৩১ মার্চ ২০২০

করোনাভাইরাস ও অর্থনীতি

-

‘করোনাভাইরাস’ শব্দ এখন আর ‘টক অব দ্য টাউন’ নয়, বরং এটা এখন ‘টক অব দ্য গ্লোব’ (বিশ্বের আলোচিত বিষয়)। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে আমরা এসে পড়েছি। সে হিসাবে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বা ছড়িয়ে পড়ার তৎপরতার ‘বয়স’ মাত্র আড়াই থেকে তিন মাসের। আলজাজিরা টিভি মিডিয়ার ওয়েবে একটা ঘটনা-কালপর্ব তৈরি করা হয়েছে। সেটি অনুসারে, করোনার বিস্তার মাত্র গত তিন মাসের ঘটনা। সেখানে বলা হয়েছে, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে জাতিসঙ্ঘের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা জানতে পারে, চীনের উহান শহরে অপরিচিত এ ধরনের ‘নিউমোনিয়া’ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এটাকেই নিও করোনাভাইরাস বলা হয়েছিল। এখন জাতিসঙ্ঘের দেয়া এরই আন্তর্জাতিক নাম হলো কোভিড-১৯; মানে করোনাভাইরাস ডিজিজ-২০১৯। কোনো রোগ ছড়ানোর ঘটনা কেবল একটা পাড়ায় সীমাবদ্ধ থাকলে একে ইংরেজিতে ‘এন্ডেমিক’ বা স্থানীয় রোগ বলা চলে। আর সেটি একটা শহরে অথবা একটা দেশের পরস্পর লাগোয়া বা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কয়েকটা শহরে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে এমন ঘটনাকে এপিডেমিক বা ‘মহামারী’ বলি আমরা। নিও করোনাভাইরাসকে জাতিসঙ্ঘ ‘প্যানডেমিক’ বা বিশ্ব-মহামারী বলে ঘোষণা করেছে। কারণ এ পর্যন্ত ১২৩টার মতো রাষ্ট্রে এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে।

বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এই রোগের মূল বৈশিষ্ট্য হলো- এটা ছোঁয়াচে, মানে মানুষের পরস্পরের ছোঁয়াছুঁয়িতেই (যেমন কোলাকুলি বা হ্যান্ডশেক) এটা অন্য মানুষের শরীরে ছড়াতে বা প্রবেশ করতে পারে। তবে একেবারেই শুকনা ধরনের ছোঁয়াছুঁয়ি নয় বরং ড্রপলেট বা জলীয়বাষ্প ধরনের (হাঁচি-কাশিতে বের হওয়া) সংস্পর্শ সেখানে থাকতে হবে। কোনো রোগের দ্রুত ছড়িয়ে পড়া মানেই হলো এটা ছোঁয়াচে; অর্থাৎ এ ধরনের রোগের জীবাণুর উপস্থিতি এখানে আছে।

নিও করোনার এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়া প্রমাণ করে, একালের দুনিয়ায় এটা হতে পেরেছে মূলত তিনটি বৈশিষ্ট্যের কারণে। যেমন এটা ‘কন্টাজিয়াস’ মানে, সংক্রামক বা ছোঁয়াচে। দ্বিতীয়ত, এটা এক নতুন ভাইরাস আক্রমণের রোগ বলে এর কোনো ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক ওষুধ মানুষের কাছে নেই। তাই এর ছড়িয়ে পড়াকে থামানো যাচ্ছে না। আর তৃতীয় কারণ-বৈশিষ্ট্য হলো, গ্লোবাল পণ্য-লেনদেন-বিনিময়, এই বাস্তবতা। আমরা আসলে এখন দুনিয়াব্যাপী ছড়িয়ে যাওয়া পণ্য-লেনদেন-বিনিময় ব্যবস্থার যুগে প্রবেশ করেছি, সেখানে কোনো উৎপাদনই আর স্থানীয় নয়; মানে ওই উৎপাদিত পণ্যের আসল বা শেষ-ভোক্তা বহু দূরের কোথাও- দুনিয়ার অন্য কোনো কোণে বাস করতে পারে। তাই কেবল একই দেশে তো নয়ই, সেটি বরং অন্য মহাদেশে তো বটেই এবং দুনিয়ার একেবারেই অন্য কোনো প্রান্তে হওয়ারই সম্ভাবনা। যেমন, আফ্রিকার উগান্ডার কোনো গ্রামে বাংলাদেশের কেয়া সাবান দেখতে পেলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এটাই এখন স্বাভাবিক। এই তৃতীয় বৈশিষ্ট্য আবার আরো ‘বিশেষ’ হয়ে উঠেছে, কারণ এ ভাইরাসের উৎস দেশটা চীন- দ্য রাইজিং চায়না। বিশ্ব অর্থনীতির নতুন আসন্ন নেতা।

