২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১, ১৫ শাওয়াল ১৪৪৫
`
ব্যয় কমানো হচ্ছে না, কোটা অপূর্ণ

হজের খরচ নির্ধারণ অযৌক্তিক

-

বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ। প্রতি বছর এ দেশ থেকে হজে যাওয়ার জন্য মানুষের মধ্যে বিপুল আগ্রহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। এবার সম্ভাব্য হজযাত্রীদের মধ্যে সেই আগ্রহ-উদ্দীপনায় ভাটার টান দেখা যাচ্ছে। চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজে যেতে পারবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোটা পূরণ হয়নি।
চার দফায় নিবন্ধনের সময় বাড়ানো হয়েছে। তার পরও কোটা পূরণ হতে এখনো ১১ হাজার ৫৮৭ জন বাকি। প্রশ্ন উঠছে, এ অবস্থা কেন? বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক দুরবস্থা একটি কারণ বলে মনে করছেন অনেকে। কিন্তু প্রায় সর্বসম্মতভাবে যে কারণটি সামনে আসে সেটি হলো হজের অযৌক্তিক ব্যয় নির্ধারণ।
চলতি বছর হজের জন্য সরকারি প্যাকেজে সর্বনিন্ম ছয় লাখ ৮৩ হাজার টাকা ও বেসরকারি প্যাকেজে ছয় লাখ ৭২ টাকা ধরা হয়েছে। গত বছরের চেয়ে বেড়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। অনেকে এটিকে অস্বাভাবিক মনে করছেন। ডলার, রিয়াল ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বিমান ভাড়া বেড়ে যাওয়ার অজুহাতে প্যাকেজের খরচ বাড়ানো হয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বলেছেন, বাংলাদেশে বিমান ভাড়া ও সৌদি আরবে সার্ভিস চার্জ এবং বাড়ি ভাড়ায় এবার খরচ বেড়েছে। কিন্তু এ বক্তব্যে সত্যের প্রতিফলন ঘটেছে বলে আমাদের কাছে মনে হয়নি। সৌদি আরবে সার্ভিস চার্জ গত বছরের চেয়ে বাড়েনি। বাংলাদেশেও বিমান ভাড়া বাড়েনি। হজের মৌসুম ছাড়া অন্য সময় বাংলাদেশ বিমান ৭০-৮০ হাজার টাকায় সৌদি আরবের রিটার্ন টিকিট বিক্রি করে, এটি সবারই জানা। গত বছর বিমান ভাড়া ছিল এক লাখ ৪০ হাজার টাকা। এবারের হজ প্যাকেজে বিমান ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৯৭ হাজার ৯৯৭ টাকা। বাংলাদেশের হজযাত্রীদের বহনের কাজটি করে মূলত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদিয়া এয়ারলাইন্স।
এক লাখ ৪০ হাজার টাকার ভাড়া একবারে প্রায় দুই লাখ টাকায় নির্ধারণ কীভাবে করা হতে পারে; তা আমাদের বোধগম্য নয়। এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত হজ প্যাকেজের ব্যয় কমানোর সুপারিশ করেন সরকারের কাছে। কিন্তু ধর্ম মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিমান ভাড়া কমাতে রাজি নয়। হজযাত্রীদের ঘাড় ভেঙে বিমান বাড়তি মুনাফা লোটার সুযোগ নিচ্ছে, এটি স্পষ্ট। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনাও চলমান রয়েছে। বিমানের এমন কাণ্ডকে অনেকে অযৌক্তিক, অমানবিক, অস্বাভাবিক ও অতিরঞ্জিত, জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দেয়া এবং অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন। হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন (হাব) এবং ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আটাব) বলেছে, এটি হজযাত্রীদের ওপর রীতিমতো ‘অবিচার’।
এত টাকা ব্যয় করে হজে যাওয়া অনেকের জন্য কষ্টসাধ্য। মূলত এ কারণে অনেকে প্রবল ইচ্ছা থাকার পরও হজে যেতে পারছেন না। অনেকে প্রাক-নিবন্ধন করেও তা আর চূড়ান্ত করছেন না।
ধর্মপ্রাণ মানুষ যাতে সহজে ধর্ম অনুশীলনের সুযোগ পান সেটি নিশ্চিত করা সাধারণভাবে সরকারের লক্ষ্য হওয়ার কথা। এ দায়িত্ববোধ থেকে অনেক দেশ রোজার সময় পণ্যমূল্য কমিয়ে দেয়। অনেক দেশ হজের ব্যয় এমনভাবে নির্ধারণ করে; যাতে বাড়তি কোনো ব্যয় হাজীদের ঘাড়ে না চাপে। বাংলাদেশে ঠিক এর উল্টো অবস্থা দেখা যাচ্ছে। তাই মনে প্রশ্ন জাগে, হজ প্যাকেজের এ অযৌক্তিক খরচ নির্ধারণের পেছনে অন্য কোনো দুরভিসন্ধি আছে কি না। এ দেশের মানুষের ধর্মীয় চেতনা দুর্বল করতে স্কুলের পাঠ্যপুস্তকে ধর্মনিরপেক্ষ পাঠক্রম সংযোজনের যে তোড়জোড় সাম্প্রতিক সময়ে জাতি দেখেছে, হজ নিয়েও তেমনি কিছু চলছে কি না তা নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে বৈকি।


আরো সংবাদ



premium cement
নজিরবিহীন দুর্নীতির মহারাজার আত্মকথা ফতুল্লায় ১০ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে নির্মাণকাজ বন্ধ, মারধরে আহত ২, মামলা পার্বত্যাঞ্চলে সেনাবাহিনী: সাম্প্রতিক ভাবনা গফরগাঁওয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে টিকটক করতে গিয়ে স্কুলছাত্রের মৃত্যু তানজানিয়ায় বন্যায় ১৫৫ জনের মৃত্যু বাংলাদেশসহ এশিয়ার ৩ দেশে কাতার আমিরের সফরে কী লাভ ও উদ্দেশ্য? মধুখালীর ঘটনায় সঠিক তদন্ত দাবি হেফাজতের ফর্মে ফিরলেন শান্ত জামায়াতের ৫ নেতাকর্মীকে পুলিশে সোপর্দ যুবলীগ কর্মীদের, নিন্দা গোলাম পরওয়ারের চায়ের সাথে চেতনানাশক খাইয়ে স্বর্ণালঙ্কার চুরি ঈশ্বরগঞ্জে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ব্যারিস্টার ফারজানাকে সংবর্ধনা

সকল