২৮ মে ২০২৩, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ০৭ জিলকদ ১৪৪৪
`

প্রাণের বন্ধু সারস পাখিকে হারালেন আরিফ

প্রাণের বন্ধু সারস পাখিকে হারালেন আরিফ। - ছবি : সংগৃহীত

ভারতে উত্তর প্রদেশের মোহাম্মদ আরিফ নামের এক ব্যক্তি একটি আহত সারস পাখিকে সেবাশুশ্রূষা করে ভালো করে তুলেছিলেন। কর্তৃপক্ষ এখন সেই সারস পাখিটি জব্দ করে নিয়েছে।

কৃষক মোহাম্মদ আরিফ পাখিটিকে সুস্থ করে তোলার পর তাদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। সেই খবর সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হয়ে ওঠার পর কর্তৃপক্ষ বিরল প্রজাতির ওই পাখিটিকে তাদের হেফাজতে নিয়ে যায়।

উত্তর প্রদেশের কর্মকর্তারা সংরক্ষিত প্রজাতির সারসটিকে বন্য প্রাণীদের অভয়ারণ্যে স্থানান্তরিত করেছে।

এক বছর আগে আরিফ তার ক্ষেতে আহত পাখিটিকে খুঁজে পান। তখন তিনি বলেছিলেন, তিনি আশা করেছিলেন পাখিটি সুস্থ হয়ে উঠলে বনে উড়ে চলে যাবে, কিন্তু সে যায়নি।

খবরে বলা হয় যে সারসটিকে অভয়ারণ্যে নিয়ে যাওয়ার এক দিন পরেই পাখিটি সেখান থেকে উড়ে পালায়, যদিও অভয়ারণ্যের কর্মকর্তারা এ খবর অস্বীকার করেছেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, গ্রামবাসীরা সারস পাখিটিকে খুঁজে পায়। তারা একটি সারস পাখিকে খাওয়াচ্ছে, ভাইরাল হওয়া এমন একটি ভিডিওতে এমনটা দেখা যায়। কিন্তু কর্মকর্তারা এই খবর অস্বীকার করে বলেন, সারসটিকে যে সামাসপুর অভয়ারণ্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সারসটি ‘তার চৌহদ্দির মধ্যে’ সর্বক্ষণ ছিল।

অভয়ারণ্যের কর্মকর্তা রূপেশ শ্রিবাস্তব জানান, ‘সারস পাখিটি কোনো ঘরের মধ্যে আটক রাখা ছিল না। সে নিজেই বাইরে তার খাবার খুঁজে খাচ্ছিল। আমরাও তাকে গম, রুটি আর পানি দিচ্ছিলাম।’

‘আমি বন্যপ্রাণী আইন জানি না’
ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যে সারস পাখি আছে কমপক্ষে ১৭ হাজার। ওই রাজ্যের ‘জাতীয় পাখি’ হলো সারস। ভারতীয় আইনের অধীনে কোনো ব্যক্তির সারস পাখি পোষা বা ঘরে রাখা বা এমনকি তাকে খেতে দেয়াও বেআইনি।

কৃষক মোহাম্মদ আরিফ বলেন, কর্মকর্তারা মঙ্গলবার তার বাসায় যায় এবং জানায় সারসটিকে তিনি আর নিজের কাছে রাখতে পারবেন না। কর্মকর্তারা জানান সারসটি জব্দ করে নিয়ে যাওয়ার জন্য বন্যপ্রাণী অধিদফতর তাদের আদেশ দিয়েছে।

আরিফ বলেন, ‘আমি বন্যপ্রাণী আইন বিষয়ে কিছু জানি না। আমি একজন কৃষক। কিন্তু আমি যদি পাখিটিকে খাঁচার ভেতর বন্দি করে রাখতাম, তাকে বেঁধে রাখতাম এবং তাকে কোথাও যেতে না দিতাম, তাহলে আমি বুঝতাম যে বনবিভাগ কেন তাকে আমার কাছ থেকে নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু আপনি দেখেছেন যে পাখিটি মুক্ত অবস্থায় থাকত, নিজের ইচ্ছায় উড়ে বেড়াত, যেখানে যেতে চাইত যেত। আপনি কি কখনো দেখেছেন যে আমি সারসটির চলাফেরা বাধাগ্রস্ত করেছি, তাকে আটকে রেখেছি?’

আরিফ ব্যাখ্যা করেছিলেন যে তিনি ভেবেছিলেন সারসটির ক্ষত সেরে গেলে, সে সুস্থ হয়ে উঠলে সে উড়ে চলে যাবে। কিন্তু পাখিটি যে যায়নি, শুধু তাই নয়, পাখিটি প্রায় কখনোই তার কাছ-ছাড়া হয়নি।

তিনি বলেন, ‘কোনো কোনো দিন সে উড়ে চলে যেত, কিন্ত সব সময় সূর্যাস্তের আগেই বাড়ি ফিরে আসত।

আরিফ জানান, যে গাড়িতে করে সারসটিকে সামাসপুর অভয়ারণ্যে মঙ্গলবার নিয়ে যাওয়া হয়, তিনি গোটা পথ ওই গাড়ির পেছনে পেছনে গিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ‘কিন্তু এরপর ওরা আমাকে তাড়িয়ে দেয়। জানি না পাখিটাকে ওরা কী অবস্থায় রেখেছে। নিশ্চয়ই ওরা ওকে বন্দি করে রেখেছে, না হলে পাখিটা আমার কাছে ফিরে আসত। আমি চাই পাখিটিকে মুক্ত করে দেয়া হোক। আমি জানি ও তাহলে আমার কাছেই ফিরে আসবে।’

