২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০, ১৮ শাবান ১৪৪৫
`

সত্যের চেয়ে সুন্দর কিছু নেই

-

সত্যের চেয়ে সুন্দরও কিছু নেই। চলমান সময়ে যা কিছু মানুষের জন্য মঙ্গল তাই সত্য। যা কিছু মানুষের আনন্দ কেড়ে নেয় তা মিথ্যা। ক্ষুধার্ত মানুষের আনন্দ আহারে। খাবারে। তার কাছে সত্য খাবার। এতেই তার আনন্দ। এ আনন্দে যদি কেউ বাধা দেয় তবে তা মিথ্যা। মিথ্যাকে যারা আঁকড়ে ধরে তারা ব্যক্তিজীবনে জয়ী হলেও সামষ্টিক জীবনে ব্যর্থ। এখানে তাদেরকে সবাই ঘৃণা করে। ঘৃণা কখনো কোনো মানুষের কাম্য হতে পারে না। এখানে সত্য বলে কিছু নেই। কেবলই কালক্ষেপণ!
জীবন ধারণের জন্য চাই সময়োপযোগী যোগ্যতা। সময়ের চাহিদাকে অবশ্যই মানতে হবে। শিক্ষা সময়পোযোগী না হলে মানুষ সত্যকে হারিয়ে ফেলে। যেমন ধরা যাক, বর্তমান বা চলমান সময়, যার দাবি নেট দুনিয়াকে জানা। বোঝা। সে ভাবে নিজেকে তৈরি করা। এখানে কেউ যদি ব্যর্থ হয় তাহলে তার আহার মিথ্যা হয়ে যাবে। সত্যকে ধারণ না করার কারণে পিছিয়ে থাকতে হবে। অগ্রগামী পথিকের কথাবার্তা অচেনা মনে হবে। তার মানে তার কাছে এই জগৎটাই মিথ্যা। ব্যস, মিথ্যার বেড়াজালে আটকা পড়ে দিশেহারা হতে হবে।
আবার প্রাত্যহিক জীবনে সকাল থেকে দুপুর আমরা যেসব আচার আচরণ করি তা সবটাই নির্ভর করে চাহিদার ওপর। চাহিদাগুলো মেটাতে গিয়ে কিংবা চাহিদার জোগান দিতে গিয়ে আমরা প্রকৃত তথ্য গোপন করি। এও কিন্তু সময়েরই কারসাজি। ওই সময়টুকু পেরিয়ে গেলে আমরা হাঁফ ছেড়ে বাঁচি। যে তথ্য গোপন করে সে জানে তাকে কতটা সময় গিলতে হয়। তাকে কতটা হিমশিম খেতে হয়। সারাক্ষণ টেনশনে থাকতে হয় কখন ধরা পড়ে! এতে তার প্রেসার বাড়ে। হার্ট ডিজিজ হয়। তার চেয়ে এই ভালো সময়ের দাবিকে মেনে নিয়ে যোগত্যা অর্জন করা।
কেউ মানুষ মারার জন্য অস্ত্র বানাচ্ছে কেউ মানুষ বাঁচানোর জন্য খাবার উৎপাদন করছে। তুমি কোনটা নেবে? এখানে সত্য কোনটা? বোধ করি দুটোই সত্য। অস্ত্র না হলে অস্ত্রের সামনে তুমি টিকবে না। খাবার কাবার না হলেও তুমি টিকবে না। সময় বলছে তুমি দুটোই করো। দুটোতেই তোমার দক্ষতা থাকতে হবে। যাতে প্রয়োজনে তুমি টিকে থাকতে পারো। একদিকে তোমার ভূমি থেকে উৎপাদন করতে হবে অন্য দিকে ভূমির অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করতে হবে। এখানে টিকে থাকার সংগ্রামই সত্য। অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামই সত্য।
যুগে যুগে সত্য তার রূপ বদল করেছে। তাই সত্য বলেও কিছু নেই। কিন্তু সত্য ছাড়া আবার টিকে থাকা মুশকিল। এক সময় বন্যপ্রাণী শিকার করে বাঁচা ছিল সত্য, এখন সে সত্য হারিয়ে গেছে। এখন সত্য যান্ত্রিক উৎপাদন। এখানে টিকতে হলে অবশ্যই যন্ত্রের ব্যবহার জানতে হবে। এ তীব্র সত্য যদি ধারণ করতে না পারে কেউ সে পিছিয়ে যাবে সন্দেহ নেই।
এক সময় পড়াশোনা তালপাতায় হতো এখন হয় যন্ত্রে। ডিভাইসে। কেউ যদি এখান থেকে সুবিধা নিতে না পারে সে ঝরে যাবে, খাবারের জন্য আত্মমর্যাদা বিসর্জন দিতে হবে। এই বিসর্জনই মিথ্যার সাথে বাস। মানুষ কখনোই মিথ্যার সাথে বেশি সময় টিকতে পারে না। তখনই আসে বিপর্যয়।
বাবা-মা, ভাই-বোন স্বজন সবার সাথেই যখন তথ্য গোপন করে কেউ তখন মূলত নিজের চাহিদাকেই প্রাধান্য দেয়া হয়। চাওয়া-পাওয়ার গরমিলে হারিয়ে যায় সুন্দর। যদি আগেই নির্ধারণ করা হয় আসলেই চাহিদা কী? আদৌ তা প্রয়োজন আছে কি না, তাহলে তথ্য গোপনের প্রয়োজন পড়বে না।
ব্যক্তির লোভ সুন্দরের বিপক্ষে। দুর্নীতি সুন্দরকে গলা টিপে হত্যা করে। সে হত্যার সাথে অগণিত মানুষের স্বপ্ন মৃত্যুবরণ করে। একটি দেশ একটি জাতি ক্রমাগত আঁধারে পতিত হয়। সে অসুন্দরকে মাটি চাপা দেয়ার জন্য জনগণের শক্তি চাই। সত্যের শক্তি। সে সত্য যদি হয় অস্ত্র তবে তাই ধরতে হবে। মানুষের মনোজগৎ বিশাল এক গহ্বর। অসীম শূন্যতা সেখানে। একবার যদি সে শূন্যতার তলদেশ ধরিয়ে দেয়া যায় তাহলেই বড় অ্যাটমবোমা নিক্ষেপ হবে। নিজাম ডাকাতের মতো বিশাল শূন্যতাকে হাতড়াতে হাতড়াতে একদিন ঠিকই পাল্টে যাবে রঙমহলের চাবি!
বর্তমান সময়ে সামরিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে মনোজাগতিক অস্ত্র আবার বিকল। তাহলে সত্য কোনটি গ্রহণ করবো এখানে? সময়ের জাঁতাকলে পড়ে ডাল যেমন খোসা থেকে বেরিয়ে পড়ে তেমনি আমাদেরকেও খোলস থেকে বেরিয়ে পড়তে হবে। সম্মানের সাথে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে।


আরো সংবাদ



premium cement