১৯ মে ২০২২, ০৫ জৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩
`

অর্থপাচারকারীর কী হবে?


খবরটা একটু পুরনা, গত মাসের। ইস্যুটাকে গ্লোবাল অর্থপাচার- এই দুর্নীতিরোধক এক পদক্ষেপ বলা যায়। কিন্তু বাংলাদেশে খবরটার গুরুত্ব মার্কিন অবরোধের চেয়ে কম নয়। হয়তো এর দৃঢ় প্রভাব অনেক বেশিই হবে। কিন্তু টাইমিং আর সম্ভবত আমাদের মিডিয়া এর তাৎপর্য যথাযথ টের না পাওয়ার কারণে এটা সামনে মানে উপর তলায় আসেনি। বিষয়টা আবার অবরোধ আরোপের মতোই আমেরিকান এক তৎপরতা। তফাত এই যে, অবরোধ দিয়ে বাইডেন দাবি করেছেন, এটা মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে। আর এটাও বাইডেনের নেয়া পদক্ষেপ যা করাপশন বা দুর্নীতিকেন্দ্রিক। তবে তা গ্লোবাল নেচারের এবং প্রস্তুতি পর্যায়ে আছে মানে মাঠে এখনো অ্যাকটিভ হয়নি। তবে এটা বাংলাদেশের দুর্নীতি আমেরিকাকেও ছুঁয়েছে ধরনের। আর সবচেয়ে বড় কথা, এই প্রসঙ্গকে আমেরিকান দলিল বা রিপোর্টে ব্যাখ্যা করা হয়েছে পৎরসরহধষং, শষবঢ়ঃড়পৎধঃং শব্দ দিয়ে। তাদের বিরুদ্ধে নেয়া পদক্ষেপ হিসেবে। কাদের বিরুদ্ধে? ‘কষবঢ়ঃড়পৎধঃং’। ইংরাজি ক্লেপটোক্র্যাট শব্দটার অর্থ হলো সরকারি ক্ষমতা অপব্যবহার করে যে শাসক পাবলিক অর্থ-সম্পত্তি আত্মসাৎ করে।

এ নিয়ে রয়টার্সের করা গত মাসে রিপোর্টের প্রথম বাক্যটা হলো এ রকম : ‘বাইডেন প্রশাসন গত ৬ ডিসেম্বর শপথ নিয়েছেন যে, (বিভিন্ন) দেশের সরকারি সম্পদ চুরি-লুটকারী অপরাধী শাসক ও এমন অন্যদের তারা কড়া পদক্ষেপ নিয়ে তাদের তছনছ করে দেবেন; যারা মানিলন্ডারিংয়ের নগদ অর্থে ঘরবাড়ি (রিয়েল স্টেট) কেনাবেচায় জড়িত এবং এ কাজটা আসলে (তখনকার) আগামী সপ্তাহে আহূত আমেরিকার ‘গণতন্ত্র সামিট’-এর সাথে বৃহত্তর অর্থে দুর্নীতিবিরোধী উদ্যোগ হিসেবে সম্পর্কিত।’

একটা উদাহরণ দিয়ে বাংলাদেশের পাঠকদের কাছে ব্যাপারটা আরেকটু স্পষ্ট করা যাক। ধরা যাক, বাংলাদেশের এক মন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের বাজেটের প্রায় অর্ধেক অর্থ আত্মসাৎ করেছেন, এরপর সেই অর্থমন্ত্রীর ছেলে আমেরিকায় ট্রান্সফার করে নিয়ে গেছে। এরপর ছেলে আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছে ও ওই অর্থ দিয়ে হাউজিং প্রকল্প কিনেছে বা গড়েছে। বাইডেন সরকার বলতে চাইছে ‘এটা মানিলন্ডারিং করে আনা অর্থ, এ ছাড়া অর্থের কোনো বৈধ উৎস বলতে না পারা এই চক্রকে তিনি আইনের আওতায় আনবে।’

