০১ মার্চ ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০, ১৯ শাবান ১৪৪৫
`

পাকিস্তান : কারা তাদের সাহস যোগাচ্ছে, প্রশ্ন পিটিআইর

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) বর্তমান চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গহর খান - ছবি : বিবিসি

পাকিস্তানের নির্বাচনে পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণার আগেই পাকিস্তান মুসলিম লিগ (এন) নেতা নওয়াজ শরিফ নিজেদের বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) বর্তমান চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর খান।

এ সময় তিনি ‘জনগণের প্রত্যাখ্যান’ করা ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন।

সোমবার পাকিস্তানের স্থানীয় একটি গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন ব্যারিস্টার গওহর খান।

ব্যারিস্টার গওহর খান বলেন, জনগণ পক্ষে রায় দেয়ার পরও তাদের কাছ থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে এই ব্যবস্থার ভুক্তভোগী বানানো হয়েছে। এমন একজন ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে, যাকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে।’

পাকিস্তানের এবারের নির্বাচনে কোনো দল সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। জোটগতভাবে সরকার গঠনের চেষ্টা করছেন পাকিস্তান মুসলিম লিগের নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ।

তবে নির্বাচনে নওয়াজ শরিফকে কারচুপি করে জেতানো হয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছে পিটিআই।

পিটিআইয়ের সমর্থনে লাহোরে নওয়াজ শরিফের বিরুদ্ধে নির্বাচনে দাঁড়ানো ইয়াসমিন রশিদ এরই মধ্যে নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তনের অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়াও শুরু করেছেন।

এদিকে, পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণার আগেই নওয়াজ শরিফ তার দলকে যেভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেছেন, সেটি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ব্যারিস্টার গওহর খান।

‘তিনি যখন বিজয়ী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, তখন তার দলের ৫০টিও আসন ছিল না,’ বলেন গওহর খান।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘তাহলে তারা কেন এমন একটি ঘোষণা দিয়ে বসলো? কারা তাদের সাহস যোগাচ্ছে? কারা তাদেরকে এই পথ দেখাচ্ছে?’

পাকিস্তান মুসলিম লিগের (পিএমএলএন) নেতা নওয়াজ শরিফের প্রতি সেদেশের সেনাবাহিনীর সমর্থন রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এবারের নির্বাচনে নওয়াজ শরীফের দল ৭৫টি আসন পেয়েছেন।

অন্যদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, যিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন, তার সমর্থকরা ৯৩টি আসনে জয়লাভ করেছেন।

কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে সরকার গঠন করতে পারছেন না তারা।

এ অবস্থায় বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) সাথে সমঝোতা করে জোট সরকার গঠন করার পরিকল্পনা করছেন নওয়াজ শরিফ।

এরমধ্যেই ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ শুরু করেছে পিটিআই-সহ আরো কয়েকটি রাজনৈতিক দল।

পিটিআই দাবি করেছে যে, কমপক্ষে ১৮টি আসনের ফলাফলের ক্ষেত্রে ভোট কারচুপি করা হয়েছে।

‘কোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে আমাদের বিরোধ নেই। আমরা আমাদের সাংবিধানিক ভূমিকা পালন করছি এবং অন্যদেরও সাংবিধানিক ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়ে আসছি,’ পাকিস্তানের স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন ব্যারিস্টার গওহর খান।

দেশ, গণতন্ত্র এবং অর্থনীতির স্বার্থে পিটিআই সামনে এগিয়ে যেতে চায় বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এক্ষেত্রে প্রয়োজনে জাতীয় পরিষদের অন্যসব দলের সাথে পিটিআই সংলাপে বসতেও প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন গওহর খান।

পিটিআইয়ের বিক্ষোভ
‘ভোট কারচুপি’র প্রতিবাদে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের বাইরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করার জন্য দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গহর খান।

নেতার ডাকে সাড়া দিয়ে পিটিআই কর্মীরা রোববার রাওয়ালপিন্ডিতে বিক্ষোভও পালন করেছে।

বিক্ষোভকারীরা রাওয়ালপিন্ডিতে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন ভবনের দিকে যেতে চাইলে তাদের বাধা দেয়া হয়।

তারা যেন কোনোভাবেই নির্বাচন কমিশন ভবনের দিকে যেতে না পারে, সেজন্য ভবনের ঢোকার রাস্তায় কাঁটাতার এবং বড় ট্রাক দিয়ে অবরোধ করে রেখেছিল পুলিশ।

ফলে বিক্ষোভকারীদের কেউই শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন ভবনে ঢুকতে পারেনি।

তবে কয়েক শ’ বিক্ষোভকারী আশপাশের রাস্তায় জড়ো হয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে স্লোগান দিতে থাকে।

এ অবস্থায় কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার পুলিশ তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

শুনানির জন্য বেঞ্চ গঠন
পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে ভোট কারচুপির যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেটি অস্বীকার করেছেন পাকিস্তানের নির্বাচনী কর্মকর্তারা।

সরকার শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছতার সাথে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন দেশটির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তথ্যমন্ত্রী মুর্তজা সোলাঙ্গী।

‘নির্বাচন যে স্বচ্ছ হয়েছে, ফলাফলই সেটি প্রমাণ করে দিচ্ছে,’ বলেন তিনি।

তারপরও যেসব প্রার্থী অভিযোগ করছেন, তাদের কথা শুনতে দু’টি আলাদা বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

ভোট কারচুপির বিষয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৬৭টি অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন কমিশনের কর্মকর্তারা।

এর মধ্যে পাঞ্জাব ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের নির্বাচন কমিশন দফতরে ২৯টি আবেদনের শুনানি পরিচালনা করা হবে।

অন্যদিকে, বেলুচিস্তান ও সিন্ধু প্রদেশের কর্মকর্তারা ৩৮টি আবেদনের শুনানি পরিচালনা করবেন বলে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, পিটিআই সমর্থিত অন্তত ছয় জনপ্রার্থী, যারা এবারের নির্বাচনে জিততে পারেনি, তারা নিজেদের আসনের ফলাফল পরিবর্তনের জন্য আদালতে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

এরইমধ্যে নির্ধারিত ফর্মে নির্বাচনী ভোট কারচুপির অভিযোগ দাখিল করেছেন তারা।

সূত্র : বিবিসি


আরো সংবাদ



premium cement