চীনের বিপুল পুঁজি ও এর বিনিয়োগ সক্ষমতা অথবা চীনে তৈরি করা কাঁচামাল বা পণ্য অথবা চীনের বাজারে অন্যদের পণ্য বা প্রবেশ- এসব কিছু মিলিয়ে একালে এটা এক বিশাল কর্মযজ্ঞ; পণ্য ও পুঁজি বিনিয়োগের গ্লোবাল লেনদেন-বিনিময়ের সম্পর্কে আমরা পরস্পর সব রাষ্ট্র জড়িয়ে গেছি বা আছি।

একটা উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। আমাদের গ্লোবাল হয়ে ওঠা পণ্য-লেনদেন-বিনিময় সম্পর্কের কথা এখানে যেমন বলছি, তেমনি এর উল্টো পরিস্থিতি বা ধারণাটা হলো গ্লোবাল পণ্য-লেনদেন-বিনিময়ের ব্যবস্থাটাই আবার ঢলে পড়া বা শ্লথ হয়ে পড়া- যেটাকে রিসেশন বা ‘মহামন্দা’ বলা হয়- এটাও ঘটা স্বাভাবিক। আর তা ঘটেছিল, প্রথম গ্লোবাল মহামন্দা বলা হয়, ১৯৩০ সালে সময়টা হলো প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে আবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে, প্রায় ২১ বছরের এমন বিরতির কালে। এই মহামন্দার মূল কারণ ছিল ইউরোপের প্রায় সব রাষ্ট্রই। আর অন্তত কলোনি মালিক রাষ্ট্রগুলো যারা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ব্যয়ভার মিটাতে গিয়ে নিজ নিজ আয়ের চেয়ে ছাড়িয়ে যুদ্ধের ব্যয় বেশি করে ফেলেছিল। তাই যুদ্ধ শেষে সেই ঘাটতিটা পূরণ করতে চেয়ে পরিকল্পিত মুদ্রাস্ফীতি ঘটিয়েছিল প্রত্যেক রাষ্ট্র। এতে সবাই নিজ নিজ মুদ্রার মূল্যমান ফেলে দিয়ে রফতানি-বিক্রি বাড়ানোর জন্য আত্মঘাতী প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছিল। এর সামগ্রিক প্রভাব ও ফলাফলই হলো ওই মহামন্দা। আবার এখান থেকে বের হতে গিয়ে, হিটলারি-জাতিবাদকে ঠেকাতে আরো বড় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া- এভাবে এক চক্রে পড়ে ইউরোপ নিজের সক্ষমতা বা সম্ভাবনা শেষ করে দিয়েছিল।

এখান থেকেই আইএমএফ-বিশ্ব ব্যাংকের জন্মের সময় তাদের কর্মসীমা বা ম্যান্ডেটে যে মুখবন্ধ লেখা হয়েছিল তাতে উল্লেখ করা হয়েছিল, ১৯৩০ সালের মতো মহামন্দা আবার যাতে দুনিয়াতে না আসে তা ঠেকানোও এ দুই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম লক্ষ্য। তবু মহামন্দা আবার এসেছিল ২০০৭ সালের শেষে আর ২০০৮ এর শুরুতে। বলা যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুশের দ্বিতীয় ও শেষ জমানায় শুরু হয়ে পরের প্রেসিডেন্ট ওবামাসহ সব প্রেসিডেন্টকেই তা সামলাতে হয়েছিল। এখনো হচ্ছে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত রিসেশনের ভয় দুনিয়া থেকে আর কখনো যায়নি, এভাবেই দিন কাটছে।

