৮৫ বছরেও হয়নি ভবন, খোলা আকাশের নিচে চলে পাঠদান

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ‘লোচনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণে ইতোমধ্যে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই কাজ হবে।’

মুহাম্মদ আবদুল হাই, চৌহালী (সিরাজগঞ্জ)

Location :

Chauhali
লোচনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম
লোচনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম |নয়া দিগন্ত

কাঠফাটা রোদ আর ভ্যাপসা গরমে খোলা আকাশের নিচে চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান। নেই বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবস্থাও। শ্রেণিকক্ষ সঙ্কট যেন পিছু ছাড়ছে না এই পাঠশালার। বাধ্য হয়ে স্কুল মাঠে টিনশেডের নিচে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছে।

রোববার (২৪ আগস্ট) সকালে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সীমান্তবর্তী লোচনাপাড়া গ্রামের লোচনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। এ দৃশ্য যে কারও হৃদয়ে নাড়া দিলেও সংশ্লিষ্টদের নজর কারেনি, এজন্যই দীর্ঘ ৮৫ বছরেও কোনো ভবন নির্মাণ না হওয়া একটি কক্ষে বসেই অফিস ও ক্লাসের কার্যক্রম চালাতে হয়। নেই কোনো সীমানা প্রচীর ও সুষ্ঠ যোগাযোগ ব্যবস্থাও।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৪১ সালে শাহজাদপুর উপজেলার ১৩ নম্বর জালালপুর ইউনিয়নের লোচনাপাড়া গ্রামের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ চারজন শিক্ষক মিলে শতাধিক শিক্ষার্থীকে পাঠদান করাচ্ছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ, সীমানা প্রাচীরসহ অন্য সুযোগ না থাকায় ব্যাপক ভোগান্তি নিয়ে চলে পাঠদান কার্যক্রম।

২০২৪ সালে একটি দ্বিতল বিশিষ্ট পাকা ভবন নির্মাণের বরাদ্দ এলে তৎকালীন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে পুরাতন টিনের ঘর নিলামে বিক্রি করা হয়। তবে ভবন নির্মানের উপকরণ পরিবহনের উপযুক্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকার অজুহাতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সেই ভবন নির্মাণের কাজ করেনি। শ্রেণিকক্ষ সঙ্কটের কারণে দিন দিন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমছে।

ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছোয়াদ হোসেন ও শারমিন খাতুন জানায়, শ্রেণিকক্ষের সঙ্কটে খোলা আকাশের নিচে পাড়াশোনা করতে হচ্ছে। প্রচণ্ড রোদ কিংবা বৃষ্টি দেখা দিলে ক্লাস বন্ধ রেখে বাড়ি ফিরতে হয়। তারা দ্রুত পাকা ভবন নির্মাণের দাবি জানায়।

লোচনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ জানান, শ্রেণিকক্ষ সঙ্কটে শিক্ষার্থী সঙ্কলন না হওয়ায় বাধ্য হয়েই বৃষ্টি মাথায় নিয়ে পাঠদান ও শ্রেণিকক্ষেই অফিস করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘবে সংশ্লিষ্টদের কাছে বার বার ধরণা দিয়েও কোনো সুফল পাচ্ছেন না তারা।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য আনোয়ার হোসেন ও সমাজকর্মী ফারুক রেজা জানান, ৮৫ বছরের পুরনো একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এমন বেহাল দশা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। শ্রেণিকক্ষ সঙ্কটের কারণে ধার করা টিন এনে কোনো মতো ক্লাস চালু রাখা হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষার্থী খুঁজে পাওয়া যাবে না। অবকাঠামো ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের দাবি করেন তারা।

শাহজদপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মুরাদ হোসেন বলেন, ‘দুর্ভোগের চিত্র দেখে এসেছি। লোচনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণে ইতোমধ্যে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই কাজ হবে।’