১৪ নভেম্বর ২০১৮

সেরা গোলের পুরস্কার জিতলেন সালাহ (ভিডিও)

মোহাম্মদ সালাহ - সংগৃহীত

লিভারপুলের মধ্যমণি মোহাম্মদ সালাহ। ক্লাবের হয়ে একের পর এক কীর্তি গড়ছেন। এবার মাসের সেরা গোলের পুরস্কার পেলেন তিনি। আগস্টে লিভারপুলের সেরা গোলটি ছিল তার। ব্রিজটন অ্যান্ড হোভ এলবিয়নের বিপক্ষে করা গোলটির জন্য এই পুরস্কার জিতলেন তিনি।

অনলাইনে ভোটের মাধ্যমে এটি নির্বাচন করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন সালাহ। দ্বিতীয় স্থানে ছলেন নেপোলির স্ট্রাইকার অ্যালবার্তো মরিনো।

চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের তৃতীয় ম্যাচে ক্রিস হজটনের শিষ্যদের বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে এ গোলটি করেন মিসরীয় রাজপুত্র।

উল্লেখ্য, গত মৌসুমে গোলের রেকর্ড গড়েছিলেন সালাহ। ৫২ ম্যাচে ৪৪ গোল করেছিলেন তিনি। আর চলতি মৌসুমেও চার ম্যাচে তার পা থেকে এসেছে দুই গোল।

দেখুন ব্রিজটন অ্যান্ড হোভ এলবিয়নের বিপক্ষে করা সালাহ'র গোলটি-

 

আরো পড়ুন : ক্ষুব্ধ সালাহ : মিসরের হয়ে খেলা অনিশ্চিত

মিসরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে এবার প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন দেশটির ফুটবল তারকা মোহাম্মদ সালাহ। জানিয়েছেন, টিম হোটেলের পরিবেশ ঝামেলা মুক্ত রাখা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধির বিষয়ে তার অনুরোধে সাড়া দেয়নি মিসরের ফুটবল কর্তারা। বিশ্বকাপের সময় রাশিয়ায় দলের ক্যাম্প নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। ফলে জাতীয় দলে সালাহর খেলা নিয়েই সৃষ্টি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

সোমবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও পোস্ট করেন মিসর ও লিভারপুল এফসির এই ফরোয়ার্ড। তাতে তিনি বলেন, জাতীয় দলে থাকার সময় টিম হোটেলের পরিবেশ যাতে নিরাপদ ও ঝামেলামুক্ত থাকে সেটি চেয়েছিলেন তিনি। সালাহ বলেন, ‘আমরা তো এমন বিশেষ কিছু চাইনি। হোটেলে শান্তিতে থাকার ব্যবস্থা চেয়েছি- যাতে সন্ধ্যা থেকে ভোর চারটা পর্যন্ত লোকজন এসে বিরক্ত না করে’।

কিছুদিন আগে তার আইনজীবীর মাধ্যমে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে মিসরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে একটি চিঠি দিয়েছিলেন মোহাম্মাদ সালাহ। যাতে হোটেলে ও হোটেলের বাইরে নিরাপত্তা বৃদ্ধির কথা ছিলো। সে বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট করা ভিডিওতে সালাহ বলেন, ‘হোটেল রুমে ঝামেলামুক্ত পরিবেশ চেয়েছিলাম। যখন তখন কেউ যাতে দরজায় টোকা না দেয়, যখন তখন কেউ যাতে রুমে প্রবেশ না করে।’

এর আগে গত রোবাবর সালাহ এক টুইটারে লিখেছেন, খেলোয়াড়দের এই বিষয়গুলো দেখা যে কোন ফেডারেশনের দায়িত্ব; কিন্তু দুঃখজনক যে আমি এমন কিছুই দেখিনি। বরং উল্টোটা দেখছি।

গত বিশ্বকাপের সময় মোহাম্মাদ সালাহর ইমেজকে নিজের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের চেষ্টা করেছেন চেচনিয়ার প্রাদেশিক প্রেসিডেন্ট রমজান কাদিরভ। প্রস্তুতি ক্যাম্প চলাকালে তিনি সালাহর সাথে ছবি তুলেছেন, সালাহকে চেচনিয়ার সম্মানসূচক নাগরিকত্ব দেন কাদিরভ। সমালোচনা আছে যে, সালাহকে ব্যবহার করে মুসলিম বিশ্বের কাছে নিজের হারানো ইমেজ উদ্ধারে চেষ্টা করেছেন কাদিরভ(এ বিষয়ে বিস্তারিত পড়তে এখানে ক্লিক করুন)। মিসর সরকার কাদিরভকে এই সুযোগ দিয়েছে বলে ভাবা হচ্ছে।

এই বিষয়গুলো নিয়ে পরবর্তীতে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে চিঠি দেন সালাহ। তারা কোন ব্যবস্থা নেয়া তো দূরের কথা, চিঠির কোন জবাবও দেয়নি। যার ফলে সালাহর এই ক্ষোভ।

