৩১ মার্চ ২০২০

বর্ণবাদের আত্মপ্রশস্তি

-

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে স্তুতি ও প্রশংসার সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছেন। আহমেদাবাদের মোটেরায় সরদার পাটেল স্টেডিয়ামে দেয়া ভাষণে মোদিকে ‘বিশেষ বন্ধু’ বলে সম্বোধন করেন ট্রাম্প। বন্ধুর স্বীকৃতি দিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘তার উত্থান চমকপ্রদ। তিনি এক মহান ব্যক্তি।’ স্টেডিয়ামে পৌঁছার আগে ট্রাম্প মহাত্মা গান্ধীর আশ্রমে গিয়েছিলেন। সেখানে অহিংসাবাদের চর্চাকারী এ নেতার কোনো প্রশস্তি তিনি গেয়েছেন কি না জানা যায়নি। তবে ভিজিটরস বুকে তিনি মোদিকে ‘গ্রেট ফ্রেন্ড’ বলে উল্লেখ করেছেন। বিশেষায়ণের এ উচ্চাঙ্গ প্রয়োগ ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে প্রায়ই দেখা যায়। দৈনন্দিন কাজকর্মে যেমন মাত্রা ছাড়ান, প্রশংসা এবং নিন্দা করতে গিয়েও তিনি সীমা ছুঁয়ে যান। মোদি নিজেও ট্রাম্পের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

এই সফরের দিনক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছিল ট্রাম্প ও মোদির উত্তেজনা চার দিকে ছড়িয়ে পড়ছিল। ট্রাম্প জানালেন মোদি তাকে ৭০ লাখ মানুষ দিয়ে আহমেদাবাদে অভ্যর্থনা জানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মোদি এমনটি বলেছেন কি না বিষয়টা নিশ্চিত করে জানা গেল না। তবে এ নিয়ে মিডিয়া প্রতিবেদনে হাসিঠাট্টার উদ্রেক করেছে। সর্বশেষ জরিপে দেখা যাচ্ছে, আহমেদাবাদের জনসংখ্যা ৫৬ লাখ। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে আয়োজিত ‘হাউডি মোদির’ জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের বিপরীতে ‘নমস্তে ট্রাম্পের’ বিশাল আয়োজন। বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রিকেটের স্টেডিয়াম উদ্বোধনে জড়ো করা হয়েছে এক লাখ মানুষ। বিপুল ভারতীয় মানুষের আতিথেয়তা গ্রহণের জন্য ট্রাম্পের আর ত্বর সইছিল না। তিনি এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠার আগ থেকে ধারাবাহিক টুইট করে চলেছিলেন। সর্বশেষ আহমেদাবাদে নামার আগেও ভারতের জনগণকে অভিবাদন জানিয়ে টুইট করেন। মোদিও এর জাবাবে পাল্টা টুইট করে গিয়েছেন।

