০৭ এপ্রিল ২০২০

অবিলম্বে সিনেটে বিচার শুরুর দাবি ট্রাম্পের

ডোনাল্ড ট্রাম্প - ছবি : বিবিসি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিনেটে তার অভিশংসনের বিচার অবিলম্বে শুরু করার দাবি জানিয়েছেন। এই বিচার নিয়ে ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকানদের মধ্যে চলমান অচলাবস্থার মধ্যে তিনি এমন দাবি জানালেন।

কখন এই বিচার শুরু হতে পারে, তা এখনো বলা যাচ্ছে না।

বুধবার নিম্নকক্ষে ট্রাম্পকে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কংগ্রেসের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে অভিশংসন করা হয়।

রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেট সাক্ষীদের প্রত্যাখ্যান করছে এবং এ কারণে সুষ্ঠু বিচার হবে না, এমন যুক্তিতে ডেমোক্র্যাটরা এই কার্যক্রম শুরু করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। এর ফলে সিনেটে ট্রাম্পের খালাস পাওয়া প্রায় নিশ্চিত।

অভিশংসন প্রক্রিয়াটি এরই মধ্যে বিষাক্ত হয়ে উঠেছে এবং প্রায় সম্পূর্ণ দলীয় লাইনে ভাগ হয়ে গেছে।

বুধবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ আনতে ভোট দিয়েছে নিম্নকক্ষ।

সেগুলো হল, ট্রাম্প তার ডেমোক্র্যাটিক প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেন এবং তার ছেলে হান্টারের ব্যাপারে ক্ষতিকারক তথ্য অনুসন্ধানের জন্য ইউক্রেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন এবং এই বিষয়ে কংগ্রেসের তদন্তে সহযোগিতা করতে অস্বীকার করেছিলেন।

ট্রাম্প কী বলেছেন?
একাধিক টুইটের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেছেন যে তাদের ‘মামলাটি এত খারাপ’ বলেই তারা বিচারের দিকে যেতে চাইছেন না।

তিনি টুইট করেন: ‘ডেমোক্র্যাটরা নিম্নকক্ষে আমাকে কোনো যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ্যে যেতে দেননি। কোনো আইনজীবী, কোনো সাক্ষী, কিছুই নেই, এরপরও তারা এখন সিনেটকে বলতে চান যে কীভাবে তাদের বিচার চালাতে হবে। আসলে, তাদের কোনো বিষয়ে কোনো প্রমাণ নেই, এমনকি তারা কখনো সামনেও আসবে না। তারা এই বিচার হোক চায় না। আমি অবিলম্বে এর বিচার চাই!’

প্রেসিডেন্ট বলেছেন, অভিশংসন প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিয়েছেন যিনি- সেই অ্যাডাম শিফ, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, তার ছেলে এবং সিআইএ- এর হুইসেল ব্লোয়ার-- এদের কাউকেই সাক্ষী হিসেবে ডাকতে চাইছে না ডেমোক্র্যাটরা।

বিচার শুরুর বিষয়ে কেন অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে?
অভিশংসনের বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার জন্য ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত নিম্নকক্ষকে অবশ্যই অভিশংসন সংক্রান্ত আর্টিকেল সিনেটে পাঠাতে হবে।

তবে সিনেটের বিচারের নিয়ম-কানুন ডেমোক্র্যাটদের কাছে গ্রহণযোগ্য না হওয়া পর্যন্ত তা করতে অস্বীকার করছেন নিম্নকক্ষের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি।

সিনেটের রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেল এই বিচারের শর্তাবলী নির্ধারণ করবেন এবং ডেমোক্র্যাটরা চাইছেন তিনি যেন তাদেরকে এ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য, যেমন কোন সাক্ষীদের উপস্থিত করা হবে এবং কোনো ধরণের সাক্ষ্য গ্রহণের অনুমতি দেয়া হবে সেগুলোর বিবরণ সরবরাহ করেন।

ম্যাককনেল তাদেরকে সহযোগিতা করতে অস্বীকার করেছেন।

ডেমোক্র্যাটদের সাথে সংক্ষিপ্ত বৈঠকের পরে সিনেটের সংখ্যালঘু দলের নেতা চাক শুমারের বলেছেন, ‘আমরা একটি অচলাবস্থায় রয়েছি।’

সিনেটের হিসেব-নিকেশ আসলে ম্যাককনেলের পক্ষে। ১০০ আসনের সিনেটে ৫৩ জন রিপাবলিকান সদস্য রয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বিচারে দোষী করে তার পদ থেকে সরাতে হলে সিনেটে অন্ততপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হবে।

ম্যাককনেল এই অভিশংসন প্রক্রিয়াটিকে ইতিহাসের ‘সবচেয়ে বেশি তাড়াহুড়ো করে করা, খুব কম তদন্তের ভিত্তিতে এবং সবচেয়ে পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে অভিহিত করেছেন।

বিচার শুরু হওয়ার পরে দুই দলের মধ্যে যে কী তীব্র ধরণের হিংসা-বিদ্বেষ শুরু হবে, সেই ইঙ্গিত রয়েছে তার কথায়।

ডেমোক্র্যাটরা আশা করছে, বিচার বিলম্বিত করলে তা একটি পূর্ণাঙ্গ বিচারের পক্ষে জনমত জোরালো করবে। একইসাথে অভিযোগ থেকে দ্রুত খালাস পাওয়ার সুযোগও তিনি পাবেন না।

ডেমোক্র্যাটরা চাইছেন যে, হোয়াইট হাউজের বর্তমান ও সাবেক মিলিয়ে কমপক্ষে চারজন সহযোগীকে সাক্ষী হিসেবে রাখতে, যাদের ইউক্রেনের ঘটনার বিষয়ে বিশদ জ্ঞান রয়েছে।

তারা বলছেন, বিচারটি সুষ্ঠু হতে হবে। কিন্তু ম্যাককনেলের মন্তব্যে বোঝা যাচ্ছে এমনটি করার কোনো পরিকল্পনা তার নেই।

প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে কিসের অভিযোগ?
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ, জো বাইডেন ও হান্টার বাইডেনের ব্যাপারে তদন্ত শুরু না করা পর্যন্ত তিনি ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেয়া আটকে দেন। কংগ্রেস ৪০ কোটি ডলারের এই সহায়তা অনুমোদন করেছিল।

তিনি ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্টের সাথে হোয়াইট হাউসে একটি বৈঠকও বাতিল করে দিয়েছিলেন।

জো বাইডেন যখন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন তখন তার ছেলে হান্টার ইউক্রেনের একটি প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করেছিলেন।

ডেমোক্র্যাটরা বলেছেন, এটি প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার অপব্যবহার। ব্যক্তিগত রাজনৈতিক লাভের জন্য তিনি তার পদকে ব্যবহার করছেন এবং জাতীয় সুরক্ষাকে হুমকির মুখে ফেলেছেন।

এছাড়া কংগ্রেসের তদন্তে সহযোগিতা করতে অস্বীকার করার মাধ্যমে ট্রাম্প কংগ্রেসের কাজে বাধার সৃষ্টি করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র : বিবিসি


আরো সংবাদ