এই পরিস্থিতিতে সালাহ মিসর জাতীয় দলের হয়ে আর খেলবেন কিনা তাই নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। আগামী মাসে আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের বাছাইপর্বে নাইজারের বিরুদ্ধে ম্যাচ থেকে সালাহ নিজেকে প্রত্যাহার করতে পারেন, এমনকি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তিও টানতে পারেন মিসরকে ৩০ বছর পর বিশ্বকাপে নেয়া এই তারকা।

সালাহর এজেন্ট রামি আব্বাস বলেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়’। মিসরের একজন ক্রীড়া সাংবাদিকের সূত্রে জানা যায়, মিসরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, সালাহর আর্ন্তজাতিক ফুটবলে বিরতি নেবেন কি না সে বিষয়ে তাদের কাছে জানতে চেয়েছে সালাহর ক্লাব লিভারপুল এফসি।

সূত্রটি বলছে, টিম হোটেলে ভিআইপি কিংবা স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের লোকদের যখন তখন যাওয়া বন্ধ করাসহ যেসব দাবি সালাহ করেছে তা মানবে না মিসরীয় ফুটবল কর্তারা। তবে যদি সত্যিই নিরাপত্তা বৃদ্ধির দাবি প্রত্যাখান করা হয়, সেপ্টেম্বরে মিসরের হয়ে সালাহর মাঠে নামা অনিশ্চিত হয়ে যাবে। (২৮ আগস্ট ২০১৮, প্রকাশিত সংবাদ)

 

আরো পড়ুন : সালাহ’র মাকে মিসরীয় ফুটবল সংস্থার হুমকি

এবার মিসরের ফুটবল স্টার মোহাম্মাদ সালাহর মা’কে হুমকি দিল দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। ফুটবল বিশ্বকাপের সময় হোটেলে অতিরিক্ত লোকের ভিড় ও ফুটবলারদের নিরাপত্তার ঘাটতির বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশনের প্রতি সালাহ’র ক্ষোভ প্রকাশের একদিন পরই এই ঘটনা ঘটলো। আলজাজিরা জানিয়েছে, দেশটির ফুটবল সংস্থার এক কর্মকর্তা হুমকি দিয়েছেন মিসরে বসবাসরত সালাহ’র মাকে উদ্দেশ্য করে।

খালেদ লতিফ নামে ইজিপশিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের একজন বোর্ড মেম্বার সালাহ’কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, সে হয়তো দেশে থাকে না, কিন্তু তার মা তো থাকে! ওই কর্মকর্তা টুইটারে লিখেছেন, ‘আমি সালাহকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, আপনার মা এখনো মিসরে বাস করে। আপনি বিদেশে তাই যা ইচ্ছে বলতে পারেন। যারা বোঝে, এ থেকেই বুঝে নেবে’।


ইংল্যান্ডের পেশাদার ফুটবল ক্লাব লিভারপুল এফসির হয়ে খেলার কারণে দেশটির লিভারপুল শহরেই স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে বসবাস করেন সালাহ। তবে তার মা থাকেন নিজ দেশ মিসরে। ওই কর্মকর্তার মন্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, সালাহকে না পেলেও তারা সালাহর মাকে যে কোন মূহুর্তে পাবেন সেটিই বোঝাতে চেয়েছেন। এটি স্পষ্টতই হুমকি।

মিসরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে সেনা প্রধান আবদুল ফাতাহ সিসি ক্ষমতা দখল করার পর দেশটিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ ও ভিন্নমতের ওপর চলছে ব্যাপক দমন-নীপিড়ন। ওই কর্মকর্তার কথাতেও যার ইঙ্গিত স্পষ্ট।

একদিন আগে সালাহ নিজের ফেসবুক পেজে গত বিশ্বকাপের সময় দলের হোটেলের পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এক মাস আগে এ বিষয়ে তিনি চিঠি দিয়েছিলেন মিসরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে। তারা এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেয়া তো দূরের কথা, চিঠির কোন প্রতিক্রিয়াও জানায়নি। এরপরই তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এই তারকা ফুটবলার বলেন, আমাদের খুব বেশি চাওয়া ছিলো না। হোটেল শান্তিতে ঘুমাতে চাই, যাতে যখন তখন কেউ বিরক্ত না করে। আর ফুটবলারদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করার দাবি ছিলো।

এছাড়া সালাহর ইমেজ ব্যবহার করে রাশিয়ার চেচনিয়া প্রদেশের প্রেসিডেন্ট রমজান কাদিরভ যে রাজনীতি করতে চেয়েছেন সেখানেও মিসরীয় কর্মকর্তাদের দায় ছিলো বলে মনে করা হয়।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের গত মৌসুমের সেরা খেলোয়াড় মোহাম্মাদ সালাহ পুরো ফুটবল বিশ্বেরই সেরা তারকাদের একজন। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পর মিসর জাতীয় দলের হয়ে তার খেলার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। (২৯ আগস্ট ২০১৮, প্রকাশিত সংবাদ)

দেখুন:

আরো সংবাদ