উত্তরের ব্যস্ততম শহর বগুড়া মহানগরীর অন্যতম সমস্যা যানজট। ভাসমান ব্যবসায়ীরা ফুটপাথ ও রাস্তা দখল করে ব্যবসা পরিচালনার ফলে পথচারীদের চলাফেরায় দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া ফুটপাথের উপর অসাধু লোকজন ও ভবন নির্মাতারা ইট, বালু সিমেন্টসহ অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী রেখে পথচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছেন। এসব কারণে শহরে যানজট সব সময় লেগেই থাকে। তাই যানজট নিরসনে নবগঠিত সিটি করপোরেশনের (বসিক) প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীনের নির্দেশে ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে শুরু হয়েছে উচ্ছেদ অভিযান।
উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা ও জিলা স্কুল সংলগ্ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন বগুড়া সিটি করপোরেশনের সচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোসা: পপি খাতুন। এ সময় ফুটপাথ ও সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ দোকানপাট, অস্থায়ী স্থাপনা ও ভ্যান উচ্ছেদ করে সিটি করপোরেশনের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রায় দুই মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বর্তমান প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন নগরবাসীকে যানজটমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন শহর উপহার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে।
অভিযান পরিচালনা শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পপি খাতুন বলেন, নাগরিক ভোগান্তির অন্যতম প্রধান কারণ ফুটপাথ বেদখল। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সামনের ফুটপাথ বেদখল থাকায় যানজট সৃষ্টি হয়ে জনসাধারণকে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়।
তিনি আরো বলেন, আমাদের কাছে তথ্য আছে, অনেকে টাকার লোভে ফুটপাথে দোকান বসিয়ে দেন। প্রথমদিন হওয়ায় সতর্কতামূলক বার্তা দিচ্ছি। তবে এরপর থেকে এই উচ্ছেদ অভিযান আরো কঠোরভাবে পরিচালনা করা হবে।
বসিক প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন জানান, ফুটপাথ পুনরায় দখল রোধ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তাই শিগগিরই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হলে তাদের শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হবে। ফুটপাথ যেন আর নতুন করে দখল না হয়, সে বিষয়ে এই স্বেচ্ছাসেবকরা নিয়মিত কড়া নজরদারি রাখবেন। আশা করা যায়, এভাবে যানজট নিরসন হবে।



