১৯ নভেম্বর ২০১৯

দুর্নীতি প্রতিরোধে গণপূর্তের ১৪ অনুশাসন

-

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দুর্নীতি প্রতিরোধে ২০ দফা সুপারিশ দেয়ার পরপরই প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে বিভিন্ন দফতর ও সংস্থাগুলোর জন্য ১৪টি অনুশাসন দিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। গতকাল অনুশাসনগুলো অনুসরণের নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের গণপূর্ত অধিদফতর সরকারের বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের কাজ করে থাকে। এসব নির্মাণকাজের বেশির ভাগ টেন্ডার কোনো বিশেষ ব্যক্তিকে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গঠিত প্রাতিষ্ঠানিক টিম গণপূর্ত অধিদফতরের ১০টি দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করে এসব দুর্নীতি প্রতিরোধে ২০ দফা সুপারিশও করেছে। বুধবার এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের হাতে তুলে দেন দুদকের কমিশনার মোজাম্মেল হক খান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এই পরিপত্র জারি করে বলে জানা গেছে।
অনুশাসনের মধ্যে রয়েছেÑ নতুন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে যোগ্যতাসম্পন্ন তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা অর্থাৎ পরিবেশ, সামাজিক ও কারিগরি প্রভাব এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষণসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম আবশ্যিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দলিলপত্র সংযুক্ত করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।
স্থাপনা নির্মাণ-সংক্রান্ত প্রকল্পের ক্ষেত্রে কারিগরি পরীক্ষা যেমন- মাটি পরীক্ষা, সাইট নির্বাচন-সংক্রান্ত তথ্যাদি ডিপিপিতে সংযুক্ত করতে হবে। বিশেষ কারণ ছাড়া চলমান প্রকল্পের ব্যয়, মেয়াদ বৃদ্ধি, আন্তঃঅঙ্গ সমন্বয় এবং প্রকল্প সংশোধন করা যাবে না। জরুরি প্রয়োজনে মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার মাধ্যমে সরেজমিন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
প্রকল্পের ড্রয়িং ও ডিজাইন চূড়ান্ত করে মোট ব্যয় প্রাক্কলনের পর প্রকল্প অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াকরণ করতে হবে। এর আগে কোনো অবস্থায়ই ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো যাবে না। প্রকল্পের আইটেমের পরিমাণ এবং আইটেম অনুযায়ী প্রাক্কলিত ব্যয়ের সঠিকতা ও যথার্থতা সংস্থা প্রধান এবং সংস্থা প্রধানের মনোনীত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মাধ্যমে যৌথভাবে প্রত্যয়িত হতে হবে। প্রাক্কলনের সাথে রেট সিডিউল/বাজার মূল্যের অসামঞ্জস্যতা থাকলে সংস্থা প্রধানের মনোনীত কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া যাবে। ভেরিয়েশন, পুনঃকার্যাদেশ, অতিরিক্ত কার্যাদেশসহ এ ধরনের কার্যক্রম নিরুৎসাহিত করতে হবে। ক্ষেত্র বিশেষে যৌক্তিক কারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ভেরিয়েশন, পুনঃকার্যাদেশ, অতিরিক্ত কার্যাদেশ দেয়ার ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় নীতি যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবে প্রত্যয়ন সংযুক্ত থাকা বাধ্যতামূলক। বিদ্যমান বিধি-বিধান অনুযায়ী গঠিত অধিদফতর/সংস্থার পণ্য সংশ্লিষ্ট সেবা, কার্য ক্রয় সংক্রান্ত কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি নিয়মিতভাবে পুনর্গঠন করতে হবে।
প্রকল্পের আওতাভুক্ত কাজ/ক্রয়ের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে অবশ্যই মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে। প্রতিটি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সংশ্লিষ্ট প্রকল্প এলাকায় সার্বক্ষণিক অবস্থান করবেন এবং সংস্থা প্রধানরা বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। সংস্থা প্রধানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের সিনিয়র কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে প্রকল্প এলাকা আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক বা আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করবেন। চিহ্নিত সুনির্দিষ্ট অনিয়মসহ মন্ত্রণালয় বা সংস্থায় প্রতিবেদন পাঠাবেন। ক্রয়কারী কর্তৃপক্ষকে যোগ্যতাসম্পন্ন সরবরাহকারী বা ঠিকাদারের তালিকা সংরক্ষণ করতে হবে। প্রকল্প সাইটে সাইট অর্ডার বুকসহ প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজের সব নথি/ডকুমেন্ট যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। প্রকল্প সাইটের দৃশ্যমান স্থানে প্রকল্পের সমস্ত তথ্য সম্বলিত সাইন বোর্ড স্থাপন করতে হবে। প্রকল্পের আওতায় নির্মিত স্থাপনার উপকরণের গুণগত মান উপযুক্ত ল্যাবরেটরির মাধ্যমে নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে।

 


আরো সংবাদ