এবারের (৯-১০ ডিসেম্বরের) ‘ডেমোক্র্যাসি সামিটের’ সাথে এই দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের সম্পর্কটাকে আরেকটু পেছনের পটভূমিতে বলা যাক। রয়টার্স জানাচ্ছে, বাইডেন ক্ষমতার শপথের পরে জুন মাসেই তার সহকারীদের এ ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এই কাজকে তারা আমেরিকান ‘জাতীয় নিরাপত্তার কৌশলপত্রের’ অংশ করে নিয়েছিলেন। আর তাই একাজে ‘৩৮ পৃষ্ঠার এক প্রাথমিক প্রস্তাব’ তৈরি করা হয়েছিল। যার শিরোনাম ‘দুর্নীতি রুখতে আমেরিকান জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলপত্র’। অনলাইনে এই দলিল উন্মুক্ত করা হয় ওই ৬ ডিসেম্বরেই।

যা চীনের নেই বা দিতে পারবে না; বাইডেন তাই...
যা চীনের নেই বা দিতে পারবে না বাইডেন তাই করবেন ও নীতি নেবেন- এবারে বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর তিনি এই বিশেষত্বকে যেন নিজের সাইনবোর্ড করেছেন। তাই, মানবাধিকার রক্ষার নীতি ও দুর্নীতিবিরোধী নীতি এভাবে গ্লোবাল অভিযানে হাতে নেয়া আর তাতে যত বেশিসংখ্যক দেশ ও ওইসব দেশের জনগণ তাতে শামিল না হলেও আকৃষ্ট করা- এভাবেই তিনি আগাচ্ছেন। এটাই তার চীন ঠেকানোর কায়দা!

যদিও আমরা দেখেছি দুর্নীতিবিরোধী অভিযান এর আগেও অন্য আমেরিকান প্রেসিডেন্ট নিয়েছিলেন; তবে যদিও যা তারা করবেন বলে মাঠে নামেন, তাই তারা করে বা সফল হয়েছে ব্যাপারটা এমন সত্য নয়। আমরা মনে করতে পারি আমাদের দেশের বেলায় ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের কথা বলে এই একইভাবে বাংলাদেশে আমেরিকার প্ররোচিত-সমর্থিত এক ক্ষমতা দখল হয়েছিল। ফলাফল কী হয়েছিল আপনারা সবাই কমবেশি জানেন। তখনকার দুর্নীতি যদি শত-কোটিতে গণনা করা হতো তবে এখন সেই গণনা হয় হাজার-কোটিতে; এই হলো আমেরিকার দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের পরিণতি। আবার যেমন বলা হয়েছিল, আমাদের রাষ্ট্রকে ‘ওয়্যার অন টেরর’ মোকাবেলার উপযোগী করে সাজাতে ওই ক্ষমতা দখল। কিন্তু আমরা দেখেছিলাম আমাদের রাষ্ট্রকে ভারতের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ আমেরিকা যা করব বলে গল্প শোনায় তা শুনতে ভালো লাগে হয়তো অনেকের। কিন্তু তা সে পূরণ না করে উল্টা নিজের উদ্দেশ্য কায়েম করে ভেগে যায় এবং কোনো দায়দায়িত্ব নেয় না এবং কখনো নিজের আকামকে ফিরে দেখে না, ভুল বা অপরাধের মূল্যায়ন বা স্বীকার করে না। এক কথায়, দায়দায়িত্ব-জ্ঞানহীন। ফলে এখন বাইডেন প্রশাসন কী করছে ও বলতে চাইছে তা নিয়ে পাবলিক মনে কোনো আশাবাদ তৈরি করতে চাই না আবার আগাম নিরুৎসাহিত বা হতাশা ছড়ানোও আমার কাজ নয়। বরং বাস্তবে যা হচ্ছে ও হবে তা যেন পাবলিক নিজেই চোখ-কান খুলে দেখে বুঝে নেয় এর সব রাস্তা খোলা থাকুক- এটাই ভালো!

