২১ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩০, ১৪ জিলহজ ১৪৪৫
`

ঈসা আ: সম্পর্কে আকিদা

-


ঈসা আ: আল্লাহ তায়ালার বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজিদে বলেন- ‘নিশ্চয় আল্লাহর কাছে ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের মতো। তিনি তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তাকে বললেন, হও, আর তা হয়ে গেল। সত্য তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে। তাই তুমি কিছুতেই সন্দিহানদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।’ (সূরা আল ইমরান : ৫৯-৬০)
ঈসা আ:-কে পাঠানো নবী সা:-এর সংবাদ দেয়া : হজরত ঈসা আ: আমাদের নবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর আবির্ভাবের আগে দুনিয়াতে এসেছিলেন। উভয়ের মধ্যে অন্য কোনো নবী ছিলেন না। ঈসা আ:-কে প্রেরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য ছিল রাসূলুল্লাহ সা:-এর আগমনের বার্তা দেয়া। তার ওপর ঈমান আনার জন্য প্রস্তুত করা। ঈসা আ: বলেন, ‘আমি এমন একজন রাসূলের সুসংবাদ তোমাদের কে দিচ্ছি যিনি আমার পর আসবেন। তার নাম হবে আহমাদ।’ (সূরা সাফ-৬)
ইঞ্জিল হজরত ঈসা আ:-এর ওপর সুরিয়ানি ভাষায় নাজিল হয়েছিল। এর মধ্যে রাসূল সা:-এর গুণবাচক নাম এসেছে ‘পারকালিটাস’। আরবিতে বলে ‘ফারকালিত’। এর মানে হলো- আহমাদ। অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালার সবচেয়ে বেশি প্রশংসাকারী।
ঈসা আ:-এর জন্ম খতমে নবুয়তের আলামত : ঈসা আ: নবীজীর সুসংবাদ নিয়ে দুনিয়াতে এসেছিলেন এবং আল্লাহ তায়ালা তার মাধ্যমে দুনিয়াবাসীর কাছে একটি মুজিজা প্রকাশ করেছেন। আদম আ:-এর পর থেকে আল্লাহ তায়ালার রীতি এই ছিল যে, নারী-পুরুষের মিলনে মানুষের জন্ম হতো। কিন্তু ঈসা আ:-কে আল্লাহ তায়ালা বাবা ছাড়া সৃষ্টি করলেন। আল্লাহ তায়ালা এই মুজিজা কেন দেখালেন? অন্য কোনো নবীকে কেন বাবা ছাড়া সৃষ্টি করলেন না? এটি এ জন্যই যে, ঈসা আ: নবী সা:-এর একেবারে নিকটবর্তী সময়ের ছিলেন এবং তার আগমনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য ছিল রাসূলের আগমনের সুসংবাদ দেয়া এবং আজ পর্যন্ত নবুয়তের যে ধারা চলে আসছিল আল্লাহ তায়ালা শেষ নবীজীর মাধ্যমে এর ইতি ঘটাবেন এজন্য আল্লাহ তায়ালা তাঁকে বাবা ছাড়া সৃষ্টি করলেন বিশ্ববাসীকে এ কথা বোঝানোর জন্য যে, আল্লাহ সব কিছু করতে পারেন। তিনি ইচ্ছা করলে যেমন পিতা ছাড়া সন্তান দিতে পারেন তেমনি নবুয়তকেও এক সময় শেষ করে দিতে পারেন।
খ্রিষ্টান সম্প্রদায় রুহুল্লাহ ও কালিমাতুল্লাহ শব্দের মাধ্যমে ধোঁকা খেয়েছে। ঈসা আ:-এর মধ্যে বিশেষ কিছু গুণের সমন্বয় ঘটেছে। এর মধ্যে চারটি বিষয় এমন যা অন্য কোনো নবীর মধ্যে পাওয়া যায় না। এক. ঈসা আ:-এর উপাধি ছিল কালিমাতুল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহর শব্দ এবং রুহুল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহর আত্মা। দুই. ইঞ্জিলে তাকে ইবনুল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহর সন্তান বলা হয়েছে। তিন. তিনি পিতাহীন জন্মেছেন ও চার. তাকে আকাশে তুলে নেয়া হয়েছে।
প্রথম বিষয় : আয়াতে যেখানে বলা হয়েছে ঈসা আ: আল্লাহর কালিমা (আল্লাহর কথা)। তাকে আল্লাহ তায়ালা মারিয়াম আ:-এর দিকে নিক্ষেপ করেছেন। ইঞ্জিলেও এই উপাধি আছে। যেহেতু আল্লাহর রুহ তাহলে হয়তো তিনি স্বয়ং খোদা আর না হয় খোদার অংশীদার। অধিকাংশ খ্রিষ্টানের বিশ্বাস এটিই যে, তিনি তিন খোদার একজন। অথচ ঈসা আ: না খোদা, না খোদার অংশীদার!

