১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আঞ্চলিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশ ও নেপালের প্রধানমন্ত্রী

আঞ্চলিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশ ও নেপালের প্রধানমন্ত্রী - সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে জোর দিয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার সকালে কাঠমান্ডু পৌঁছানোর পর হোটেল সোয়ালটি ক্রাউনি প্লাজায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির বৈঠক হয়।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুই প্রধানমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।’

বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী সাত দেশের জোট বিমসটেকের চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে দুই দিনের সফরে বৃহস্পতিবার নেপালে পৌঁছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৈঠকে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে নেপালের সহযোগিতার কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে দারিদ্র দূরীকরণ। আমরা শুধু নিজেরাই উন্নত দেশ হতে চাই না। আমরা চাই, আমাদের প্রতিবেশীরাও উন্নত হোক।’

এসময় নেপালকে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবহারের যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সে বিষয়টি তুলে ধরেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ তার অভিজ্ঞতা নেপালের সাথে বিনিময় করতে পারে বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। ইহসানুল করিম বলেন, ‘নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সহযোগিতার সুযোগের জায়গাগুলো খুঁজে বের করতে হবে’।’

শেখ হাসিনা বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দেওয়ায় নিজের খুশির কথাও জানান ওলি। বিদ্যুৎ সহযোগিতা বাড়াতে নেপালের সাথে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছে বাংলাদেশ; যার মধ্য দিয়ে নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে। এই সমঝোতার আওতায় নেপাল থেকে ভারত হয়ে জলবিদ্যুৎ আমদানি ছাড়াও বাংলাদেশের সরকারি বা বেসরকারি কোম্পানির নেপালের বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের বিষয়গুলোও রয়েছে।

দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে নেপাল থেকে বাংলাদেশের জলবিদ্যুৎ নেওয়ার বিষয়টি আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রেস সচিব। এছাড়া বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, ভারতের মধ্যে আঞ্চলিক কানেকটিভিটি বাড়ানোর বিষয়েও শেখ হাসিনা গুরুত্বারোপ করেছেন। বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র সচিব উপস্থিত ছিলেন।

নেপালের প্রধানমন্ত্রীর পর শেখ হাসিনার সাথে বৈঠক করেন ভুটানের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা দাশো শেরিং ওয়াংচুক। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পারিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানান প্রেস সচিব।

বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী সাত দেশের জোট বিমসটেকের চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে দুই দিনের সফরে বৃহস্পতিবার সকালে নেপালে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জোটভুক্ত সাত দেশের নেতারা বিকালে কাঠমান্ডুতে এই সম্মেলনে অংশ নেবেন। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ঠিক হয়েছে ‘শান্তির, সমৃদ্ধির, টেকসই বে অব বেঙ্গলের লক্ষ্যে’। 

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৮ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাকে স্ট্যাটিক গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান নেপালের উপ-প্রধানমন্ত্রী ঈশ্বর পোখারেল এবং নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস।

প্রধানমন্ত্রীকে মোটর শোভাযাত্রা করে বিমানবন্দর থেকে নিয়ে যাওয়া হয় হোটেল সোয়ালটি ক্রাউনি প্লাজায়। এই সফরে তিনি সেখানেই থাকছেন। এই হোটেলেই বিকেলে উদ্বোধন হবে বিমসটেকের চতুর্থ  শীর্ষ সম্মেলন।

প্রধানমন্ত্রী হোটেলে পৌঁছানোর পর নেপাল ও ভুটানের সরকার প্রধানের সঙ্গে বৈঠকের পর নেপালের রাষ্ট্রপতির বাসভবন শীতল নিবাসে যান। সেখানে বিমসটেকের সদস্য দেশগুলোর নেতাদের সাথে নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভান্ডারির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং অতিথিদের সন্মানে রাষ্ট্রপতির দেয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন শেখ হাসিনা।

বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন বা বিমসটেক হল বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী সাত দেশের একটি জোট।

বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড ১৯৯৭ সালে ব্যাংকক ঘোষণার মধ্য দিয়ে এ উদ্যোগের সূচনা করে। পরে মিয়ানমার, নেপাল ও ভুটান বিমসটেকে যোগ দেয়।

ভৌগলিকভাবে দক্ষিণ এশিয়াকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাথে যুক্ত করেছে বিমসটেক, কাজ করছে সার্ক ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃআঞ্চলিক সহযোগিতার একটি সেতুবন্ধ হিসেবে। 

প্রধানমন্ত্রীর নেপাল সফর সামনে রেখে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বুধবার ঢাকায় এক ব্রিফিংয়ে বলেন, সম্মেলন অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আলাদা বৈঠক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেখানে দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার সুযোগ হবে।

শাহরিয়ার আলম বলেন, সম্মেলনের উদ্বোধনে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর স্বাগত বক্তব্যের পরপরই বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


আরো সংবাদ