২১ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩০, ১৪ জিলহজ ১৪৪৫
`

খানাখন্দে ভরা তুরাগের ৩ ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী

-

রাজধানীর একেবারে পাশে তুরাগের ৫২, ৫৩ ও ৫৪ নং ওয়ার্ডের রাস্তাঘাটের অবস্থা একবারে যাচ্ছেতাই। প্রায় সব রাস্তাই খানাখন্দে ভরা। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নবগঠিত এই ওয়ার্ড তিনটির রাস্তাঘাট দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। অফিস-আদালত ও স্কুল-কলেজে যেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতী নারীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া-আসায় দুর্ভোগের সীমা থাকে না।
সরেজমিন দেখা গেছে, সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাটগুলোয় হাঁটুপানি জমে আছে। অনেক স্থানে ড্রেনের ময়লা পানি জমে একাকার হয়ে আছে। ৫৪নং ওয়ার্ড রাজাবাড়ি এলাকা, ভাটুলিয়া ও ধউর এলাকার রাস্তাগুলো, ৫৩ নংওয়ার্ডের নয়ানগর, নলভোগ, ফুলবাড়িয়া, রানাভোলা, রমজান মার্কেট এলাকার রাস্তা এবং ৫২ নং ওয়ার্ডের দলিপাড়া, বটতলা, পাকুরিয়া, বাউনিয়া এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কয়েকটি সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করা হলেও কাজের গতি খুব ধীর এবং অপরিকল্পিতভাবে কাজ করায় দুর্ভোগ যেন আরো বাড়ছে। ফুলবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা হাজী নাসির উদ্দীন বলেন, ৪-৫ মাস ধরে সংস্কারের কাজ চলছে। অথচ সড়কটি এখনো চলাচলের জন্য উপযোগী হয়ে উঠেনি। স্কুলের ছেলেমেয়েরা পায়ে হেঁটে যাওয়া-আসা করে।
নয়ানগর রাজাবাড়ি এলাকার রমজান আলী বলেন, এলাকার রাস্তাঘাটগুলোর এমন বেহাল দশা যে যত্রতত্র ড্রেনের পানি জমে থাকছে। পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অনেকেই। ছেলেমেয়েদের স্কুলে যাওয়ার উপায় নেই। তাই বাধ্য হয়ে নিজের বাড়ি ছেড়ে ১৪ নং সেক্টরে একটি ভাড়াবাসায় বসবাস করছি। নলভোগের বাসিন্দা পলাশ বলেন, ঈদগাহ মাঠ থেকে রূপায়নসিটি পর্যন্ত রাস্তায় প্রতিনিয়ত ময়লা পানি জমে থাকে। দূষিত পানির সংস্পর্শে অনেকেই চুলকানিসহ নানাবিধ রোগে ভুগছেন। স্থানীয় আরো অনেকেই জানান, এটি আবাসিক এলাকা হলেও এখানে গড়ে উঠেছে ওয়াশিং ফ্যাক্টরি, কেমিক্যাল ফ্যাক্টরিসহ পরিবেশ দুষণকারী নানা কলকারখানা। এসব যেন দেখার কেউ নেই। এসব বিষয়ে ৫৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দীন বলেন, চলমান কাজে আমি আপাতত সন্তুষ্ট। কয়েকটি রাস্তাকে ৩০ ফুট করতে কাজ চলমান রয়েছে। আশা করি বর্ষার আগেই এসব রাস্তা চলাচলের উপযোগী হয়ে উঠবে।
৫৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন যুবরাজ বলেন, এলাকা ঘুরে দেখেন। এরপর যা ইচ্ছে, যেমন খুশি লিখুন। আমি কিছু বলতে চাই না।
সার্বিক বিষয় নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (অঞ্চল-৬) সাজিয়া আফরিন বলেন, যখন যেখানে সমস্যা দেখা দেয় আমরা দ্রুত সেসব সমস্যার সমাধান করে থাকি। এ ছাড়া মেগা প্রকল্পের কাজ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে হয়ে থাকে। সেখানে আমাদের কিছু করার নেই।


আরো সংবাদ



premium cement