ওপর নির্ভর করছে।
কোনো লাভের মুখ দেখেন না উল্লেখ করে সেলিম ওসমান বলেন, অনেকে মনে করেন আমরা যারা ব্যবসা করি আমরা যারা এক্সপোর্ট করি আমরা খুব ভালো আছি। বিশ্বাস করেন আমাদের মতো অবস্থা কারো নেই। আমরা অসহায় এখন। আমরা লাভের মুখ দেখি না। আমরা লস করতে করতে এমন জায়গায় এসে ঠেকেছি আমার কাছে মনে হয় আমার দাদা যে ব্যবসা (পাটের ব্যবসা) করত আমরা সে ব্যবসা করছি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভয়াবহ গ্যাস সঙ্কটে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ, সোনারগাঁ, ফতুল্লার কাঠেরপোল, বিসিক শিল্পনগরীসহ জেলার বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে। গ্যাস সঙ্কটের কারণে রফতানিমুখী তৈরী পোশাক শিল্পের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে।

শিল্পাঞ্চলগুলোতে সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরে নারায়ণগঞ্জের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুই পাশে আড়াইহাজার সাওঘাট, রূপগঞ্জ, সোনারগাঁ, ফতুল্লার কাঠেরপোল, বিসিক শিল্পনগরী ও জেলার শিল্প কারখানায় ভয়াবহ গ্যাস সঙ্কট দেখা দিয়েছে।
গত চার মাসে গ্যাস সঙ্কটের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে ৪০টির অধিক শিল্পকারখানা। যারা কারখানা চালু রাখছেন, তাদেরও চালাতে হচ্ছে ধুঁকে ধুঁকে। কাপড় ডায়িং করতে গেলে গ্যাস মিলছে না। যেখানে ১০ পিএসআই গ্যাসের প্রেসার থাকার কথা, সেখানে নেমে এসেছে শূন্যের কোঠায়। গ্যাস সঙ্কটে উৎপাদন বন্ধ থাকায় অলস সময় পার করছেন শ্রমিকরা।
ফতুল্লার কাঠেরপোল এলাকায় অবস্থিত আজাদ রিফাত ফাইবার্স প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম রাজীব জানান, গ্যাস সঙ্কটের এমন দুরবস্থায় গ্যাস বিল দেয়া হচ্ছে কিন্তু গ্যাস লাইনে পাওয়া যাচ্ছে বাতাস। গ্যাস সঙ্কটে সময় মতো বিদেশী ক্রেতাদের অর্ডারকৃত পণ্য না দিতে পারায় অনেক অর্ডার বন্ধের পথে। আবার গ্যাসের বিলও অনেক বাড়ানো হয়েছে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশেনের (বিটিএমএ) পরিচালক ও ফতুল্লার হাশেম স্পিনিং মিলের এমডি এম সোলায়মান বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সঙ্কটের কারণে দেশের অধিকাংশ স্পিনিং মিলের উৎপাদন ৩০ ভাগ কমে গিয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে অনেক স্পিনিং মিল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড ট্রান্সমিউশন কোম্পানি লিমিটেড নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয় বলছে নারায়ণগঞ্জে গ্যাসের চাহিদা রয়েছে ১২০ মিলিয়ন ঘনফুট। সেখানে আমরা পাচ্ছি ৭০ থেকে ৮০ মিলিয়ন ঘনফুট। চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ না থাকায় গ্যাসের সঙ্কট রয়েছে।


আরো সংবাদ



premium cement