১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ

ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ - সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার যুদ্ধাপরাধ বলে বিবেচিত হতে পারে। ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর বারবার প্রাণঘাতী উদ্দেশে তাজা গোলাবারুদ ব্যবহার করেছে ইসরাইল।

জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে ইসরাইলের অতিরিক্ত বল প্রয়োগের নিন্দা জানাতে আনা এক ভোটাভুটি সামনে রেখে এইচআরডব্লিউ বিবৃতিতে বলছে, এসব বিক্ষোভকারী ইসরাইলিদের জীবনের প্রতি অনিবার্য কোনো হুমকি সৃষ্টি করেনি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পুরনো নাটকের পাতা উল্টে দেখার দরকার, যেখানে ইসরাইল তদন্ত চালিয়েছে যাতে মূলত তার সেনাদের দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে আর নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক দায় আটকে দিয়েছে। আর ফিলিস্তিনিদের জীবনের সত্যিকার মূল্য দেয়ার পরিবর্তে নির্লজ্জভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে।

ফিলিস্তিনের ভূমি দখল করে ১৯৪৮ সালের ১৫ মে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসরাইল নামের রাষ্ট্র। ১৯৭৬ সালের ৩০ মার্চ ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে ইহুদি বসতি নির্মাণের প্রতিবাদ করায় ছয় ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়। পরের বছর থেকেই ৩০ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত পরবর্তী ৬ সপ্তাহকে ভূমি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে ফিলিস্তিনিরা। এই বছরের কর্মসূচিতে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর চালানো গুলিতে শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ইসরাইল বরাবরই দাবি করে আসছে, বিক্ষোভকারীরা সীমান্ত বেড়া ভাঙার চেষ্টা চালালে গুলি চালিয়ে থাকে তারা।

এইচআরডব্লিউ’র মধ্যপ্রাচ্য পরিচালক সারাহ লিয়াহ হুইটসন বলেছেন, জীবনের প্রতি অনিবার্য কোনো হুমকি সৃষ্টি না করলেও ইসরাইল প্রাণঘাতী বল প্রয়োগ করায় প্রাণ এবং অঙ্গহানির ঘটনা বিপুল সংখ্যায় বেড়েছে।

গত ২ জুন নিরাপত্তা পরিষদে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় আনা কুয়েতের একটি প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ওই প্রস্তাবকে ব্যাপকভাবে এক তরফা বলে আখ্যা দেন জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি।


আরো সংবাদ