০৯ জুলাই ২০২০

বিছানায় কাতরাচ্ছে শাহীন, হাসপাতালে নেয়ার টাকা খুঁজছেন মা

মিরপুরের রূপনগরে গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মারাত্বকভাবে জখম হয়ে বিছানায় কাতরাচ্ছে শাহীন। মুখে তার শুধুই বাঁচার আকুতি। দমে দমে মাকে ডাকছে সে। কে জানতো খেলার ছলে এভাবেই জীবন তার ভয়ানক এক পরিণতির দিকে চলে যাবে?

কণ্ঠনালীতে দেয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি সেলাই। বুকের বামপাশে ও কাধের কাছেও সেলাই আছে বেশ কয়েকটি। মাত্র ৯ বছর বয়সের এই শিশুটি ব্যথায় ছটফট করছে মায়ের বস্তি ঘরের বিছানায়।

বুধবার ঢাকার মিরপুরের রূপপুরে বেলুন বিক্রেতার গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আহত শিশুদের একজন শাহীন। ওই ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো কয়েকজন। বেশ কয়েকজন ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি আছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে আহত শাহীনের বাসায় গিয়েজানা গেল ঐ দিনের লোমহর্ষক ঘটনার কিছু বর্ননা। যন্ত্রনায় কথাই বলতে পারছিল না সে শাহনী। মুখে শুধু ‘মাগো... বাবাগো’ বলে কান্না। অন্যদিকে শাহীনের মা শাহীদা বেগম আহত ছেলেকে ভাল চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়ার টাকা ধার করার জন্য ব্যস্ত; কিন্তু এখানে তার আপনজনও কেউ নেই। কারো কাছে কোনো সহযোগিতাও পাচ্ছেন না তিনি।

শাহিদা বেগম এই প্রতিবেদকে জানান, তিনি স্থানীয় একটি গার্মেন্টস কারখানার ওয়াশিং সেকশনে কাজ করেন। ঘটনার সময় তিনি ছিলেন কারখানায় ডিউটিতে। সন্ধ্যায় বাসায় এসে ছেলের অবস্থা দেখার পর স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে নিয়ে ক্ষতস্থানে সেলাই ও ব্যান্ডেজ করিয়ে আনেন। সাথে কিছু ওষুধও কিনে আনেন। আর্থিক সঙ্কটের কারণে ভালো চিকিৎসা করাতে পারছেন না।

তিনি বলেন, আমার ছেলে কম আহত বলে ঘটনার পরে কেউ হাসপাতালেও পাঠায়নি। আমি গার্মেন্টস থেকে এসে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেছি। ছেলের শরীরে জড়ানো কাথা সরিয়ে জখমের স্থানগুলো দেখান শাহীদা।

তিনি জানান, শাহীনের বাবা আগে ইট ভাঙ্গার কাজ করতো। এখন সে নিজেই অসুস্থ। কোনো কাজ করতে পারেন না। শাহীনের বড় আরো এক ভাই। সেও টাকার অভাবে পড়াশোনা করতে পারে না। চারজনের পুরো সংসার চলে শাহীদার একার উপার্জনেই।


আরো সংবাদ