তবে ২০০৭ সালের যে মহামন্দা, এখানে মূল কারণ কী ছিল? আসলে এখানেও কারণ একই, রাষ্ট্রের আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি করে ফেলা। কিন্তু কেন?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুশের ২০০১ সালের আফগান-ইরাক দখলের যুদ্ধ; যেটাকে আমেরিকা নিজের ইজ্জত ঢাকতে, পর্দার আড়ালে ফেলতে বলে থাকে ‘ওয়ার অন টেরর’। ওই যুদ্ধে আমেরিকার আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি আর এর চেয়েও বড় বিষয় হলো, আমেরিকার এই যুদ্ধ জয়লাভের অযোগ্য হয়ে গিয়েছিল। তা হয়ে পড়েছিল সমাপ্তির টার্গেটবিহীন এক অনন্ত যুদ্ধ। অথচ এ যুদ্ধের খরচ বইবার সামর্থ্য আমেরিকার অর্থনীতির ছিল না। তাই আমরা স্মরণ করতে পারি পরের প্রেসিডেন্ট ওবামার সিদ্ধান্তকে। আফগান যুদ্ধ কবে শেষ হবে সেই টার্গেট নয়, বরং আমেরিকান অর্থনীতি কষ্ট করে হলেও সর্বোচ্চ কত দিন ব্যয় বইতে সক্ষম হতে পারে বা করা ঠিক হবে- এই ভিত্তিতে টার্গেট ঠিক হয়েছিল ২০১৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মার্কিন সৈন্য ফেরত আনতেই হবে। এভাবেই যুদ্ধের খরচ থামানোর প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন করেছিলেন ওবামা। এটা চলতি বছরে আর একটা ধাপ শেষ করার জন্য চুক্তি করা হলো। আর সঙ্গী ইউরোপের যারা ভেবেছিল লোভ-লিপ্সার কথিত যুদ্ধজয়ের থেকে উচ্ছিষ্ট কিছু নিজের ভাগেও আসবে, সেটিও না হওয়াতে তাদের অর্থনীতিও একই সময়ে মহামন্দায় বিপর্যস্ত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু যে কথাটা বলার জন্য এখানে এত আয়োজন, তাহলো- এই ২০০৭ সালের দ্বিতীয় মহামন্দার ধাক্কা প্রধানত লেগেছিল আমেরিকা-ইউরোপে, পশ্চিমা দেশে। এমনকি সেকালের ক্রমশ দৃশ্যমান, উত্থিত (১৯৯০-২০১০ বিশ বছরের রাইজিং চীন) হতে থাকা চীন- এই চীনের ওপর মন্দার পরোক্ষ প্রভাব কমই হয়েছিল। আমাদের এশিয়াতেও এর প্রভাব হয়েছিল আরো কম। কেন?

এর সোজা অর্থ হলো, তত দিনে পশ্চিমের সাথে এশিয়ার পণ্য-বিনিময় লেনদেন সম্পর্ক হাল্কা হতে শুরু হয়ে গিয়েছিল; আবার এশিয়ায় চীনের সাথে নতুন করে ততটাই সম্পর্কে লিপ্ত হওয়া শুরু হয়ে গিয়েছিল, তাই।

আমরা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছি ইকোনমিক গ্লোবালাইজেশন অন্য ভাষায় পণ্য ও পুঁজি বিনিয়োগে লেনদেন-বিনিময়ের সম্পর্ক গ্লোবাল হয়ে ওঠার ফেনোমেনাটাকে। মনে রাখতে হবে, গত শতকের শেষ অর্ধেক, বিশেষ করে শেষ বিশ বছর ছিল লেনদেন-বিনিময়ের সম্পর্কের (এই প্রথম) ব্যাপক গ্লোবাল হয়ে পড়ার দিকে বিকশিত হতে শুরু করার সময়। আমাদের গার্মেন্টেসে উত্থান সে কালেরই ঘটনা। পরে নতুন শতকের শুরু থেকেই আমাদের লেনদেন বিনিময় সম্পর্কগুলো পশ্চিমের চেয়ে বেশি করে, চীনের অভিমুখী হওয়া শুরু করেছিল। আমাদের মতো দেশ বা চীনের ওপর গত ২০০৭ সালের দ্বিতীয় মহামন্দার প্রভাব তেমন না পড়াকে সম্ভবত এভাবেই সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যাখ্যা করা যায়।

মূলত কোনো রাষ্ট্রের অর্থনীতি ব্যর্থ হলে ওর সাথে আমাদের সম্পর্কিত অর্থনীতিতেও কতটা ধস নামে এর মাত্রাটাই বলে দেয় যে, আমরা ওই ধসনামা রাষ্ট্রের অর্থনীতির সাথে কত গভীরে জড়িয়ে আছি।

কিন্তু এবার, করোনাভাইরাসের কালে?
এত দিনে এশিয়া তো বটেই, পশ্চিমও এখন চীনের সাথে অনেক অনেক বেশি গভীর সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট হয়ে গেছে ও রয়েছে। তার প্রধান চিহ্ন-লক্ষ্য হলো, দুনিয়ায় উদ্বৃত্ত সম্পদ বা অর্থনীতির সারপ্লাস এখন সঞ্চিত হওয়ার প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে চীন। এই সারপ্লাসেরই আরেক নাম ‘পুনঃবিনিয়োগ সক্ষমতা’; যে সক্ষমতা আছে চীনের। তাই আমরা অন্তত এশিয়ার সবাই এখন আমাদের লেনদেন বিনিময় সম্পর্কগুলো প্রধানত চীনমুখী করে ফেলেছি বা তা হয়ে গেছে। আর এই চীনা-নির্ভরশীল হয়ে সম্পর্ক গড়ে ওঠার প্রধান কারণ আমাদের সব উৎপাদনের কাঁচামালের পুরোটাই বা অন্তত কোনো-না-কোনো একটার নির্ভরযোগ্য উৎস- সেটি মূল্যের দিক থেকে বা সহজ নির্ভরযোগ্য প্রাপ্যতা হিসাবে- প্রধানত এখন চীন।

তাই সার কথায় করোনাভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া আমাদের- অন্তত এশিয়ার অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে; স্থবির করবে বা থামিয়ে দেবে। যেমন চীনা কাঁচামাল বা তৈরি করা পণ্যের ভোক্তা হিসেবে বাংলাদেশের বাজারে তাই বাজারের ভাষায় ‘সাপ্লাই বন্ধের’ আওয়াজ ওঠা শুরু হয়েছে। ওদিকে ভারতের অবস্থা আরো কাহিল। ইন্ডিয়ান মিডিয়া বলছে, সাধারণভাবে চীনা বিকল্প হাতে পাওয়ার দিক থেকে ভারতের হাতে অপশন খুবই কম, প্রায় নেই। যেমন ভারতের ওষুধ কোম্পানির ব্যবসা কাঁচামালের দিক থেকে বলতে গেলে পঞ্চাশ ভাগের মতো উৎস হলো চীন। ফলে ব্যাপক নির্ভরশীলতা চীনের ওপর। ভারতের সব পণ্যের মোট আমদানির ১৪ শতাংশের উৎস চীন। আর ১৯টা আমদানি আইটেমের ৪০ শতাংশের আমদানি উৎস চীন। ভারতের ক্ষেত্রে এসব কিছুর মূল কারণ সস্তা হওয়া। আসলে করোনাভাইরাস এমন অনেক বাস্তবতাকেই আমাদের সামনে তুলে ধরছে।

তাহলে বাস্তব পরিস্থিতিতে এখান থেকে বের হওয়ার পথ কী? আশার আলো কী? যদি ভাইরাসের প্রতিষেধক পাওয়া যাবে কি না বা সেটি কবে এই প্রশ্নের জবাব হলো চলতি বছরে তা হাতে পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই কম। দ্বিতীয়ত, আরেক পথ-সম্ভাবনার চিহ্ন হলো, ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার একটা চরমকাল থাকে যারপর থেকে এতে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা কমতে শুরু করে- সেই পিক আওয়ার কবে অথবা তা কী পার হয়ে গেছে? এটা জানার জন্য অনেকেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। কারণ মানুষের মধ্যে সেলফ রেজিস্ট্যান্স তৈরি হওয়া শুরু হলে অন্তত একটা সময় গোনা শুরু করা যায় যে, কত দিনে রিকভারি বা ক্ষতি থেকে বের হওয়া সম্ভব! চীনা সরকার এ ধরনের একটা ধারণা-ইঙ্গিত এখনই দেয়ার চেষ্টা করছে। তবে এটা সময়োপযোগী মনে করে তাতে দেশী-বিদেশী লোকেরা আস্থা এখনো রাখতে পারেননি। তারা কথাটা নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে শুনতে চাচ্ছেন। বাংলাদেশের চীনা রাষ্ট্রদূত আবেদন রেখেছেন, বাংলাদেশের অন-অ্যারাইভাল ভিসা যেটা দেয়া বন্ধ রেখেছে সেটি আবার আগের মতো দিতে। বলাই বাহুল্য, এটা টু আর্লি বা ‘খুব তাড়াতাড়ি’ হয়ে যায়। বাংলাদেশও তাতে সাড়া দেয়নি। চীনে করোনাভাইরাস আক্রমণের চরম সময় পেরিয়েছে কি না সেটা জানতে পারা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যদি সেটি জানা যায়, তবুও পরবর্তী ছয় মাসের আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না।

আমাদের জন্য এখন প্রধান সমস্যাটা হলো- জনসমাবেশ ঘটে এমন কোনো কিছুই এই ভাইরাস অনুমোদন করে না। যেমন, পঞ্চাশজনের একই বাসে ভ্রমণ বা দেড়-দু’শজনের বিমানে ভ্রমণ, স্কুলের ক্লাসে বা কারখানার কাজে কিংবা বাজারে, স্টেশনে যেকোনো জনসমাবেশই এ কারণে বিরাট ঝুঁকি ডেকে আনতে পারে। এমন রিস্কগুলো এখনো আমরা নিচ্ছি। সব মিলিয়ে আমাদের অর্থনীতি বিরাট ধরনের রিস্কের মধ্যে আছে। এর মধ্যে আবার আমাদের গার্মেন্ট কোম্পানিগুলোকে ইউরোপের বায়ারদের ধীরে চলতে বলা নিঃসন্দেহে খারাপ লক্ষণ!

লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক
[email protected]


আরো সংবাদ