৩৮ পৃষ্ঠার এক প্রাথমিক প্রস্তাব
উপরে উল্লিখিত ৩৮ পৃষ্ঠার এক প্রাথমিক প্রস্তাব, মানে ওই রিপোর্টের কিছু বাক্য গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। বলা হয়েছে, ৩ জুন বাইডেন বলেছেন, ‘দুর্নীতিবিরোধী লড়াইকে আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ বলে বিবেচনা করতে হবে।’ এখন মনে হতে পারে, দুর্নীতিবিরোধী কাজে তিনি ভিন রাষ্ট্রের জন্য ত্রাতা হতে চাচ্ছেন, তাতে এটা খোদ আমেরিকার ‘নিরাপত্তা স্বার্থ’ হচ্ছে কিভাবে? তিনি বলছেন, ‘গ্লোবাল দরিদ্র-মানুষ কমিয়ে আনার কাজে লড়াই এবং উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের বিকাশ এগুলোই পরোক্ষে আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষা করে।’

খুবই আদর্শবাদী কথা হয়তো এগুলো। তবু এখন এসব কথা শুনে আমরা এতটুকু বলতে পারি যে, এতে আমেরিকান নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষা করে বা হয় কি না তা আমেরিকাই সবচেয়ে ভালো বলতে পারে। তবে এটুকু আমরা বুঝি, কখনো দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নেয়া অথবা কখনো চুপ থাকার অবস্থান নেয়া- যেটাই আমেরিকা করুক তাতে ওই সময় অবশ্যই তা আমেরিকার স্বার্থের পক্ষে যাবে অনুমান করেই আমেরিকা এমন একেকটা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। ফলে ২০০৭ সালে আমরা দেখেছিলাম আমাদের রাষ্ট্রকে ভারতের হাতে তুলে দেয়া হয়েছিল কারণ আমেরিকান বিবেচনায় ওটাই তার স্বার্থ ছিল। যেটা এখন সম্ভবত আর তার স্বার্থ নয় যদিও ওর স্বাদ মানে আমাদের জিব পোড়ার অভিজ্ঞতা এখনো বর্তমান! যেমন সে সময়ে ভারতকে চীন-ঠেকানো বা কনটেইনমেন্ট এর কাজে ব্যবহার করা বা এমন কাজ দেয়া আমেরিকার স্বার্থ ছিল। আর এই কাজের বিনিময়ের মাল ভাগাভাগি হিসেবে ছিল বাংলাদেশকে ভারতের হাতে তুলে দেয়া, ভারতের বাংলাদেশ থেকে করিডোর নেয়া ইত্যাদি। অতএব এখনো এবার আমেরিকা বিনিময়ে কী উসুল করবে বা কিছু একটা চাইবার স্বার্থ নিশ্চয় আছে সেটা আগাম অনুমান করে নেয়াই সঠিক হবে। যদিও সেটা কী তা এখনো অস্পষ্ট।

তবে আমাদের জন্য যা বুঝবার আছে তা হলো, ‘দুর্নীতিবিরোধী লড়াইকে আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ বলে বিবেচনা করা’ মানে হলো আমেরিকার দিক থেকে এটা বেশ বড়সড় এক আমেরিকান স্বার্থ। কোনো মামুলি স্বার্থ নয়।
দ্বিতীয়ত, ওই ৩৮ পৃষ্ঠার প্রস্তাবনায় আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আছে। বলা হয়েছে, আমেরিকায় এই রিয়েল স্টেট বা হাউজিং সেক্টরের মোট কেনাবেচায় এক-তৃতীয়াংশ লেনদেনই হয় নাকি নগদ অর্থে। এটা আমেরিকান রিয়েল স্টেট অ্যাসোসিয়েশন থেকে পাওয়া ডাটা (অষষ-পধংয ৎবধষ বংঃধঃব ফবধষং, যিরপয পঁৎৎবহঃষু ধপপড়ঁহঃ ভড়ৎ ধনড়ঁঃ ড়হব-ঃযরৎফ ড়ভ ধষষ ট.ঝ. যড়সব ংধষবং, ধপপড়ৎফরহম ঃড় ঃযব ঘধঃরড়হধষ অংংড়পরধঃরড়হ ড়ভ জবধষঃড়ৎং).। খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ডাটা সন্দেহ নেই। কেন?