পাখি নিয়ে রাজনীতি?
এই পাখির কাহিনী নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতণ্ডা। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের নেতা অখিলেশ ইয়াদব সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসাপরায়ণতার অভিযোগ এনেছেন।

উত্তর প্রদেশ রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ইয়াদব বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিনি আরিফের বাড়িতে সারসটিকে দেখতে যাওয়া পরই সরকার পাখিটিকে জব্দ করেছে। তিনি পাখিটির সাথে একটি ছবিও তুলেছিলেন।

কিন্তু এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে রাজ্য সরকার কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

কিন্তু পাখিটিকে জব্দ করার পেছনে বা আরিফকে তার প্রাণের বন্ধুর সাহচর্য থেকে বঞ্চিত করার পেছনে কোনো রাজনীতি থাকুক বা না থাকুক- বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ সমির কুমার সিনহা, যিনি ভারতের ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্টে সারস সংরক্ষণ প্রকল্পের প্রধান, তিনি বলেছেন যে পাখিটিকে অভয়ারণ্যে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সঠিক।

তিনি বলেন, ‘সংরক্ষণ আর আবেগ দুটো আলাদা বিষয়। একটি আহত বা মুমূর্ষ পাখিকে আপনি উদ্ধার করতে পারেন, সেবা দিতে পারেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইনের ধারক ও বাহকদের হাতেই তাকে তুলে দিতে হবে। সেটা না করা হলে অন্যরাও বন্য পশুপাখিকে পোষা প্রাণী হিসেবে রাখতে উৎসাহিত হবে। বন্য প্রাণীদের আচরণ বন্যই হয়। পাখিটি যদি কাউকে আক্রমণ করে তখন কী হবে।’

উত্তর প্রদেশের ‘জাতীয় পাখি’ সারস বিপন্ন
সারস পাখি উড়ন্ত পাখিদের মধ্যে আকাড়ে সবচেয়ে বড়। তারা উচ্চতায় ছয় ফুট (১.৮ মিটার) পর্যন্ত হয়। উত্তর প্রদেশের জলাভূমি তাদের আদর্শ বাসস্থান ও সেখানে তাদের বংশবৃদ্ধি হয়। ভারতের মধ্যে উত্তর প্রদেশেই সর্বাধিক সংখ্যক সারস পাখির বাস।

সিনহা বলছেন, ‘একসময় ভারতে সারস পাখিদের আবাসভূমি ছিল দেশটির পশ্চিম প্রান্ত থেকে শুরু করে পুরো গাঙ্গেয় সমতলভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত। এখন তাদের সংখ্যা কমে গেছে। সারস এখন দেখা যায় শুধু মাত্র রাজস্থান, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ আর বিহারের সামান্য কিছু এলাকায়।’

ভারতের ওয়ার্ল্ডলাইফ ট্রাস্ট (ডাব্লিউটিআই) ও উত্তর প্রদেশ রাজ্য সরকার একত্রে কাজ করছে রাজ্যের জলাভূমি বাঁচানোর লক্ষ্যে।

তারা ক্ষেতখামারগুলো ও স্থানীয় গ্রামবাসীদের সাথেও কাজ করছে, যেন সারস পাখির বাসা তারা নষ্ট করে না ফেলে। কারণ সারস পাখি প্রায়ই তাদের ক্ষেতের ভেতর ঢুকে ডিম পাড়ে।

সমির কুমার সিনহা বলেন, ‘সারস প্রজাতিকে যদি আপনি সত্যিই বাঁচাতে চান, তাহলে সঠিক কাজ হবে জলাভূমিগুলো বাঁচানো। কারণ এসব জলাভূমিই সারস পাখির বাসস্থান। এগুলো বাঁচাতে পারলে প্রকৃতি তান নিজস্ব নিয়মে এই প্রজাতিকে রক্ষা করবে।’

সূত্র : বিবিসি


আরো সংবাদ


premium cement
পাকিস্তানে তুষার ধসে নিহত ১১ ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির ষান্মাসিক মূল্যায়নের নির্দেশিকা প্রকাশ চকরিয়ায় তৃণমূলকে শক্তিশালী করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নাও : রওশন এরশাদ সিলেবাস থেকে বাদ যাচ্ছে ‘সারে জাঁহা সে আচ্ছা’র কবির জীবনী দেশের অর্থনীতি স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ সময়ে : সিপিডি গাজীপুরে পরাজয়, ৪ সিটি নিয়ে সতর্ক আওয়ামী লীগ আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ২০ কোটি রুপি নাঙ্গলকোটে এসএসসি পরীক্ষায় ১ ঘণ্টা বিলম্বে কপাল পুড়ল ২ শিক্ষার্থীর এনআইডি থাকলেই রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা উচিত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশুগঞ্জে নৌ-বন্দর পুনর্বাসনসহ ৫ দফা দাবিতে কর্মবিরতি বরগুনায় নদী থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার

সকল