ট্রাম্পের দৃষ্টি প্রফুল্ল করার জন্য গুজরাট শহর মনোরম সাজে সাজান মোদি। শহরটিকে ধুয়ে-মুছে সাফ-সুতরো করতে খরচ হয়েছে ছয় কোটি রুপি। এ উপলক্ষে রাস্তা চওড়া করা হয়, তাতে খরচ হয় ৩০ কোটি রুপি। নতুন স্টেডিয়ামমুখী এসব রাস্তা ভবিষ্যতে মানুষের চলাচলে কাজে আসবে। সব মিলিয়ে ট্রাম্পের সফরে শুধু গুজরাট খরচ করছে ৮০ থেকে ৮৫ কোটি টাকা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স হিসাব করে দেখেছে, এটি রাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক বাজেটের ১ দশমিক ৫ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন ধরাতে এই খরচ খুব একটা বেশি কিছু নয়। এই সফরজুড়ে আলোচনায় ছিল একটি দেয়াল। মোটর শোভাযাত্রায় ট্রাম্পের চোখ যাতে বস্তিতে না পড়ে সেজন্য রাস্তার পাশে ছয় ফুট উঁচু একটি দেয়াল দিয়ে বস্তি আড়াল করে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্টেডিয়ামের সৌন্দর্য বর্ধনে ৪০ জনের বেশি বস্তিবাসীকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। শোভাযাত্রার পথে থাকা হকারদের তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তাদের রুটি-রুজির উৎস ভ্রাম্যমাণ স্থাপনা সরিয়ে দেয়া হয়েছে। শোভাবর্ধন আর বস্তি উজাড় করে গুজরাট প্রশাসন ক্ষান্ত হয়নি, পুরো এলাকা কুকুর, বিড়াল ও বানরমুক্ত করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের গার্ডিয়ান পত্রিকা লিখেছে, দুর্ভাগ্য হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন অগ্রাহ্যকারী ট্রাম্প গুজরাটে আসছেন, যে রাজ্যটি ইতোমধ্যে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাবের মুখোমুখি হয়েছে। এখানে পানির হাহাকার রয়েছে, রাজ্যটির বিভিন্ন শহরের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে। সেখানকার পরিবেশবাদীদের উদ্বুদ্ধ করে পত্রিকাটি লিখেছে, ট্রাম্পের আগমনে নিরাপত্তার তাগিদ দেখিয়ে শহরের অসংখ্য গাছ কাটা হয়েছে। ট্রাম্পের সফরে আরেকটি কৌতূহলের ব্যাপার ঘটল। দুটো নদী তার চোখের সামনে পড়তে পারে। এজন্য দুটো নদীর পানিপ্রবাহ কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। গুজরাটে সবরমতি ও আগ্রার যমুনা নদীতে অন্য নদী থেকে বাইপাস করে পানিপ্রবাহ বাড়ানো হয়েছে। যাতে করে ট্রাম্প ও তার সফরসঙ্গীরা এগুলোকে একটি সচ্ছল সবল পানিপ্রবাহের নদী হিসেবে দেখেন। ভারতের অনেক নদীর অবস্থা খারাপ। দূষণ ও পানি প্রত্যাহারের কারণে অনেক নদীর এখন মরণদশা। কৃত্রিম প্রবাহ বাড়িয়ে নদীর যৌবন দেখাতে চায় ট্রাম্পকে ভারত।
ট্রাম্পকে যাতে কোনো ধরনের বিড়ম্বনায় পড়তে না হয়, সেজন্য মোদি সরকার সম্ভাব্য কোনো কিছু করতে বাকি রাখেনি। পুলিশ উপস্থিতি গুজরাটে এতটাই বাড়ানো হয়েছে যে, অধিকার কর্মীরা জানাচ্ছেন, তাদের যেন গৃহবন্দী রাখা হয়েছে। একজন অধিকার কর্মী গার্ডিয়ানকে জানাচ্ছেন, ক’দিন ধরে নিবিড় পর্যবেক্ষণের মধ্যে রয়েছি। যেখানেই যাচ্ছি কেউ না কেউ আমাদের ফলো করছে। তারা আমাদের গ্রেফতার করছে না ঠিক, সন্ত্রস্ত করে রাখছে। এমন পরিবেশ সৃষ্টি করেছে আমরা ভীতির পরিবেশের মধ্যে রয়েছি। পুলিশ উপস্থিতি বাড়িয়ে মুসলিম সম্প্রদায়কে হয়রানি করা হচ্ছে এ উপলক্ষে।

বর্তমান গণতান্ত্রিক শাসনের বাস্তবতা হচ্ছে- সারা বিশ্বের গণতান্ত্রিক শাসনের মানের অবনতি ঘটছে। এ জন্য যদি দু’জন প্রধান ব্যক্তিকে দায় নিতে হয় তাহলে প্রথম দু’টি নামই হবে যথাক্রমে ট্রাম্প ও মোদি। অথচ ট্রাম্প বলছেন, মোদি এক মহান ব্যক্তি। অথচ বেশি দিন আগের কথা নয়, ট্রাম্পের দেশ আমেরিকা গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকা অবস্থায় মোদির যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তখন মোদির বিরুদ্ধে এক নারকীয় হত্যাযজ্ঞের ইন্ধনদাতা হিসেবে অভিযোগ এসেছিল। ২০০২ সালে গুজরাটে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধিয়ে দেয়া হয়। শেষ পর্যন্ত এ দাঙ্গা রূপ নেয় মুসলিম নিধনে। সেটা থেমে থেমে কয়েক বছর চলেছে। রাষ্ট্রীয় মদদে পরিচালিত ওই সন্ত্রাসে দুই হাজার মুসলমানকে হত্যা করা হয়। হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি থেকে উৎখাত হয়ে যায়। পাড়া-মহল্লায় যখন পৈশাচিক কায়দায় মানুষ হত্যা করা হচ্ছিল, নিরাপত্তা বাহিনী ঠায় পাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সেটা দেখছিল। এটা ভুলক্রমে এক দিন-দু’দিন নয়, থেমে থেমে কয়েক বছর চলেছে। মোদি তখন গুজরাটের ক্ষমতাধর মুখ্যমন্ত্রী।

ফলে ২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র মোদিকে কূটনৈতিক ভিসা দিতে অস্বীকার করে। তার কাছে থাকা আগের বিশেষ কূটনৈতিক ভিসাও বাতিল করে দেয়। ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাক্ট’ আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। এ ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয় সেসব সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যারা সরাসরি জনগণের ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘন করেন। মোদি যুক্তরাষ্ট্রে এই আইনে নিষিদ্ধ হওয়া একমাত্র রাজনৈতিক ব্যক্তি। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর ধর্ম-বর্ণের ভিত্তিতে ভারতীয় রাজনীতিতে হিংসাবিদ্বেষের যে চর্চা সেটা সারা ভারতে আরো বিপুলভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এর একচেটিয়া শিকার হচ্ছেন সংখ্যালঘুরা। গো-রক্ষকদের প্রকাশ্যে সাধারণ মানুষ হত্যার ঘটনা নিয়মিতই ঘটে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এ রাষ্ট্রের মূলনীতি সব নাগরিকের সমানাধিকার ও মানবাধিকার। এ অবস্থায় এভাবে একজন বর্ণবাদী ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর স্তুতি ও উচ্চ প্রশংসার হেতু মানুষের বুঝতে অসুবিধা হয় না।

