১৮ মে ২০২৪, ০৪ জৈষ্ঠ ১৪৩১, ০৯ জিলকদ ১৪৪৫
`


জাদুমাখা কণ্ঠের বিখ্যাত সেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কারীর ইন্তেকাল, কাঁদছেন অসংখ্য ভক্ত (ভিডিও)

কারী শায়খ আব্দুল্লাহ কামেল রহ: - ছবি : সংগৃহীত

‘এমন জীবন তুমি করিবে গঠন/মরণে হাসিবে তুমি কাঁদিবে ভুবন।’- এই প্রবাদের বাস্তবতা ফের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন মিসরের বিখ্যাত সেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কারী শায়খ আব্দুল্লাহ কামেল। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে মহান প্রতিপালকের ডাকে সাড়া দিয়েছেন তিনি।

তার মৃত্যুতে কাঁদছেন বিশ্বব্যাপী তার অসংখ্য ভক্ত ও অনুসারী। জন্ম থেকে দৃষ্টিহীন জাদুমাখা কণ্ঠের এই কারী ৩৮ বছর বয়সে ইন্তেকাল করলেন। তিনি দেশটির নিউইয়র্কের ব্রকলিনের একটি মসজিদে রমজানে তারাবির নামাজের ইমামতি করেছেন। তারাবিতে তার তেলাওয়াতের বেশ কিছু অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যার প্রতি অনলাইনে সক্রিয়রা বিশেষভাবে আকৃষ্ট হন।

শায়খ আব্দুল্লাহ কামেলের বন্ধু হাফিজ ওমর হাফিজ বলেন, আমরা একসাথে আজ ফজরের নামাজ আদায় করি। এরপর জোহর পর্যন্ত আমি ও তিনি একসাথে কাটাই। আমাদের এই বৈঠক অন্যান্য সময়ের তুলনায় ভিন্ন ছিল; নানাধরনের স্মৃতিচারণ করেছিলাম আমরা।

তিনি আরো বলেন, আমরা আজ বৈঠকে হেসেছি-কেঁদেছি। এ সময় শায়খ আব্দুল্লাহ কামেল সূরা তাকবির প্রসঙ্গ ওঠালেন এবং বেশ কান্না করলেন। জোহরের সময় হলে আমাকে ইমামতি করতে বললেন কিন্তু আমি না গিয়ে তাকেই জোরকরে সামনে এগিয়ে দিলাম। নামাজ তিনিই পড়ালেন।

ওই বন্ধু বলেন, নামাজ শেষে সামান্য বিশ্রামের পর যখন আমরা উঠে যাচ্ছিলাম, তখন তিনি আর উঠলেন না। আসলে সেটা ছিল তার জীবন সায়াহ্ন। আমি যখন তাকে ওঠানোর জন্য গেলাম, ততক্ষণে তিনি তার প্রতিপালকের ডাকে সাড়া দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, শায়খ আব্দুল্লাহ কামেল ১৯৮৫ সালে মিসরের ফাইয়ুম গভর্নরেটে জন্মগ্রহণ করেন। জন্ম থেকেই তিনি দৃষ্টিহীন। খুব অল্প বয়সে ব্রেইল পদ্ধতিতে পবিত্র কুরআনে কারিম হিফজ করেন। ফাইয়ুম ইউনিভার্সিটি থেকে ২০০৫ সালে স্নাতক হন। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক একটি কুরআন প্রতিযোগিতায় তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন। আরবি শের-আশআরের প্রতিও তিনি আকৃষ্ট ছিলেন। লিখেছেন বেশকিছু শের। কুরআনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে সফর করেছেন শায়খ আব্দুল্লাহ কামেল। এজন্য তিনি ‘সাফিরুল কুরআন’ তথা কুরআনের দূত খ্যাতি পান।

সূত্র : আলজাজিরা


আরো সংবাদ



premium cement