২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০, ১৮ শাবান ১৪৪৫
`
ভুয়া জন্মনিবন্ধন

দায়ীদের শাস্তি দিন

-

নিকলী উপজেলার চারটি ইউনিয়ন পরিষদের বিরুদ্ধে ভুয়া জন্মনিবন্ধনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে প্রাথমিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চার উদ্যোক্তাকে অব্যাহতি দিয়েছেন। কতজনের ভুয়া নিবন্ধন করা হয়েছে; রোহিঙ্গারা নিয়েছে কি না, আরো কারা জড়িত- উত্তর মেলেনি।
একটি গোয়েন্দা বাহিনীর কর্মকর্তা জানান, সোর্সের মাধ্যমে জানতে পারেন, নিকলীতে অনেক দিন ধরে ভুয়া জন্মনিবন্ধন হচ্ছে, রোহিঙ্গারাও নিবন্ধন পেয়ে থাকতে পারে। তিনি জারইতলা ইউপি সচিবের সাথে কথা বলেন। সচিব দুর্ব্যবহার করেন। রেগে বাজে কথা বলেন। ঘটনাটি নিকলীর ইউএনওকে জানান। ইউএনও তদন্ত শুরু করেন। এক সপ্তাহে সাতটি ইউপি তথ্যকেন্দ্রে নিবন্ধন স্থগিত রাখা হয়।
করোনা সংক্রমণের পর থেকে চার ইউনিয়নে শুরু হয় অস্বাভাবিক নিবন্ধন। চার বছর এটি চলছে। এর সাথে আছে চার ইউপির দায়িত্বপ্রাপ্তদের যোগসাজশ। দলে চেয়ারম্যান থেকে ইউপি সচিব ও উদ্যোক্তারা রয়েছেন। চার ইউপির নিবন্ধন চেয়ারম্যান ও সহকারী নিবন্ধক সচিবের আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ভুয়া জন্মসনদ দেয়া হয়েছে। জন্মনিবন্ধনে পাঁচ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়েছে। জারইতলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের এক নেতা ১৫ আগস্ট তথ্যকেন্দ্রের সাবেক উদ্যোক্তার কাছে পাঁচ শতাধিক ভুয়া জন্মসনদের পিডিএফ তালিকা দেখান। ওই উদ্যোক্তা মনে করেন, অবৈধ বাণিজ্যে দুই সহস্রাধিক ভুয়া নিবন্ধন হয়েছে। নিবন্ধন ফরমে স্থানীয় ঠিকানা। ইউপি সচিবের ফোনে বারবার কল করা হলেও ধরেননি। ইউপি চেয়ারম্যান আজমল হোসেন বলেন, অস্বাভাবিক জন্মনিবন্ধন হয়েছে। সংখ্যাটি উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছেন। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের গড় অবস্থানে জানা গেছে, সিংপুরে মে মাসে জন্মনিবন্ধনের লক্ষ্য ছিল ৪২, করা হয়েছে ৩৮টি; মৃত্যুর লক্ষ্যমাত্রা ১২, করা হয়েছে সাতটি। জুনে জন্মনিবন্ধনের লক্ষ্য ছিল ৪২, করা হয়েছে ১০৭টি। মৃত্যু নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২, হয়েছে ৩০টি। জুলাইয়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিল জন্মসনদ ৪২ এবং মৃত্যুসনদ ১২টি, করা হয়েছে যথাক্রমে ২২৪ ও ৭৮টি। ইউপি সচিব জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে পুরস্কৃতও হয়েছেন। তিনি বলেন, তথ্যকেন্দ্রের উদ্যোক্তা অনিয়ম করেছেন। উদ্যোক্তার কাছে জানতে চাইলে মুঠোফোন বন্ধ করে দেন। ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জানান, তিনি কিছু জানেন না। ছাতিরচর ইউপি সচিব বলেন, ‘ভুয়া জন্মনিবন্ধন হয়েছে। আমার আইডি ব্যবহার করে উদ্যোক্তা এসব নিবন্ধন করেছেন।’ আইডি উন্মুক্ত করে দেয়া সম্পর্কে সচিব বলেন, চেয়ারম্যানের অনুরোধে আইডি উদ্যোক্তাকে দিয়ে রেখেছি। ছাতিরচরের উদ্যোক্তা ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করেন। ছাতিরচর ইউপি চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ভুয়া জন্মনিবন্ধনের ব্যাপারে জানি না। উদ্যোক্তা এসবে জড়িত। ইউএনওর নির্দেশে পরিষদে রেজ্যুলেশন করে ভুয়া নিবন্ধনের তালিকা জমা দেয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা কেউ এই তালিকায় আছে কি না, বলতে পারেননি। জারই ইউপি চেয়ারম্যান তোতা মিয়া জানান, ইউনিয়নের উদ্যোক্তা ২৩৯ জনের ভুয়া জন্মনিবন্ধন করেছেন। তদন্তের কথা জানাজানি হলে অভিযুক্তরা গাঢাকা দেন। এর মধ্যে রয়েছেন তিনটি কম্পিউটারের দোকানদার এবং চার ইউপির উদ্যোক্তা। ইউএনও চার ইউপি থেকে নিবন্ধনের ভুয়া তালিকা সংগ্রহ করেছেন। ২৯ আগস্ট জেলা প্রশাসকের কাছে এটা পৌঁছেছে। নিকলীর ইউএনও শাকিলা পারভীন বিস্তারিত তথ্য দিতে রাজি হননি। তিনি স্বীকার করেছেন, জন্মনিবন্ধনে ‘অনিয়মের ব্যাপার’ আছে।
এই মারাত্মক অনিয়ম ও দুর্নীতির জন্য যারা দায়ী, তাদের অবিলম্বে যথোপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।


আরো সংবাদ



premium cement