টিএসসিতে ‘চাইনিজ এন্টারপ্রাইজ জব ফেয়ার’ অনুষ্ঠিত

মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দিনের সূচনা হয়। উদ্বোধনী পর্বে পরিবেশিত হয় চীনের ঐতিহ্যবাহী লায়ন ড্যান্স, শান-হাই চাইনিজ কোয়ারের গান ‘সেম সং’ এবং সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর বাংলা গান।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দিনের সূচনা হয়
মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দিনের সূচনা হয় |সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে সিনো-বাংলা ডে ২০২৬ ও ‘চাইনিজ এন্টারপ্রাইজ জব ফেয়ার’।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্র কেন্দ্র (টিএসসি) অডিটোরিয়ামে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডাকসুর আন্তর্জাতিক সম্পাদক জসিম উদ্দীন খান (খান জসিম)।

মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দিনের সূচনা হয়। উদ্বোধনী পর্বে পরিবেশিত হয় চীনের ঐতিহ্যবাহী লায়ন ড্যান্স, শান-হাই চাইনিজ কোয়ারের গান ‘সেম সং’ এবং সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর বাংলা গান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস. এম. ফরহাদ, ওভারসিজ চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশের সহ-সভাপতি রেন ওয়াং, আপন ফ্রেন্ডশিপ এক্সচেঞ্জ সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর রানা, বাংলাদেশ চাইনিজ এন্টারপ্রাইজেস অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ঝু গুয়াংলেই, ঢাকাস্থ চীন দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কাউন্সিলর লি শাওপেং প্রমুখ।

ডাকসুর আন্তর্জাতিক সম্পাদক জসিম উদ্দীন খান (খান জসিম) বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবে রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া নতুন বাংলাদেশে আমাদের প্রধান লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। সাম্প্রতিক চীন সফরে শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ও নীতিনির্ধারকদের সাথে ফলপ্রসূ আলোচনার ফসল হিসেবেই আজকের এই জব ফেয়ার ও প্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে। নানা প্রতিকূলতার মাঝেও চীনা দূতাবাস, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় এই আয়োজন সফল করতে পেরে আমরা আনন্দিত। ঢাবির শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক মঞ্চে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে ডাকসুর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আমার এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

ডাকসুর জিএস এস. এম. ফরহাদ বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের ইতিহাসে শিক্ষার্থীদের জন্য এত বড় আকারের চাকরি মেলার সুযোগ সৃষ্টিতেও নানামুখী প্রশাসনিক বাধা ও প্রতিকূলতা ছিল। বাধা সত্ত্বেও ডাকসুর উদ্যোগে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক খান জসীমের প্রচেষ্টায় এবং চীনা দূতাবাস ও কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের সহায়তায় ৪৩০ জনের কর্মসংস্থানের এই ঐতিহাসিক আয়োজন সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা দূর করে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অভিভাবকের মতো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।’

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু), চীনা দূতাবাস ও কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে এবং চীনের ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতায় আজ টিএসসিতে ‘সিনো-বাংলা ডে’ ও ঐতিহাসিক জব ফেয়ার আয়োজিত হয়েছে। ৩১টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে প্রায় ৪৩০টি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য হুয়াওয়ের বিনামূল্যে বছরব্যাপী এআই প্রশিক্ষণের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়া এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ডাকসুর প্রতিনিধি দলের সাম্প্রতিক চীন সফরের ধারাবাহিকতায় দুই দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যকার সম্পর্ক জোরদার ও একাডেমিক আদান-প্রদান আরো গতিশীল হবে। এ ছাড়া নারী শিক্ষার্থীদের জন্য চীনা অর্থায়নে ১,৫০০ আসনের নতুন হল নির্মাণ ঢাবির দীর্ঘদিনের আবাসন সঙ্কট দূরীকরণে ভূমিকা রাখবে। নানামুখী প্রতিকূলতা পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলা এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ডাকসু নিরলসভাবে কাজ করে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট ও সিএমসি’র যৌথ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে ‘সিনো-বাংলা ফ্রেন্ডশিপ’ স্কলারশিপ ও বার্সারি অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এ ছাড়া কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট এবং হুয়াওয়ে টেকনোলজিস লিমিটেডের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয় এবং ‘হুয়াওয়ে এআই ট্রেনিং প্রোগ্রাম’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। একইসাথে ২০২৬ সালের চাইনিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ অর্জনকারীদের জন্য প্রাক-যাত্রা দিকনির্দেশনামূলক ‘ওরিয়েন্টেশন’ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইকবাল হায়দার, কার্যনির্বাহী সদস্য রাইসুল ইসলাম, ডাকসু ও হল সংসদের নেতৃবৃন্দসহ চায়নার বিভিন্ন কোম্পানির উদ্যোক্তাবৃন্দ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।