১৩ নভেম্বর ২০১৯

লঞ্চ ঘাটে প্রবেশ ফি আদায়ের নামে নৈরাজ্য দুর্ভোগে যাত্রীরা

-

সারা দেশে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) অধীনে পরিচালিত লঞ্চঘাটগুলোর যাত্রীদের কাছ থেকে বর্ধিত হারে প্রবশে ফি ও লঞ্চের বার্দিং চার্জ (ঘাটে নোঙর করা ফি) আদায়ের নামে চলছে চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি।
জানা গেছে, বিআইডব্লিউটিএ পহেলা অক্টোবর থেকে সদরঘাট, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, চাঁদপুর, খুলনা, নরসিংদী, পটুয়াখালী, বরগুনা ও ভোলার টার্মিনাল ভবনে প্রবেশ ফি ৫ টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা আদায় শুরু করেছে। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে যাত্রীদের কাছ থেকে বর্ধিত হারে এ প্রবেশ ফি কার্যকর করার পর থেকে সারা দেশে লঞ্চ ঘাটগুলোতে ইজারাদাররা এ বর্ধিত প্রবেশ ফি আদায় শুরু করেছেন। এ নিয়ে যাত্রীদের সাথে ইজারাদার ও বিআইডব্লিউটিএর মাধ্যমে পরিচালিত লঞ্চঘাটে কর্মচারীদের সাথে প্রতিদিন হাতাহাতি মারমারির ঘটনা ঘটছে। জোর করে বর্ধিত প্রবেশ ফি আদায় নিয়ে চলছে চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি।
জানা গেছে, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় রাজস্ব বাড়ানোর জন্য যাত্রীদের কাছ থেকে প্রবেশ ফি বাড়ালেও তা জমা হচ্ছে না বিআইডব্লিউটিএর কোষাগারে।
২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে ঢাকা নদীবন্দরে প্রবেশ ফি বাবদ আদায় হয়েছে ১ কোটি ৮৭ লাখ ৭৬ হাজার ৪০০ টাকা। সেখানে পাঁচ বছর পরে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে আদায় কমেছে দুই লাখ ৬২ হাজার ২৪ টাকা। অর্থাৎ ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে প্রবেশ ফি বাবদ রাজস্ব কমে হয়েছে ১ কোটি ৮৫ লাখ ১৪ হাজার ৩৭৬ টাকা। অথচ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিটি রুটে যাত্রী বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে লঞ্চ। নতুন রুটে নতুন নতুন লঞ্চ চালাচল করছে। তবে যাত্রী বাড়লেও কমেছে প্রবেশ ফি আদায় বাবদ রাজস্ব আদায়। ঢাকা নৌবন্দরে প্রবেশ ফি বাবদ ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে ১ কোটি ৯৪ লাখ ৭ হাজার ৯০০ টাকা, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ১ কোটি ৭৫ লাখ ৭৯ হাজার ২৮১ টাকা, ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ১ কোটি ৭৯ লাখ ৫৪ হাজার ৭৯ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে বলে বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে।
২০১৫ সালে যেখানে সরাসরি ঢাকা থেকে বরিশাল প্রতিদিন ১০টি লঞ্চ চলাচল করত (প্রতিবারে ৫টি লঞ্চ)। সেখানে গত দুই বছর ধরে ঢাকা থেকে বরিশাল সরাসরি ৮টি লঞ্চ যায় এবং ৮টি আসে। এ ছাড়া বর্তমানে দিনের বেলায় গ্রিন লাইন নামে একটি ক্যাটামেরান জাহাজ চলাচল করছে। একইভাবে পটুয়াখালী থেকে তিনটির স্থলে পাঁচটি, ভোলা জেলার বিভিন্ন রুট থেকে প্রতিদিন ১০টি লঞ্চ ছেড়ে আসে এবং ছয়টি লঞ্চ ছেড়ে যায়। এর মধ্যে রয়েছে বেতুয়াঘাট থেকে তিনটি, ঘোষের হাট থেকে দু’টি, মনপুরা থেকে একটি, লালমোহন থেকে একটি, ভোলা সদর থেকে তিনটি। এভাবে দেশের সব রুটে বেড়েছে আধুনিক ও বেশি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন যাত্রীবাহী নৌযান।
জানা গেছে, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের জন্য ইজারা দেয়া লঞ্চঘাটগুলোর ইজারাদার যাত্রীদের কাজ থেকে বর্ধিত প্রবেশ ফি আদায় শুরু করেছে। বিআইডব্লিউটিএ ইজারা নীতিমালা অনুযায়ী যেসব লঞ্চঘাটে পাকা বা আধাপাকা ভবন রয়েছে সেসব স্থানে জনপ্রতি ৫ টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ইতোমধ্যে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে যারা ঘাট ইজারা নিয়েছেন তারা এ বর্ধিত প্রবেশ ফি আদায় করতে পারবেন না বলে বিআইডব্লিউটিএর বন্দর বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। কিন্তু বর্ধিত এ প্রবেশ ফি কার্যকর করার পর থেকে ১০ টাকা হারে সারা দেশে আদায় শুরু করেছেন ইজারাদাররা। জানা গেছে, সারা দেশে বর্তমানে ৪২০টি ঘাটের মধ্যে ১৩টি বিআইডব্লিউটিএ নিজস্ব লোকবল দিয়ে প্রবেশ ফি আদায় করছে। বাকিগুলো ইজারা দেয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, লঞ্চঘাটে যাত্রী প্রবেশ ফি ছাড়াও ১৮টি খাতে শুল্ক হার বাড়ানো হয়েছে। তবে লঞ্চ মালিকদের অভিযোগ, যেসব ঘাট ইজারা দেয়া হয়েছে সেখানে অতিরিক্ত বার্দিং চার্জ দাবি করছেন ইজরাদাররা। একটি লঞ্চের যেখানে প্রতিদিন বার্দিং চার্য ১৭৫ টাকা। সেখানে ইজারাদাররা দুই থেকে তিন হাজার টাকা আদয় করছেন। এমনকি বহদ্দারহাট লঞ্চঘাটের ইজারাদার প্রতিদিন প্রতিটি লঞ্চের যাত্রীপ্রতি ৭০ টাকা দাবি করছেন। এ ব্যাপারে লঞ্চ মালিকদের পক্ষ থেকে বিআইডব্লিউটিএর বন্দর বিভাগে অভিযোগ করা হয়েছে।
জানা গেছে, নতুন ফি অনুযায়ী নৌযান মালিকদের ওপর বেশি ফি আরোপ হয়েছে। নৌপথ সংরক্ষণ ড্রেজিং, সিগন্যাল বাতি স্থাপনসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনায় নৌযান থেকে চার্জ আদায় করে বিআইডব্লিউটিএ। এ খাতের ফি দিতে হয় নৌযান মালিকদের। কঞ্জারভেন্সি ফি লঞ্চ ও জাহাজ থেকে ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রীপ্রতি বছরে ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, স্পিডবোটে যাত্রীপ্রতি ৪১৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা এবং সব পণ্যবাহী জাহাজ ও ফিশিং ট্রলার থেকে প্রতি গ্রস টনে ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ টাকা করা হয়েছে।
এ দিকে লঞ্চঘাটে বর্ধিত প্রবেশ ফির নামে যাত্রী হয়রানির ঘটনায় জনস্বার্থে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করেছেন অ্যাডভোকেট আবু তালেব। উচ্চ আদালত এর পরিপ্রেক্ষিতে রুলনিশি জারি করেছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর এম মাহবুব উল ইসলাম বলেন, সরকারের সিদ্ধান্তে ঘাটে যাত্রীদের প্রবেশ ফি বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, শুনেছি এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালত একটি রুলনিশি জারি করেছেন। তবে ওই আদেশের কাগজ এখনো আমাদের হাতে পৌঁছেনি।