আসলে ‘অল-ক্যাশ রিয়েল স্টেট ডিল’ এই শব্দ কয়টার মধ্যে অনেক কথা বলা আছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে সরকারের চুরি করতে দেয়া আর সেই অর্থ-পাচারকারীরা কেন আমেরিকায় গিয়ে রিয়েল স্টেট ব্যবসায় ঢোকে এর কারণটা এখন সবার কাছে পরিষ্কার হবে। বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া এবং স্বভাবতই অর্থের উৎস বলতে না-পারা অর্থ, এগুলো নগদ অর্থ থেকেই রিয়েল স্টেট প্রপারটি কিনবার জন্য আদর্শ জায়গা তাই। এখন বাইডেন কী সেই মুরোদ দেখাতে পারবেন? তিনি কি আমাদের মতো দেশ থেকে পাচারকারীদেরকে তাদের অর্থের উৎস দেখাতে বাধ্য করতে পারবেন এবং পাচারকারীরা তা না দেখাতে পারলে সেই প্রপার্টি যেন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট বাজেয়াপ্ত করে নিতে পারে এমন ‘প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাহী আদেশ’ কি জারি করতে পারবেন?
স্পষ্টতই আমি সন্দেহ করছি। কেন?

কারণ, ২০১৬ সালে ওবামা আমলে এমনই প্রায় একটা উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট ইন্সুরেন্স কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল এমন ‘অল-ক্যাশ বাড়িক্রেতাদের’ পরিচয় ট্রেজারি বিভাগে রিপোর্ট করতে। এরপর এতে খুব বড় কোনো অগ্রগতি হয়েছে বলা যাবে না। তবে প্রায়ই আমরা একটা প্রতিষ্ঠানের রিপোর্ট দেখে থাকব যে, ‘গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি’ নামের এক নন-প্রফিট প্রতিষ্ঠান পাচার হওয়া বিভিন্ন দেশের অর্থের কিছু হদিস ও হিসাব প্রকাশ করেছে। যেমন, সাড়া ফেলা ‘প্যান্ডোরা পেপারস’ (যেখানে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নওয়াজ শরীফের অর্থপাচারের তথ্য ছিল) ধরনের লিকেজ তথ্য বাইরে এসেছিল। এসব তথ্য ওই উদ্যোগের কিছু ইতিবাচক ফল মাত্র। কিন্তু আবার বলা যায়, যেমন ওই উদ্যোগ থেকে বাংলাদেশের কোনো কিছু প্রকাশ পায়নি। আমরা জানতে পারিনি। আর সবচেয়ে বড় কথা, এগুলো সুস্পষ্ট নাম ও প্রমাণও নয়। বরং ২০১৬ সালের পরে বাংলাদেশ থেকে আরো বেশি করে আমেরিকায় অর্থপাচার হয়েছে বাধাহীনভাবে ব্যক্তিগত জানাশোনা থেকেই যা দেখা যায়। ফলে আইন করা আর তা মাঠে প্রয়োগ করে অপরাধীদের ‘ন্যাংটা’ করা আসলে অনেক দূরের ঘটনা যদি না এর মাঝে আবার কোনো ‘আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ’ নামে কিছু ঢুকে বসে! আমরা তাই চাইব সুনির্দিষ্ট কিছু। সেসব ব্যক্তি ও অর্থ দুটোই ফেরত আনা দেখতে চাইব।

