২১ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩০, ১৪ জিলহজ ১৪৪৫
`

এক দশকের আড়াল ভাঙলেন মাহফুজ

-

নামের সাথে যুক্ত আছে দুই দশকের সফল ক্যারিয়ার। তারপরও মাহফুজ আহমেদ প্রায় এক দশক ছিলেন আড়ালে। সেটি ভাঙল গত শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর অভিজাত এক ক্লাবে। তিনি এলেন। সাংবাদিকদের ফ্লোরে মাইক্রোফোন ছেড়ে দিলেন। আর প্রতিটি প্রশ্নের জবাব দিলেন আনন্দ নিয়ে। শুরুতেই বললেন, ‘আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলাম আপনাদের প্রশ্ন আর গল্পগুলো শোনার জন্য। তার আগে একটি ভালোলাগার কথা বলি, দীর্ঘ দিন পর আমি আবার এত ক্যামেরা-সাংবাদিককে চোখে দেখলাম। তাই নয়, এখানে আজ এমন অনেককেই দেখতে পাচ্ছি, যারা আমার ক্যারিয়ারের বেড়ে ওঠার সময় থেকে ছিলেন। আজো তারা আছেন। এটি যে কী ভালোলাগার বিষয়, বলে বোঝাতে পারব না। এই মানুষগুলোকে আমি দীর্ঘদিন মিস করেছি।’
এ সময় মাহফুজ আহমেদের পাশে লালশাড়ি পরে দাঁড়িয়ে ছিলেন শবনম বুবলী। যে দু’জন জুটি বেঁধে প্রথমবার করলেন সিনেমা ‘প্রহেলিকা’। এটি নির্মাণ করেছেন চয়নিকা চৌধুরী। সে হিসাবে টানা আট বছর পর মাহফুজ আহমেদ ফিরছেন রূপালি পর্দায়। তার অভিনীত শেষ সিনেমা ‘জিরো ডিগ্রি’ মুক্তি পেয়েছিল ২০১৫ সালে।
যদিও বুবলী বললেন, ‘আমি বলব না, মাহফুজ ভাই কামব্যাক করেছেন। কারণ তিনি আমাদের অভিনয় শিখিয়েছেন, রোমান্টিকতা শিখিয়েছেন, তার অসংখ্য নাটক-সিনেমার মাধ্যমে। ফলে তিনি তার কাজের মাধ্যমে আমাদের সাথে বরাবরই ছিলেন। আমি বলব, তিনি কাজে আবার সরব হয়েছেন এবং তার সাথে আমার কাজ করাটা ব্লেসিংস।’
লম্বা বিরতির পর ফেরা। শুটিংয়ে কি দ্বিধা কাজ করেছিল। কিংবা প্রতিষ্ঠিত নায়িকা বুবলীর বিপরীতে কাজ করা, অস্বস্তি বয়ে আনেনি তো! প্রসঙ্গে মাহফুজ আহমেদ বলেন, ‘শুধু বুবলী নয়, টুবলি থাকলেও জড়তা কাজ করত আমার! কারণ আমি তো সবাইকে নিয়েই ভয়ে ছিলাম। আমার সাথে আরো ছিলেন সেতু আজাদ, রাশেদ মামুন অপু, নাসির উদ্দিন খানের মতো অভিনেতারা। যারা এখন ওটিটি মাত করছে। আমার ভয়ের কারণ ছিল, ওদের সাথে পাল্লøা দিতে পারব কি না। কারণ, এটি তো সত্যি, লম্বা সময় আমি ক্যামেরার বাইরে। প্রথম দৃশ্য করেছিলাম বুবলীর সাথে। আমি সত্যিই নার্ভাস ছিলাম সেদিন। তবে এটিও ভরসা ছিল, সাঁতার একবার শিখলে সেটি তো আর ভুলে যাওয়ার কথা নয়। এরপর একটি দৃশ্য করছি, আর মনিটরে গিয়ে দেখছি। দেখলাম, না হচ্ছে!’
