০৭ জুলাই ২০২২, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯, ৭ জিলহজ ১৪৪৩
`

কাঞ্চন ভাইয়ের একটি পক্ষ নেয়া ঠিক হয়নি : জায়েদ খান

-

প্রশ্ন : টানা তৃতীয়বার শিল্পী সমিতির নির্বাচন করছেন। এবার আপনার পরিকল্পনা কি?
জায়েদ খান : বিগত দুই মেয়াদেই আমি শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলাম। এবারের নির্বাচনে আমার মূল লক্ষ্য হচ্ছে, ভূমিহীন শিল্পীদের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করা। এবার শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হলে তাদের জন্য বাসস্থানের বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেবো। এটার বাস্তবায়ন করাই আমার মূল লক্ষ্য বলতে পারেন।
প্রশ্ন : হাইকোর্টের রুল জারির পরও ১৮৪ জন শিল্পীর ভোটাধিকার দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। এর কারণ কি?
জায়েদ খান : আসলে সংখ্যাটা ১৮৪ নয়। সংখ্যাটা ১৩০-এর মতো হবে। আমি সঠিক ফিগারটা না দেখে বলতে পারব না। তবে ১৩০-এর আগে-পিছে হবে। আর ১৮৪ সংখ্যটা নিয়ে সবাই লাফালাফি করছে না জেনে। ১৮৪ জনের মধ্যে সদস্য হিসেবে আবেদনকারীও রয়েছে।
প্রশ্ন : সংখ্যাটা যাই হোক তারা সদস্যপদ পাচ্ছেন না কেন?
জায়েদ খান : সদস্য হওয়ার যোগ্যতা না থাকলে কীভাবে তাদের সদস্য করব? আমার ড্রাইভার তো ২০টি সিনেমায় গাড়ির দরজা খুলে দিয়েছে, তাহলে কি তাকেও সদস্য বানাব? এ রকম দরজা খুলে দেয়ার মতো ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করেছে যারা, তাদের তো এখনই সদস্য করতে পারি না। নিয়ম আছে, সংবিধান অনুযায়ী তাদের সদস্যপদ দেয়া হবে।
প্রশ্ন : আপনাদের প্রতিপক্ষ প্যানেলে আছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। বিষয়টি কিভাবে দেখছেন?
জায়েদ খান : ইলিয়াস কাঞ্চন ভাইকে প্রতিপক্ষ ভাবতে খারাপ লাগছে। কাঞ্চন ভাই সব শিল্পীকে ডেকে বলতে পারতেন, শিল্পী সমিতির দায়িত্ব নিতে চাই। তিনি সবাইকে ডেকে এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করলে কেউ তার বিপক্ষে নির্বাচন করত না। কিন্তু তিনি একটি প্যানেল বেছে নিলেন। তার মানে তিনি একটি পক্ষের হয়ে গেলেন। কাঞ্চন ভাইয়ের মতো মানুষের একটি পক্ষের হওয়া উচিত নয়। তিনি আমাদের গর্বের, সবার হওয়া উচিত ছিল।
প্রশ্ন : এ বিষয়ে কি আপনারা ইলিয়াস কাঞ্চনের সাথে কথা বলেছিলেন?
জায়েদ খান : আমাদের পুরো প্যানেল নিয়ে কাঞ্চন ভাইয়ের কাছে গিয়েছিলাম। বলেছিলাম, ভাইয়া আপনি কারো পক্ষে গিয়ে কাজ করবেন না। আপনি ইলিয়াস কাঞ্চন সবার। কিন্তু তিনি আমাদের ফিরিয়ে দিয়েছেন। আমাদের নায়করাজ রাজ্জাক ভাই, জসিম ভাই, ওয়াসিম ভাই বেঁচে নেই। কয়েকজন আছেন, যারা সবাই অসুস্থ। নিয়মিতদের মধ্যে কাঞ্চন ভাই আছেন। তিনি আমাদের কাছে মোস্ট সিনিয়র এবং সম্মানিত ব্যক্তি। তাই কাঞ্চন ভাইয়ের একটি পক্ষ নিয়ে নির্বাচন করা উচিত হয়নি।
প্রশ্ন : বিগত নির্বাচনের পর শিল্পীদের প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ হয়েছে?
জায়েদ খান : গতবার আমরা নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা সবই প্রায় পূরণ করেছি। পারিনি শুধু একটি কাজ। সেটা ভূমিহীন শিল্পীদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করা। তবে এটা এ মেয়াদে জয়লাভ হলে অবশ্যই পূরণ করব।
প্রশ্ন : চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্কট মোকাবেলায় সমিতি কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আপনার ধারণা?
জায়েদ খান : অনেকেই শিল্পী সমিতি নিয়ে ভুল বুঝে থাকেন। মনে করেন শিল্পী সমিতি চলচ্চিত্রের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। আসলে এ প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য কিন্তু চলচ্চিত্রের উন্নয়ন নয়, শিল্পীদের উন্নয়ন। শিল্পীদের নানা সঙ্কটে ও শিল্পীদের স্বার্থরক্ষায় শিল্পী সমিতি পাশে থাকবে- এটাই লক্ষ্য। এ লক্ষ্য নিয়েই রাজ্জাক, আলমগীর ও ফারুক ভাইয়েরা এ সমিতি গঠন করেছেন। শিল্পীদের মধ্যকার সঙ্কট ও সমস্যা নিরসনে শিল্পী সমিতির ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে। আবার সীমাবদ্ধতাও আছে।
প্রশ্ন : নির্বাচনে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার বাস্তবায়ন কতটুকু সম্ভব?
জায়েদ খান : আমরা খুব বেশি প্রতিশ্রুতি দেইনি। তবে আমরা চাই সব শিল্পী ভালো থাকুক। সেই ভালো থাকার জন্য যা যা করা দরকার সেটা শিল্পী সমিতির নেতৃত্বে আসার পর পর্যায়ক্রমে করছি। করোনার সময় কবরী ম্যাডাম ও সাদেক বাচ্চু মারা গেলে আমি ও মিশা ভাই নিজে কাঁধে করে লাশ কবর দিতে নিয়ে গেছি। করোনা মহামারীর সময় আমাদের কিছু সহশিল্পী অসহায় হয়ে পড়েছিলেন। তারা মানুষের কাছে হাত পাততেও পারছিলেন না, তাদের সহায়তা করেছি। অনেকের বাসা ভাড়া আমরা দিয়ে দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে থেকে শিল্পীদের জন্য শিল্পী কল্যাণ ফান্ড এনেছি। ইচ্ছা করলে শিল্পীদের কল্যাণে সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

 


আরো সংবাদ


premium cement