খ্রিষ্টানরা ঈসা আ:-কে খোদা মানে। আল্লাহ তায়ালা তাদের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। বলেছেন- ‘যারা বলেছে মাসিহ ইবনে মারিয়াম আল্লাহ তারা কুফরি করেছে। বলো, যদি আল্লাহ মাসিহ ইবনে মারিয়াম এবং তার মা এবং জমিনে যারা আছে সবাইকে ধ্বংস করে দেন তাহলে কে আছে যে আল্লাহর মোকাবেলায় তাদেরকে রক্ষা করার ক্ষমতা রাখে? আসমান জমিন ও এর মধ্যবর্তী সব কিছুর মালিকানা আল্লাহর। সব কিছুর ব্যাপারে আল্লাহ ক্ষমতাবান।’ (সূরা মায়িদাহ-১৭)
এই আয়াতে আল্লাহ স্পষ্ট বলেছেন যারা ঈসা আ:-কে খোদা মানে তারা কাফের। কিছু খ্রিষ্টানের বিশ্বাস এমনি ছিল। আজো আছে। তবে তাদের মধ্যে এত ফেরকা আমরা তাদের সম্পর্কে কমই জানি। তবে অধিকাংশ খ্রিষ্টানের বিশ্বাস এরকম না। অধিকাংশ খ্রিষ্টান তিনের সমষ্টিতে খোদাই বিশ্বাসী। তারা এক খোদার তিনটি অংশে বিশ্বাস করে। তাদের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে ও কুরআন প্রত্যাখ্যান করেছে। বলেছে, ‘নিশ্চয় যারা বলেছে আল্লাহ তিনজনের একজন তারা কুফরি করেছে। (সূরা মায়িদা-৭৩)
রুহুল্লাহর হাকিকত : রুহুল্লাহ-এর মধ্যে রুহকে আল্লাহর দিকে যুক্ত করা হয়েছে। আরবি ভাষায় বিভিন্ন উদ্দেশ্যে এই রকম করা হয়। এর মধ্যে একটি হলো সম্মানার্থে। যেমন বাইতুল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহর ঘর। এখানে আল্লাহর ঘর দ্বারা এটি উদ্দেশ্য নয় যে, এখানে আল্লাহ অবস্থান করছেন। আল্লাহ তো স্থান থেকে পবিত্র; বরং এই ঘরের মর্যাদা বোঝানোর জন্য এ রকম বলা হয়। তেমনিভাবে মসজিদকে আল্লাহর ঘর বলা হয়। এর দ্বারা আমরা এই ঘরের বরকত ও পবিত্রতা বুঝিয়ে থাকি। তেমনি ঈসা আ:-এর রুহ যাকে আল্লাহর দিকে যুক্ত করা হয়েছে এর দ্বারা ঈসা আ:-এর সম্মানও মর্যাদা উদ্দেশ্য।