প্রহেলিকায় মাহফুজ আহমেদ অভিনয় করেছেন মনা চরিত্রে। যেমনটি আগে তাকে দেখা গেছে ‘আমাদের নুরুলহুদা’ বা ‘চৈতা পাগল’ নাটকে। যে দু’টি চরিত্রে আজো বেঁচে আছেন দর্শক হৃদয়ে। অভিনেতা মনে করেন, লম্বা বিরতির পর তিনি আবারো তেমন একটি চরিত্র নিয়ে ফিরছেন। যেটি করতে গিয়ে ঘোরের মধ্যে চলে গেছেন। তার ভাষায়, ‘আমি শুটিং শেষ করার পরদিন দেশের বাইরে চলে যাই। কারণ, আমি মনা রোগে আক্রান্ত হয়েছিলাম। সেটি থেকে বের হতেই দেশ ছাড়ি এবং আজকের আগে এ প্রসঙ্গে আমি মিডিয়ায় কোনো কথাও বলিনি। আশা করছি, সিনেমাটি মুক্তির পর সেটি আপনারাও অনুভব করবেন।’
এক প্রশ্নের জবাবে সহশিল্পী বুবলী সম্পর্কেও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন মাহফুজ আহমেদ। জানালেন টিভি আর সিনেমা মিডিয়ার পার্থক্যটাও। যে পার্থক্যটা তিনি আরো বেশি অনুভব করেছেন বুবলীর সাথে কাজ করে। অভিনেতা বলেন, ‘বুবলী আমার মোস্ট ফেভারিট কোঅ্যাক্টর। শুধু একটি সিকোয়েন্সের কথা বলি। আমাদের দু’জনের একটি লম্বা সিকোয়েন্স ছিল। প্রায় ছয় মিনিটের, ওয়ানটেক শট। ফলে আমি খুবই কনফিউজড ছিলাম বুবলীকে নিয়ে। কারণ আমি তো সহশিল্পী হিসেবে তার সাথে প্রথম কাজ করছি। ফলে আমার অ্যাক্টিংয়ের পর তার রিঅ্যাকশনটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেই সিকোয়েন্স শেষ করার পর আমি জাস্ট বিস্মিত। তার কাছ থেকে যে রিঅ্যাকশন বা সাপোর্ট পেয়েছি, সেটি না পেলে ওই দৃশ্যটি বাস্তবায়ন করা কঠিন ছিল। সেই দৃশ্য শেষ করার পর আমি জাস্ট মুগ্ধ হয়ে যাই। বুবলী বারবার বলছে, সে আমার সাথে কাজ করে ধন্য বা ইত্যাদি। কিন্তু আমি বলব, তার সাথে কাজ করে আমি অনেক কিছু শিখেছি।’
কিন্তু কী এমন শিখেছেন বুবলীর কাছ থেকে! অভিনয়? একজন মাহফুজ আহমেদ তো অভিনয়ের সর্বোচ্চ চূড়া অতিক্রম করে বসে আছেন বহু আগেই। এর ব্যাখ্যাও দিলেন অভিনেতা। বললেন, ‘আমরা যারা টেলিভিশন মিডিয়া থেকে ফিল্মে যাই, তাদের মধ্যে একটি অভ্যাস আছে। আমরা কাজটি করতে গিয়ে ভাবি- ঠিক আছে, করলাম আরকি। ঠিক আছে, হবে আরকি! এই বিষয়টি হচ্ছে নন প্রফেশনাল আচরণ। কিন্তু ফিল্মের একজন প্রফেশনাল আর্টিস্ট, লাইক বুবলী; তারা এভাবে কখনো ভাবে না। তারা কল টাইম তিনটি মানে তিনটি, পাঁচটি মানে পাঁচটি। ওর জন্য কোনো দিন শুটিং লেট হয়নি। ওর এই টাইমিংয়ের জন্য আমাকে তটস্থ থাকতে হয়েছে। এমন আরো অনেক গুণ দেখেছি বুবলীর মধ্যে। যা আমাকে নতুন করে শিখিয়েছে ও সচেতন করেছে।’
এভাবে মাহফুজ আহমেদের কণ্ঠে কথার ফুলঝুরি চলল প্রায় তিন ঘণ্টা। বললেন, আরো কথা আছে; যা শোনাতে গণমাধ্যমের সাথে বসবেন বারবার।
অনুষ্ঠানে মাহফুজ আহমেদের গল্পের ফাঁকে প্রজেক্টরে দেখানো হয় প্রহেলিকার গান ‘মেঘের নৌকা’।


আরো সংবাদ



premium cement