আইনমন্ত্রী

গণভোটে ‘সাড়ে ৩ প্রশ্ন’ নিয়ে দ্বিমত নেই, সমস্যা বাকি অর্ধেক নিয়ে

গণভোটের বেশিভাগ প্রশ্ন নিয়ে দ্বিমত না থাকলেও অর্ধেক প্রশ্ন জুলাই সনদের সাথে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

অনলাইন প্রতিবেদক
আইনমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান
আইনমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান |নয়া দিগন্ত

গণভোটে বাস্তবায়ন প্রসঙ্গ তুলে ধরে আইনমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান বলেছেন, জানি না ‘জুলাই সনদ’ পড়ে কতজন ভোট দিতে গেছেন। গণভোটের সাড়ে তিনটি প্রশ্ন নিয়ে কোনো বিন্দুমাত্র দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই, তবে অর্ধেক প্রশ্ন নিয়ে দ্বিমতের জায়গা আছে।

এই অর্ধেক প্রশ্নটি জুলাই সনদের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক দেখা যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার সিরডাপ মিলনায়তনে ‘নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী। সভার আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ-সিজিএস।

আইনমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান বলেন, জুলাই সনদের ৬ নম্বর ধারার ১৮ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রথমে বলা আছে, ১০০ সদস্যবিশিষ্ট পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হবে। সেখানে আমাদের কোনো দ্বিমত নেই। এরপর বলা হলো, এই ১০০ জন সদস্য নির্বাচিত হবেন জনগণের প্রাপ্ত ভোটের অনুপাত (প্রপোরশন) অনুসারে। ডান পাশের কলামে বলা হলো, যেসব রাজনৈতিক দল জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার এই প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি করেছে, তারা যদি তাদের আপত্তির কারণ এবং উদ্দেশ্য তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করে এবং বিজয়ী হয়, তবে তাদের সেই বক্তব্য প্রাধান্য পাবে। বিএনপি সুনির্দিষ্টভাবে এ বিষয়ে আপত্তি করেছিল। তারা বলেছিল, এটি পার্লামেন্টের সদস্যদের আনুপাতিক হারে (প্রটাসি) হওয়া উচিত- যেভাবে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হন।

তিনি বলেন, বিএনপি আপত্তির সময় এই ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছিল এবং নির্বাচন ইশতেহারে উল্লেখ করেছিল। জুলাই সনদের ১৮ নম্বর শর্ত পূরণ করে সনদের যে ব্যাখ্যা (ইন্টারপ্রিটেশন) দাঁড়ায়, তা নির্দেশ করে যে বিএনপি জুলাই সনদ মেনে নিতে পারত। পার্লামেন্টে এটি প্রকাশ্যেই বলেছি যে এই সনদ বাস্তবায়ন করার জন্য ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ নামে একটি আইন করা দরকার। প্রশ্ন আসতে পারে, কেন অধ্যাদেশ করা হলো না? কারণ সংবিধান সংশোধনের সমপরিমাণ কোনো কিছু করা হলে তা সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে পড়ে। সংবিধান সংশোধনের সমকক্ষ হয়- এমন কোনো অধ্যাদেশ জারি করা সম্ভব নয়। সে কারণেই তারা অধ্যাদেশে না গিয়ে আদেশের পথে হেঁটেছেন।

প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, তাহলে এই আদেশের আইনি মর্যাদা (লিগ্যাল স্ট্যাটাস) কী? সংবিধানের প্রথম ও তৃতীয় তফসিল অনুযায়ী, এই ধরনের আদেশ জারির ক্ষমতা ১৯৭২ সালে যেদিন সংবিধান কার্যকর হয়, সেদিন থেকেই বন্ধ হয়ে গেছে। ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশ দিয়ে কিছু আইন করা হয়েছিল, যেগুলোর মর্যাদা ছিল আইনের সমতুল্য। তবে তখন বলে দেয়া হয়েছিল যে এই সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর থেকে রাষ্ট্রপতির এই ধরনের আদেশ জারির আর কোনো ক্ষমতা থাকবে না। আইন পাস হবে পার্লামেন্টে, আর যখন পার্লামেন্ট থাকবে না, তখন রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। কিন্তু এখানে বিভ্রান্তিকর কিছু করে বিভাজন তৈরির একটি পথ রেখে দেয়া হয়েছে।

বিএনপি সুস্পষ্ট ও স্পষ্টভাবে বলছে- আমরা জুলাই সনদের পথেই থাকতে চাই এবং সেই পথ ধরেই এগোতে চাই। আমাদের ওপর বিশ্বাস ও আস্থা রাখুন; আমরা সেই সংস্কারের যৌক্তিক জায়গায় পৌঁছাতে পারব, এমন মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী।