১০ ডিসেম্বর ২০২২, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

চীনা কমিউনিস্ট পার্টির শতবার্ষিকী

-

পয়লা জুলাই ২০২১, এদিন ছিল চীনা কমিউনিস্ট পার্টির শততম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। অর্থাৎ পার্টি বয়স এখন ১০০ বছর পেরুলো। আর এর অন্তত দুটা বড় সাফল্য হলো, পার্টি জন্ম নেয়ার ২৮ বছরের মধ্যেই বিপ্লব সম্পন্ন করে ক্ষমতা দখল করে আসীন হয়ে যাওয়া। আর দ্বিতীয়টা হলো, চীন ইতোমধ্যেই গ্লোবাল অর্থনীতিতে নেতা হওয়ার পথে। গ্লোবাল অর্থনীতি নিয়ে সরকারি-বেসরকারি স্টাডির পূর্বাভাস হলো, আগামী ২০২৮ সালের মধ্যে আমেরিকাকে ছাড়িয়ে চীন দুনিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনীতি হয়ে উঠতে যাচ্ছে। এমনিতেই সাফল্য নিয়ে শত বছর পার হওয়া রাজনৈতিক দল হতে পারা খুব কম ক্ষেত্রে এমনটা ঘটে থাকে। যেমন ১৯১৭ সালে রাশিয়ায়, দুনিয়ার প্রথম ক্ষমতা দখলকারী কমিউনিস্ট পার্টি হলো লেনিনের (সোভিয়েত) রুশ কমিউনিস্ট পার্টি। কিন্তু ১৯৯১ এর আগস্টে এর সবকিছু শেষ হয়ে যায়, সোভিয়েত ইউনিয়ন রাষ্ট্রই ভেঙে পড়ে, আর টিকে থাকেনি। রাশিয়াসহ মোট ১৫টি রাষ্ট্রে তা বিভক্ত এখন। এই বিচারে চীনা পার্টির সাফল্য অনেক বেশি অবশ্যই।

কমিউনিস্ট বা সমাজতন্ত্রী রাষ্ট্র বলতে কমিউনিস্টরা নিজেরা এবং দুনিয়ার বেশির ভাগ সহমর্মী চিন্তার মানুষ সেখানে ‘মালিকানা ব্যবস্থা সরকারি’ কি না- এটাকেই মূল নির্ধারক বলে সেই ভিত্তিতেই তা বলে থাকে। কিন্তু বাস্তবত দেখা যায়, ‘মালিকানা ব্যবস্থা সরকারি’ রেখে অর্থনীতি সচল রাখতে হিমশিম খাওয়া এক বড় বাধা হিসেবে তারা আগে অনুভব করেছিল। সে কারণে সংস্কারের প্রশ্নটা উঠেছিল। তাই একটা সংস্কার বা রিফর্ম করে নেয়া যাতে সংস্কার করে একটা সচল অর্থনীতি লাভ করা যায়। এই প্রশ্নে সোভিয়েত ইউনিয়ন কার্যত ‘সংস্কারের পথে’ যাওয়ার সুযোগ নিতে পেরেছিল একেবারেই শেষের দিকে; মাত্র ১৯৮৫ সালে মিখাইল গর্বাচেভ প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে। বা বলা যায় লিওনিদ ব্রেজনেভের মৃত্যু বা তার শাসনযুগ ১৯৮২ সালে শেষ হওয়ার পর থেকে। কিন্তু বলতে গেলে অচিরেই গর্বাচেভ বড় সংস্কার কিছু শুরু করার আগেই পুরান সোভিয়েত রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ একেবারেই হারিয়ে ফেলেছিলেন। ফলে ১৯৯১ সালে গর্বাচেভকেই নিজের মুখে সোভিয়েত রাষ্ট্রের বিলুপ্তি ঘোষণা দিতে হয়েছিল।

তুলনার চীনা পার্টি ‘সংস্কারের পথে’ নেমে যায় ক্ষমতা দখলের মাত্র ১০ বছরের মধ্যে; ১৯৪৯ সালে ক্ষমতা দখলের পরে ১৯৫৮ সাল থেকে। অর্থাৎ সোভিয়েত ইউনিয়নের চেয়ে অনেক অনেক আগে; যদিও এর নাম-পরিচিতি ছিল, ‘সাংস্কৃতিক বিপ্লব’। আবার সেটা চীন যখন জাতিসঙ্ঘের সাধারণ সদস্যও ছিল না। তবে সোভিয়েতের তুলনায় চীন সংস্কার পরিকল্পিতভাবে করেছিল; মানে একটা পরিকল্পনামাফিক আগাতে পেরেছিল। ক্ষমতা সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো হাত থেকে ছুটে বের হয়ে না যায় সেদিকটাই খেয়াল রাখতে তারা সক্ষম হয়েছিল। যদিও এ কাজে চরাই-উৎরাইয়ের ধাক্কা চীনকে কম সামলাতে হয়নি। এভাবে টানা ১০ বছরের মধ্যে নেতৃত্ব ও চিন্তায় বদলের মূলকাজটা শেষ করে মাও সেতুং পার্টির গঠন কাঠামো ও নেতৃত্ব একেবারে ওপর থেকে নিচে পর্যন্ত ‘সংস্কারি চিন্তায়’ বদলে নিতে সক্ষম হয়েছিলেন। এ চিন্তায় সংস্কার করতে মাওয়ের ক্ষমতায় টিকে যাওয়ার পেছনে প্রধান সাফল্যের কারণ মাওয়ের ওপর পার্টি ও জনগণের আস্থা ঢিলা হওয়ার আগেই তিনি সংস্কারের উদ্যোগ নিতে পেরেছিলেন। আবার এ ছাড়া ওই সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন যেন আবার সৈন্য পাঠিয়ে মাওকে ক্ষমতাচ্যুত করে না ফেলে- অভ্যন্তরীণ কোনো চীনা নেতার সহযোগিতায়- সেটা নিশ্চিত করতে আগেই সোভিয়েত পার্টির সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করেন মাও। শুধু তাই নয়। এর কারণ হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়নই আরেক সাম্রাজ্যবাদ হয়ে গেছে বলে ব্যাখ্যা প্রচার করতে শুরু করেছিলেন তিনি। সোভিয়েত এর আগে অন্য দেশে এ কাজ করেছিল। তা থেকেই মাওয়ের সাবধানতা। তবে এমন শব্দাবলির কারণ, আমেরিকাকে কমিউনিস্টরা ‘সাম্রাজ্যবাদ’ বলে থাকে। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়নকেও তা বলার অসুবিধা হলো, অন্তত মালিকানা প্রশ্নে সোভিয়েত ইউনিয়নের সবকিছুই আমেরিকার মতো নয় বরং রাষ্ট্রীয় মালিকানায়। তাই মাওয়ের চীনের চোখে, এই সোভিয়েত ইউনিয়ন হলো ‘সামাজিক সাম্রাজ্যবাদী’ রাষ্ট্র- মাও এই মূল্যায়ন চালু করেছিলেন। এটা বাংলাদেশে চীনা কমিউনিস্টদের মধ্যে আশির দশকজুড়ে সক্রিয়ভাবে চালু ছিল। নব্বই দশক থেকে এটা ঝিমিয়ে পড়তে শুরু করতে করতে এখন আর এই ‘সামাজিক সাম্রাজ্যবাদী’ মূল্যায়ন করতে কাউকে দেখা যায় না, দেয়াল-লিখনেও না।

আবার চীনের বাইরের দেশে যেমন- বাংলাদেশের কমিউনিস্টদের মধ্যে সম্পদ বা উৎপাদন রাষ্ট্রীয় মালিকানাতে আছে বা চলছে কি না- এটাই সমাজতন্ত্র বা কেউ কমিউনিস্ট কি না- এসবের ‘প্রধান নির্ণায়ক চিহ্ন’ হয়ে আজো থাকতে দেখা যায়। এর বাইরেও ব্যতিক্রম অনেক রূপই থাকতে পারে, কিন্তু এটাই প্রধান ধারা। এই ধারার ভেতরে যারা পড়েন তাদের মুখ্য অনুমান। তবে একটা ডিসক্লেমার হলো, এর সঠিক-বেঠিকতা নিয়ে আমি এখানে কথা বলছি না, সেটা আমার বক্তব্যও নয়। এর বাইরে বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন ব্যাখ্যা আছে থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। কাউকে নাকচ করা বা কাউকে সঠিক বলার কোনোই উদ্দেশ্য এখানে নাই।

তবে সাধারণভাবে বাংলাদেশে যে প্রধান ধারণা বিরাজ করে বলে আমার অনুমান, এদের অনুমান বা অবস্থান হলো, ১৯৭৬ সালে মাওয়ের মৃত্যুর পরে চীন আর কমিউনিস্ট বা সমাজতন্ত্রী দেশ নেই। তবে চীন আর কমিউনিস্ট বা সমাজতন্ত্রী হোক আর না হোক, চীন গ্লোবাল অর্থনীতির নেতা হতে চলেছে, এটা আরেক বাস্তবতা। আমি এই বাস্তবতা নিয়েই মূলত লিখছি।

চীন কিভাবে বদলে আজকের জায়গায় এলো
পরে ১৯৬৮-৭৭ চীনের এই সময়কাল বলা যায় চীনের নিজের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, জাতিসঙ্ঘের ভেটোক্ষমতাসহ সদস্যপদ ফেরত পাওয়া নিশ্চিত করা আর বিনিময়ে মূলত আমেরিকাসহ বিদেশী পণ্য ও বিনিয়োগ পুঁজির চীনে প্রবেশের ব্যবস্থাদি চূড়ান্ত করতেই ব্যয় হয়ে যায়। ১৯৭৮ সালের পয়লা জানুয়ারি থেকে চীন-আমেরিকা পরস্পরকে স্বীকৃতি দান শেষে এর প্রকাশ হিসেবে দুই দেশই অপরের রাজধানীতে অ্যাম্বাসির কার্যক্রম চালু করেছিল। এরপর থেকে চীন হয়ে উঠে আমেরিকান বিনিয়োগের স্বর্গ। তবে সাবধানতা হিসেবে আমেরিকার কারা আগে চীনে বিনিয়োগ নিয়ে যাবেন এর ক্রাইটেরিয়া হিসেবে, বহু আগে থেকেই যেসব চীনা অরিজিন ব্যবসায়ী আমেরিকায় আসন গেড়েছেন তাদেরই প্রায়োরিটি দেয়া হয়েছিল। কারণ এর ভালো-মন্দের দিকগুলো বুঝে আইন-কানুন রেওয়াজ (গুড প্র্যাকটিস) চূড়ান্ত করার দিক ছিল। এভাবেই চীন-আমেরিকা সম্পর্ককে ব্যবহারিক আইন-কানুন ও গুড প্র্যাকটিসে হাজির দেখা শেষ করতে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত লেগেছিল। এর পরেই কেবল ২০ বছর ধরে টানা ডাবল ডিজিটের চীনা অর্থনীতির সূচনা হয়েছিল। অবশ্য শেষের দিকে মানে ২০০৮ সালের গ্লোবাল মহামন্দার কারণে তা কিছুটা ঝুলে গিয়েছিল।

তবুও এখনো অনেকে চীনের গ্লোবালি রাইজিং এই অর্থনীতি, এটা ‘কিছুই হয় নাই’ বলে নাকচ করতেই পারেন। তবে সে ক্ষেত্রে কী ভিত্তিতে তিনি তা বলছেন, তা বোঝার জন্য সেদিকে মনোযোগ দেয়া যেতে পারে। কারণ চীন সম্পর্কে আমাদের সিদ্ধান্তের ফারাক হতেই পারে। তবে এই ফারাকগুলো মূলত কী ভিত্তিতে কথা বলছি মানে কোন কাঠিতে মাপছি, সেগুলো আসলে সেই মাপকাঠির ফারাক। এটা বুঝলে বা জানতে পারলেও অনেক লাভ।
এ দিকে দেখা যাচ্ছে বিবিসি জানাচ্ছে, ‘একমাত্র সমাজতন্ত্র চীনকে রক্ষা করতে পারবে এবং চীনা ধাঁচের সমাজতন্ত্রই পারবে চীনের উন্নয়ন ঘটাতে’, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নাকি এ বক্তব্য দিয়েছেন।
এখন চীনে এটা সমাজতন্ত্র হয়েছে কিংবা হয়নি- এ নিয়ে কাউকে কাউকে আমরা বিতর্ক করতে দেখতে পারি। কিন্তু তাতে চীনের গ্লোবাল অর্থনীতির নেতা হওয়ার অভিমুখ বদলাচ্ছে না।
চীনের বাইরের প্রতিক্রিয়া

এবারের এই বার্ষিকী যতটা না চীনের অভ্যন্তরীণ এর চেয়ে বেশি প্রতিক্রিয়া বিদেশের এবং তা এমনকি চীনের বন্ধু-শত্রু, অথবা চীনের প্রতি ঈর্ষাধারী কিংবা কৌশলগত কারণে যারা পছন্দ বা উচ্ছ্বাস-প্রকাশকারী নির্বিশেষে সবার মধ্যেই প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

এসবের মধ্যে পশ্চিমের মিডিয়া রিপোর্ট আর তাতে প্রকাশিত মন্তব্য ও অ্যানালাইসিসে প্রতিক্রিয়াগুলো লক্ষণীয়। এসব লেখা এবারই প্রথম দেখা গেল, চীন যে নিজেকে এখনো কমিউনিস্ট বলে তা মেনেই নিয়েছে। আর এই ‘কমিউনিস্ট নামে রেখেই’ চীনের উঠে আসা সাফল্য বা চ্যালেঞ্জ পশ্চিমের সাথে বরাবর বা সমান প্রতিদ্বন্দ্বী যা পশ্চিমকে ছাড়িয়েও যেতে পারে, যেন তা মেনে নিচ্ছে। কোনো প্রশ্ন তোলেনি তারা। এমনকি চলতি একুশ শতকের শুরু থেকে প্রথম ১৫ বছরও আমরা দেখেছিলাম চীন পশ্চিমের সাথে কম্পাটেবল বা তুলনীয় নয় বলে আমেরিকা সরকারি আপত্তি তুলছে। তাদের দাবি, চীন নিজের ‘মুদ্রার মান’ কমিয়ে রেখেছে যদিও ২০০৮ সালের মন্দায় জাপান এক দীর্ঘ সময় ইয়েনের ‘মুদ্রার মান’ কমিয়ে রেখে চলেছিল। কিন্তু আমেরিকাকে আপত্তি তুলতে দেখা যায়নি।

এখানে আমাদের পাঠকের অনেকের কাছে মুদ্রার মান কমে যাওয়ার ব্যাপারটা পরিষ্কার নয় হয়তো। যেমন ভারতের জাতিবাদী রাজনীতির চোখে, ডলারের তুলনায় রুপির মান কমে যাওয়া দেশবিরোধী কাজ বা ঘটনা মনে করা হয়। অর্থাৎ ভারতের সরকার ও জনগণ সবার চোখেই এটা ভারত স্বার্থবিরোধী নেতিবাচক কাজ। কিন্তু এখানে আমরা দেখেছি আমেরিকা চীনকে অভিযুক্ত করছে যে, ইউয়ানের মুদ্রামান চীন ইচ্ছা করে কমিয়ে রেখেছে আর এটা অন্যায় কাজ বলে আমেরিকা দাবি করে যাচ্ছে। কেন?

কারণ এটা গ্লোবাল বাণিজ্যের যুগ। মানে এটা আর তথাকথিত জাতিবাদী উৎপাদন বা জাতিবাদী অর্থনীতির যুগ নয়। অর্থাৎ যখন কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ ভোক্তাদের দিকে তাকিয়ে উৎপাদনের চেয়ে রফতানির জন্য উৎপাদন অর্থনীতিই প্রধান তৎপরতা হয়ে ওঠে- সেটাই গ্লোবাল বাণিজ্যের যুগ। এক কথায়, দেশীয় ভোক্তার জন্য উৎপাদনের তুলনায় রফতানির জন্য উৎপাদন তুলনায় বেশি সুবিধা ও মনোযোগপ্রাপ্ত সেক্টর। আর এ ক্ষেত্রে মুদ্রা মান কম করে রাখা বা আপনাতেই কমে যাওয়া কখনো রফতানিকারক দেশের জন্য বেশি লাভ ও সুবিধাজনক হয়ে উঠতে পারে। কিভাবে?

মুদ্রা মান কমে যাওয়া মানে আগে বাংলাদেশ থেকে এক ডলারে (ধরা যাক) একটা শার্ট কিনে নিয়ে যাওয়া হলেও এখন দেড় ডলারে দুইটা পাওয়া যাবেÑ এ রকম হয়েছে। আমরা এখন কম মূল্য পেলেও এতে বিক্রি বেড়ে যাবে। কারণ প্রতিদ্ব›দ্বী ভিয়েতনামের ক্রেতারা কম দামের সুবিধা নিতে বাংলাদেশমুখী হবে। এতে বিক্রি বেশি হওয়াতে মুদ্রামান হারানোর লস কাভার হওয়ার পরও বেশি লাভ হতে পারে। অর্থাৎ সময়ে নিজ মুদ্রার মান কমা, এটা নিজের জন্যই ইতিবাচক হতে পারে।

ভারতের প্রতিক্রিয়া
ভারতের পয়লা জুলাইয়ের ‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকা জানাচ্ছে এ বিষয়ে। বলছে, ‘কংগ্রেস বা বিজেপি এই দল দুটোর কেউ চীনা কমিউনিস্ট পার্টিকে শতবর্ষ পার করাতে কোনো শুভেচ্ছাও জানায়নি। তবে সিপিএম জানিয়েছে।’ কংগ্রেসের এক সিনিয়র নেতা বলেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক আবহ আমাদের দুই পার্টির মধ্যে রাজনৈতিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের উপযোগী নয়।’ আসলে তিনি সম্ভবত বলতে চাইছেন লাদাখে চীন-ভারত সীমান্ত উত্তেজনার কথা। গত বছর সেখানে অন্তত ২০ জন ভারতীয় সেনা চীনাদের হাতে নিহত হয়েছেন। সেটাকে পাশে সরিয়ে রেখে সৌজন্য দেখাতে গেলে তাতে কংগ্রেস বা বিজেপি যেই দেখাতে যাক অপর দল তাতে ‘মাইলেজ’ নিতে পাবলিক সেন্টিমেন্ট উসকে সুবিধা নিতে চাইতে যাবে বলে মনে করে। তাই তারা দুই-পার্টি কেউ শুভেচ্ছার ধারে কাছে যায়নি।

সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির চীনা পার্টিকে লিখিত শুভেচ্ছা দেয়ার কথা পত্রিকাটা আমাদের জানাচ্ছে। এই লিখিত শুভেচ্ছাকে বলা যায়, ইয়েচুরি নিজেও কমিউনিস্ট এবং তাদের পার্টির দিক থেকে আলাপ ও খাতিরমূলক শুভেচ্ছা এটা তাই বুঝাতে চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘চীন কিভাবে নিজের ভুল চিহ্নিত ও সংশোধন করে তার পলিসিগুলো দাঁড় করিয়েছে গত শতক এর সাক্ষী হয়ে থাকবে।’ ‘সিপিএম গুরুত্ব দিয়ে যেতে চায় যে, মার্কসবাদ-লেনিনবাদ এক সৃষ্টিশীল বিজ্ঞান। এটা শ্রেষ্ঠ ডগমাবিরোধী। তাই এটাকে কখনো কোনো আগাম সেট করা ফর্মুলা হিসেবে হাজির করা যাবে না।’ যদিও এক সৃষ্টিশীল বিজ্ঞান হওয়া সত্তে¡ও এটা সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতির সাথে খাপখাইয়ে নেয়ার সময় বিপ্লবী প্রিন্সিপল ও মুক্তিলাভের উদ্দেশ্য শক্ত করে আগলে থাকে। তিনি লেনিনের উদ্ধৃতি দিয়ে আরো বলেন, সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতির সুনির্দিষ্ট বিশ্লেষণ ডায়লেক্টিক্সের জীবন্ত সারকথা।’ তিনি চীন যেভাবে করোনা মহামারীর সামলিয়েছে এর ভূয়সী প্রশংসা করেন।

কথাটা এত দীর্ঘ করার মূলকথা হলো, সিপিএম চীনের ‘বিস্তারিত সংস্কারের’ (১৯৫৮ সাল থেকে সম্ভবত সবই) সব কিছুকেই অনুমোদন দেয়, তাই তিনি জানিয়েছেন।

এর মধ্যে বিপজ্জনক হলো, বর্তমান ভারতের পরিস্থিতি হিন্দুত্ববাদী ভোটের। ভোটের সময় এর বিরোধিতার চেয়ে কিভাবে এর সাথে খাপখাইয়ে চললে কিছু ভোট বা ভোট পলিটিক্সে লাভ হবে সেটাই সিপিএম করে থাকে। এমনকি তৃণমূলকে হারাতে সে বিজেপির কোলে উঠে এই দলকে জিতাতে কাজ করতে দ্বিধা করে না। তাই এখন এমন বক্তব্য তাদের দলের বিরুদ্ধেই যেতে পারে।

লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক
goutamdas1958@hotmail.com


আরো সংবাদ


premium cement