১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

বিবর্ণ দাঁতের চিকিৎসা

-

মানুষ সৌন্দর্যপিপাসু। অন্য দিকে সৌন্দর্যের পূজারিও বটে। সৌন্দর্যের প্রকাশ ঘটে প্রথমেই মুখাবয়ব থেকে। সেই মুখাবয়বে যদি থাকে ভাঙা ফাটা বিবর্ণ দাঁত, তাহলে একবার চিন্তা করুন সৌন্দর্যের অবস্থা তখন কেমন হবে? দাঁত হবে ঝকঝকে সাদা সুন্দরভাবে সজ্জিত। কিন্তু তা যদি হয় কালো বা গাঢ় ধূসর বর্ণের বা গাঢ় হলুদ থেকে বাদামি রঙয়ের! দাঁতের এই বিবর্ণ অবস্থা হতে পারে নানা কারণে যেমনÑ
১। দাঁতে পোকা লাগা বা ডেন্টাল ক্যারিজ থাকলে।
২ দীর্ঘ দিন আগে দাঁতে আঘাত লাগার ফলে দাঁতের মজ্জা মৃত হলে দাঁত কালচে হয়ে যায়।
৩। দাঁতে ফিলিংয়ের সময় ব্যবহৃত উপাদান যেমনÑ সিলভার ও কপার অ্যামালগাম কপার সিমেন্ট ইত্যাদি।
৪। ভুল পদ্ধতিতে রুট ক্যানেল করলে।
৫। গর্ভাবস্থায় টেট্রাসাইক্লিন জাতীয় ওষুধ সেবনের ফলে স্থায়ীভাবে দাঁত বিবর্ণ হয়। এতে দাঁত ধূসর হতে বেগুনি রঙ পর্যন্ত হতে পারে।
৬। জন্মগত ত্রুটির ফলে যেমনÑ ইরাইথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিস ইত্যাদি।
৭। ফ্লুরোসিসের ফলে দাঁত বিবর্ণ হয়।
৮। দাঁতের অভ্যন্তরীণ কিছু ক্ষয়ের জন্য দাঁত গোলাপি পর্যন্ত হতে পারে।
প্রতিকার ও চিকিৎসা
দাঁতে দাগ হওয়া আর দাঁত বিবর্ণ হয়ে যাওয়া দুটো দু’রকম ব্যাপার। দাঁতের উপরিভাগে যে দাগ থাকে তা সহজেই দূর করা যায় বিশেষ যন্ত্রপাতির সাহায্যে। অপর দিকে, বিবর্ণ দাঁত হলো দাঁতের অভ্যন্তরের সমস্যা। এটি যন্ত্রপাতির মাধ্যমে দূর করা সম্ভব নয়।
এবার জেনে নেয়া যাক এর সমাধান
প্রথমেই ডেন্টাল ক্যারিজ প্রতিরোধ করতে হবে। এ জন্য দাঁতে উপযুক্ত ফিলিং করিয়ে নেয়া যেতে পারে।
দীর্ঘ দিন আগে দাঁতে আঘাত লাগার ইতিহাস জানা এমন বিবর্ণ দাঁতে প্রথমেই এক্স-রে করে দেখতে হবে দাঁতের গোড়ায় কোনো পুংঃ বা ঃঁসড়ঁৎ বা জটিল কোনো সমস্যা আছে কি না। এসব ক্ষেত্রে দেখা যায়, যদি জটিল কোনো সমস্যা ধরা পড়ে তবে এপিসেকটমি করিয়ে নিতে হতে পারে। এটি দাঁতের একটি জটিল অপারেশন। অতঃপর রুট ক্যানেল শেষ করে বিবর্ণ দাঁতে ব্লিচ বা পোরসেলিন ক্যাপ করা যেতে পারে।
যদি দেখা যায়, টেট্রাসাইক্লিনের জন্য দাঁত বিবর্ণ হয়েছে এ ক্ষেত্রে একটি বা দু’টি নয়, মুখের বেশির ভাগ দাঁত বাদামি হলুদ থেকে বেগুনি বা নীলাভ পর্যন্ত হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে লেমিনেটিং ফিলিং করা যেতে পারে। এ ছাড়া পোরসেলিন ক্যাপও করিয়ে নেয়া যেতে পারে।
দাঁতের রঙ গোলাপি হয়ে যাওয়া দাঁতের একটি কঠিন সমস্যা। এতে দাঁতের অভ্যন্তরীণ ক্ষয়ের ফলে এমনটি হয়। এ ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতার মাধ্যমে রুট ক্যানেল শেষ করে ক্যাপ করতে হবে।
অনেক সময় বিবর্ণ দাঁতে ব্লিচিংয়ের মাধ্যমে দাঁতের হারানো সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব। ব্লিচ করলে দাঁতের ক্ষতি হয় না। তবে কিছু বদ অভ্যাস যেমনÑ পান, বিড়ি, সিগারেট, সুপারি ইত্যাদি পুরোপুরিভাবে দূর করতে হবে।
সুস্থ মাড়ি, ঝকঝকে সাদা সুস্থ দাঁত, সুন্দর হাসির চাবিকাঠি। আর সে জন্য চাই দাঁতের যথাযথ চিকিৎসা ও যতœ। সময় থাকতে দাঁতের যতœ নিন। মুখে দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা দিন।
লেখিকা : ডাইরেক্টর ও ডেন্টাল সার্জন, নাহিদ ডেন্টাল কেয়ার, ১১৭/১, এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা।
ফোন : ০১৭১২-২৮৫৩৭২


আরো সংবাদ




Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme