film izle
esans aroma Umraniye evden eve nakliyat gebze evden eve nakliyat Entrumpelung wien Installateur Notdienst Wien
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

রাজশাহী পলিটেকনিক ছাত্রলীগের ১৬ নেতাকর্মী শাস্তি পাচ্ছে অধ্যক্ষকে পানিতে ফেলার ঘটনা

-

রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত এবং তুলে নিয়ে পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়ার ঘটনায় ইনস্টিটিউটের চার শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ইনস্টিটিউটের একাডেমিক কাম প্রশাসনিক পরিষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে চার শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কার, পাঁচ শিক্ষার্থীর মূল সনদপত্র আগামী তিন বছর আটকে রাখা এবং সাত শিক্ষার্থীকে টিসি (ট্রান্সফার সার্টিফিকেট) দিয়ে অন্য কোনো ইনস্টিটিউটে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হওয়া এসব ছাত্রের সবাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। এরই মধ্যে এসব সিদ্ধান্ত কার্যকরের জন্য কারিগরি শিক্ষা বোর্ডসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে রাজশাহী পলিটেকনিকে রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দল ও পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা চেয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মিডটার্মে ফেল ও ক্লাসে অনুপস্থিত থাকা দুই শিক্ষার্থীকে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ দিতে অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে চাপ দেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে গত ২ নভেম্বর কার্যালয়ে অধ্যক্ষের সাথে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। এরই জেরে ওই দিন দুপুরে অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করার পর জোর করে টেনেহিঁচড়ে ক্যাম্পাসের একটি পুকুরের পানিতে ফেলে দেয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে মামলা করেন অধ্যক্ষ। এতে আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫০ জনকে আসামি করা হয়। এ নিয়ে সারা দেশে সমালোচনা শুরু হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রলীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে সংগঠনটি।
এ দিকে অধ্যক্ষকে পুকুরে ফেলে দেয়ার ঘটনায় ওই সময় ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গত ৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত অ্যাকাডেমিক কাম প্রশাসনিক পরিষদের সভায় তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব মুস্তাফিজুর রহমান তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এই কমিটির দেয়া প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ওই সভায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বর্তমানে এসব সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে কার্যকর হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে ইনস্টিটিউটের একটি সূত্র জানিয়েছে।
সভায় যাদের ছাত্রত্ব বাতিল বা রেজিস্ট্রেশন বাতিলের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে তারা হলোÑ ঘটনার মূল হোতা ইনস্টিটিউট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত যুগ্ম সম্পাদক, ২০১৫-১৬ সেশনের কম্পিউটার বিভাগের অষ্টম পর্বের শিক্ষার্থী কামাল হোসেন ওরফে সৌরভ, একই সেশনের ইলেকট্রো মেডিক্যাল বিভাগের সপ্তম পর্বের শিক্ষার্থী রায়হানুল ইসলাম, ২০১৭-২০১৮ সেশনের ইলেকট্রনিক্স বিভাগের পঞ্চম পর্বের ছাত্র মুরাদ হোসেন ও ২০১৮-২০১৯ সেশনের মেকানিক্যাল বিভাগের তৃতীয় পর্বের শিক্ষার্থী সাজিব হোসেন।
সরাসরি ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করা পাঁচ শিক্ষার্থীর মূল সনদপত্রসহ অনান্য কাগজপত্র আগামী তিন বছরের জন্য আটকে রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এরা হলোÑ ২০১৫-২০১৬ সেশনের ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের কৌশিক জামান ওরফে বনি, ইলেকট্রো মেডিক্যাল বিভাগের সালমান রহমান ওরফে টনি, পাওয়ার বিভাগের সাব্বির অহম্মেদ, মেকাট্রনিক্স বিভাগের হাসিবুল হাসান ও কম্পিউটার বিভাগের মারুফ হোসেন।
এ ছাড়াও পরোক্ষভাবে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার দায়ে সাত শিক্ষার্থীকে অন্যত্র বদলি করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এরা হলো, ২০১৫-২০১৬ সেশনের পাওয়ার বিভাগের ষষ্ঠ পর্বের (অকৃতকার্য) নাঈম ইসলাম, ২০১৬-২০১৭ সেশনের ইলেকট্রনিক্স সপ্তম পর্বের প্লাবন কুমার কু ু, মেকাট্রনিক্স সপ্তম পর্বের মেহেদী মাহমুদ, মেকানিক্যাল বিভাগের সপ্তম পর্বের মেহেদি হাসান, ২০১৭-১৮ সেশনের ইলেকট্রনিক্স বিভাগের পঞ্চম পর্বের ওমর আজিজ, ২০১৮-২০১৯ সেশনের তৃতীয় পর্বের কম্পিউটার বিভাগের মাহবুবুর রহমান ও পাওয়ার তৃতীয় পর্বের মাসুদ রানা মীম।
তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতি চলমান রেখে সুষ্ঠুভাবে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালানো অসম্ভব। এ কারণে আগামী পাঁচ বছর এখানে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া ছাত্রলীগের টর্চারসেল হিসেবে পরিচিত কক্ষটি ভেঙে ছাত্র কমনরুম বৃদ্ধিরও সুপারিশ করা হয়েছে।
ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এসব সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাননি। তবে তিনি জানান, বর্তমানে এখানকার শিক্ষার পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই সাথে বিনা পোশাকে কাউকে ক্যাম্পাসে প্রবেশের বিষয়েও কঠোরতা অবলম্বন করা হচ্ছে। রাজশাহী মহানগর পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মামলাটি প্রথমে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ তদন্ত করছিল। পরে সেটি ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাহবুব হাসান জানান, ঘটনার মূল হোতা সৌরভসহ এজাহারভুক্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার হয়েছে। এ ছাড়া এজাহারের বাইরে থাকা আরো ১৩ জন গ্রেফতার রয়েছে। মামলাটি তদন্ত চলছে। অন্য অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


আরো সংবাদ