কালিমাতুল্লাহের হাকিকত : আল্লাহ তায়ালা চমৎকারভাবে পুরো পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছেন। ইরশাদ হয়েছে- ‘আসমান ও জমিনকে তিনি সৃষ্টি করেছেন সুনিপুণভাবে। আর যখন তিনি কোনো বিষয়ের ফয়সালা করেন তখন বলেন, হও, এমনি তা হয়ে যায়।’ আল্লাহ তায়ালা পুরো বিশ্বকে সুনিপুণভাবে সৃষ্টি করেছেন। যখন আল্লাহ কোনো বিষয়ের ফয়সালা করেন তখন শুধু বলেন হও এমনি তা হয়ে যায়। তো পুরো পৃথিবী তাঁর হও শব্দের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে। প্রথম মানব আদম আ:-এর জন্মও এভাবেই হয়েছিল। এখানে ঈসা আ:-এর বিশেষ কোনো বিশেষত্ব নেই। ‘নিশ্চয় আল্লাহর কাছে ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের দৃষ্টান্তের মতো, তিনি তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর বললেন, হও, ফলে তা হয়ে গেল।’ (সূরা আলে ইমরান-৫৯)
ঈসা আ:-এর আশ্চর্যজনক ঘটনা আল্লাহর কাছে আদম আ:-এর আশ্চর্যজনক ঘটনার মতো। তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন অতঃপর বলেছেন হও আর তা হয়ে গেছে। তেমনি ঈসা আ:-এর অস্তিত্বের হুকুম দিয়েছেন ফলে তিনি অস্তিত্বে চলে আসলেন। আল্লাহর বাণী- ‘আর সে এমন বাণী যাকে আমি মারয়িমের কাছে নিক্ষেপ করেছি।’ (সূরা মায়িদা) দ্বারা উদ্দেশ্য তিনি তাঁকে বাহ্যিক কোনো উপকরণ ছাড়া শুধু ‘হও’ শব্দ দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। আদম আ:-কে ও আল্লাহ তায়ালা ‘হও’ শব্দ দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। এখানে তার কোনো বিশেষত্ব নেই। কিন্তু খ্রিষ্টানরা এখানে ধোঁকা খেয়েছে।
ঈসা আ: আল্লাহর সন্তান হওয়া : দ্বিতীয় বিষয় যার কারণে খ্রিষ্টানরা ভুল বুঝেছে তা এই যে, ঈসা আ:-কে ইঞ্জিলে আল্লাহর সন্তান বলা হয়েছে। এই শব্দ এখন পর্যন্ত বাইবেলে আছে। এই শব্দের মাধ্যমে তারা ধোঁকায় পড়েছে। তারা ঈসা আ:-কে আল্লাহর সন্তান দাবি করে। বাস্তবিক পক্ষে ইহুদি নাসারা নিজেদেরই আল্লাহর সন্তান দাবি করে। কুরআনে আল্লাহ তাদের বক্তব্য উল্লেখ করেছেন- ‘(আমরা আল্লাহর সন্তান এবং তার প্রিয়ভাজন)’। (সূরা মায়েদি-১৮) যখন ইহুদি-নাসারা নিজেদেরকে আল্লাহর সন্তান দাবি করে, আর এই দাবি করার কারণে তারা আল্লাহর প্রকৃত সন্তান হয়ে যায় না, ঈসা কিভাবে হাকিকি সন্তান হবেন? বস্তুত এটি ভালোবাসা প্রকাশের একটি শব্দ। যেমন- ছোট শিশুদেরকে আমরা বলি বাবা একটু পানি দাও তো! তাকে বাবা বলার কারণে সে বাস্তবেই সন্তান হয়ে যায় না। এ ধরনের রূপকার্থে শব্দের ব্যবহার সব ভাষায়ই প্রচলিত আছে। কিন্তু খ্রিষ্টানরা এখানে ধোঁকা খেয়েছে। অনুবাদ : আবু সালমান মাহফুজ

 

 


আরো সংবাদ



premium cement
বিভিন্ন দেশের আশ্রয় প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখবে জার্মানি বান্দরবানে ট্রাক গভীর খাদে পড়ে নিহত ১, আহত ৪ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপির ৬ নেতাকে দাওয়াত দিলো আ’লীগ দোয়ারাবাজারে নির্বাচনে পরাজিত হয়েও বন্যাদূর্গতদের পাশে সবার আগে লাইলী আক্তার লাকী একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে চামড়াশিল্প মেরে ফেললে নয়, জীবিত রাসেল ভাইপার ধরতে পারলে পুরস্কার দেবেন আ.লীগ নেতা বন্যায় বিদ্যুৎহীন সিলেটের ১২ হাজার গ্রাহক সিলেটের বন্যায় সাড়ে ১০ লাখ মানুষ পানিবন্দী আমাদের সকল কাজের মূল উদ্দেশ্য হলো মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জন : মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বার বার কারানির্যাতনেই মাখনের অকাল মৃত্যু হয়েছে : রিজভী দেশে দেশে ঘুরে চুক্তি করে লাভ হবে না : খসরু

সকল