সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার (জামালগঞ্জ) সড়কের দুই পাশের ছায়াঢাকা-পাখিডাকা গাছগুলো কেটে সাবাড় করার সংবাদ নয়াদিগন্তসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশের পর সাচনাবাজার সড়কের পাশে গাছ কাটা স্থগিত ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান। ইতোমধ্যে এই সড়কে অন্তত অর্ধেক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের দাবি, তাদের না জানিয়েই গাছ কাটা হয়েছে। পরিবেশকর্মী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক কোটি টাকার গাছ নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে লুটপাট করেছে বন বিভাগ। এ যেন শুভঙ্করের ফাঁকি।
বন বিভাগ থেকে জানা যায়, ৪ হাজার ৪০০টি গাছ রয়েছে সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার (জামালগঞ্জ) সড়কে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা অংশে ২৮ লাখ ৩৬ হাজার ও জামালগঞ্জ অংশে ৫৬ লাখ ৪৪ হাজারসহ মোট ৮৪ লাখ ৮০ হাজার টাকায় গাছ বিক্রি হয়েছে। এতে প্রতিটি গাছের গড় দাম প্রায় ১ হাজার ৯২৮ টাকা। বন বিভাগের তালিকাভুক্তির সিলেটের ১টি, দোয়ারাবাজারের ১টি ও টাঙ্গাইলের ২টিসহ ৪টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে গাছ কাটার কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে।
বিধিমালা অনুযায়ী, গাছ বিক্রির টাকা বন অধিদফতর ১০, উপকারভোগী ৫৫, ভূমির মালিক হিসেবে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর (সওজ) ২০ ও ইউনিয়ন পরিষদ ৫ শতাংশ পাবে। উদ্বৃত্ত টাকা দিয়ে পুনরায় বনায়ন করার কথা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কের দুই পাশে আকাশি, রেইনট্রি, অর্জুন, কড়ই, মেরাসহ ফলদ, বনজ ও ওষুধি জাতের প্রায় ৮-১০ প্রজাতির গাছ রয়েছে। ২০-২৫ বছর আগে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় গাছগুলো লাগানো হয়েছিল। স্থানীয়দের দেখাশোনা ও পরিচর্যায় ধীরে ধীরে এগুলো প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে সজ্জিত হয়েছিল।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গায় থাকা প্রায় সাড়ে ৪ হাজার গাছ কাটার চলমান প্রক্রিয়ার ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীলকে আহ্বায়ক করে, সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ও পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালককে সদস্য করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়কের দুই পাশের গাছ কাটার বিষয়ে এই সংক্রান্ত জেলা কমিটিতে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এছাড়াও গাছ কাটার বিষয়টি এখন কোন প্রক্রিয়ায় হয়েছে, কী ধরনের গাছ কাটা হয়েছে—এসব বিষয় যাচাই করা হবে। গাছ কাটা স্থগিত রেখে তদন্ত কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।