আরো সংবাদ

ডা. শফিকুর রহমান জামায়াতে ইসলামীর আমীর নির্বাচিত (২৬৯৯৯)বাবরি রায় নিয়ে যা বললেন দিল্লির শাহী ইমাম (২৫২৯২)বিয়ের ২৮ দিন পর স্বামী হারানো সেই আফরোজার কোলে নতুন অতিথি (১২০৩৩)মন্দিরের আগে রামের বিশাল মূর্তি অযোধ্যায় (১১৯১২)হাসপাতালের মর্গে ছোঁয়ামনির নিথর দেহ, ইয়াছিনের খোঁজে স্বজনদের আহাজারি (১০৮৮৭)ট্রেন দুর্ঘটনা : বি.বাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি ৪৪, রক্তের প্রয়োজন (৯৭৮৬)ব্রিটেনের নির্বাচনে পাকিস্তান-ভারত লড়াই! (৮৪৯৬)বাবরি মসজিদের স্থানে রাম মন্দির নির্মাণ নিয়ে হিন্দু সংগঠনগুলোতে প্রকাশ্য মতপার্থক্য ও বাকযুদ্ধ (৮১১২)গোসলের পর কাফন পরানো হলেও জানাজা হল না কিবরিয়ার (৭৮২৫)মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করায় গাম্বিয়াকে ঢাকার অভিনন্দন (৭৭৫৬)