তবে এবার মিডিয়া যতটুকু যা হইচই করা; এর অন্যতম কারণ হলো, বর্তমানে বাইডেন প্রশাসনের ট্রেজারি বা রাজস্ব বিভাগের ডেপুটি মন্ত্রী ওয়ালি আদেইমো (ডধষষু অফবুবসড়) সম্প্রতি এক আমেরিকান থিংকট্যাংক ‘ব্রুকিং ইনস্টিটিশনের’ অতিথি বক্তৃতায় কথা দেন যে, তিনি এ বিষয়ে খুব আগ্রাসীভাবে চাপ দেবেন যাতে বৈধ উৎস দেখাতে না পারা যারা আমেরিকায় নগদে বাড়ি কিনেছেন তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার কাজ ত্বরান্বিত করা হয়। তিনি অবশ্য সেখানে স্বীকার করেন যে, ‘উপস্থিত আইনে নগদ অর্থেই হাউজিং প্রপার্টি কিনতে কোনো বাধানিষেধ নেই।’ সাথে এও স্বীকার করে বলেছেন, ‘আমাদের রিয়েল স্টেট ব্যবসা এ ধরনের চোর শাসকদের বিদেশে সম্পত্তি কিনতে সাহায্য করে নিজেরই বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।’

তবে আমাদের জন্য বটম লাইন হলো, ‘খাওয়ার পরে হাত না ধোয়া পর্যন্ত বিশ্বাস নাই যে, খেতে দেবে।’ অর্থাৎ আশ্বাস না, কাজে বাস্তবায়ন দেখতে চাই। ফল দেখতে চাই। আবার স্বপ্নও অবশ্যই দেখতে চাই। যেমন, আমেরিকায় এমন প্রেসিডেন্সিয়াল এক্সিকিউটিভ অর্ডার আর এর বাস্তবায়ন শুরু হলে তা কানাডার ওপর ছড়াবে, চাপ তৈরি করবে। অর্থাৎ আমেরিকায় কেনা সম্পত্তি কানাডায় সরিয়ে নেয়ার সুযোগ হবে না। এমনিতেই আমেরিকার সাথে কানাডার একটা আইনের ইউনিফর্মিটি রাখার চেষ্টা হয়। কানাডায় পালিয়ে থাকা আমেরিকার আসামিকে কানাডাই গ্রেফতার ও পরে প্রত্যাবর্তন করাতে পারে। এ ছাড়া খেয়াল করলে দেখা যাবে, আমেরিকার ঘোষিত (বাংলাদেশসহ অনেক দেশের ওপর) অবরোধ আরোপ, এটা ব্রিটেন ও কানাডাও সমর্থন করে।

এ জন্য বিপরীতে যেমন দেখা যায়, মালয়েশিয়া কেন লুট ও অর্থপাচারকারীদের ‘সেকেন্ড হোম’ হতে পেরেছে? কারণ, ওখানে আগেই বলে দেয়া হয়েছে মালয়েশিয়ায় অর্থ নিয়ে প্রবেশ করলে বাড়ি-প্রপার্টি কেনাসহ নাগরিকত্ব পাবে, সহজেই। কারণ মালয়েশিয়ায় আনা অর্থের উৎস জানতে চাওয়া হবে না।’ আর এ ধরনের রাষ্ট্রগুলো নিজের এমন আইনের সাফাই হিসেবে বলে, তারা নিজ দেশের জন্য বিদেশী পুঁজি সংগ্রহের উপায় হিসেবে এটা করেছে। যদিও আমার দেশের সম্পদ চোরকে কেন এমন উৎসাহ ও সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে; যা প্রকারান্তরে আমাদের দেশের শাসককে লুটপাট ও অর্থপাচারে উৎসাহিত করা- এই ব্যাপারে তারা নিশ্চুপ থাকে।

কাজেই বাংলাদেশী ‘অষষ-পধংয ৎবধষ বংঃধঃব’ ক্রেতা, এদের নিয়ে অগ্রগতি কই? এক মাসের বেশি হয়ে গেছে, স্বভাবতই আমরা অগ্রগতি জানতে চাইব। এসবের ওপর পাবলিকের আস্থা-বিশ্বাস অল্প করে হলেও জাগতে পারে। শুধু গল্পে কিছু হবে না।
লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক
goutamdas1958@hotmail.com


আরো সংবাদ


premium cement