ট্রাম্পের দিল্লি সফরের কয়েক ঘণ্টা আগে সেখানে নাগরিক সংশোধনী আইন সিএএ’র বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। সরকার সমর্থকগোষ্ঠী তাদের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হলে পুলিশসহ চারজন এ সময় প্রাণ হারান। ট্রাম্পের সফরের দুই দিনে দিল্লিতে বিক্ষোভ আরো জোরালো হয়। শেষ পর্যন্ত ১৭ জন প্রাণ হারান। সফরের শুরুতে বল্লভ ভাই প্যাটেল স্টেডিয়ামে তার সংবর্ধনায় ট্রাম্প বলছেন, ‘এই দেশে, হিন্দু, মুসলমান, খ্রিষ্টান, শিখ- সবাই একসাথে থাকেন। ভারতের ঐক্য ও সংহতি বিশ্বের কাছে উদাহরণ। এই দেশ বৈচিত্র্যের।’ প্রকৃত বাস্তবতা হলো, ভারতে দুর্বল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্যে মোদি সরকার বিতর্কিত আরো কিছু আইনকানুন করে সেটাকে আরো ভঙ্গুর করে দিয়েছে। ঠিক এই সময়ে ট্রাম্প ভারতকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দেশ বলে প্রশংসা করতে চাইছেন। অথচ মোদির সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় যে বিক্ষোভ হচ্ছে; বিগত চল্লিশ বছরে ভারতে দেশব্যাপী এমন উত্তাল আন্দোলন হয়নি। মোদি সরকার সংবিধানে দেয়া কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা লুপ্ত করেছে, অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের স্থানে রামমন্দির নির্মাণ করতে যাচ্ছে, নতুন নাগরিক আইন করে মুসলমানদের বঞ্চিত করেছে। মুসলমানদের ভারত থেকে তাড়িয়ে দেয়ার জন্য অব্যাহতভাবে সরকারের কর্তাব্যক্তিদের পক্ষ থেকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। ঠিক এই সময়ে মোদির স্তুতি ও প্রশস্তি গেয়ে ট্রাম্প মূলত বর্ণবাদের পক্ষে অবস্থান নিলেন।

এত দিন ট্রাম্প বলে আসছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ভারত অধিক সুবিধা হাতিয়ে নিচ্ছে। তিনি ক্ষমতায় আসার অনেক আগে থেকে এ প্রচারণা করে আসছেন। দুটো দেশের মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্যে ভারতকে আর কোনো বাড়তি সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে না- এমন অঙ্গীকারই তিনি প্রকাশ্যে করে আসছিলেন। এবারের সফর ঘিরে ট্রাম্প চুপচাপ। তিনি আপাতত মোদির উষ্ণ অভ্যর্থনাই এনজয় করলেন। তিনি বরাবর দেখাতে চান অনেক বেশি মানুষ তাকে ভালোবাসে, পছন্দ করে। সেজন্য তিনি কয়েকবার দাবিও করেছেন, ওবামার চেয়ে তার অনুষ্ঠানে বেশি জনসমাগম হয়। ভারতে লাখ লাখ মানুষ উপস্থিত করে তাকে সম্মান জানানো হচ্ছে দেখে তিনি অনেকটাই আবেগাপ্লুত। একজন দায়িত্ববান রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে ভারসাম্য বজায় রাখতে তিনি কখনো পারেননি। ভারত সফরের ক্ষেত্রেও তেমনটি হলো। তবে জাতীয় স্বার্থের বেলায় ট্রাম্পের অবস্থান জাতে মাতাল তালে ঠিক বলতে হবে। ভারতকে সুযোগ সুবিধা দিয়ে এখন পর্যন্ত বড় কোনো বাণিজ্যিক চুক্তি তিনি করেননি।

এই সফরে ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের কী অর্জন হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে খুব একটা প্রচার-প্রচারণা নেই। ভারতীয় মিডিয়া ট্রাম্পের সফর নিয়ে ব্যাপক কাভারেজ দিচ্ছে। এ কাভারেজও মোদি সরকারের রাষ্ট্রীয় প্রচারণার সমান্তরাল ধারায় রয়েছে। আগেই জানা গেছে, এই সফরে যুক্তরাষ্ট্রের সমরাস্ত্রের বাণিজ্য হবে। ভারত ২৪টি সি-হক হেলিকপ্টার ক্রয় করবে, যার মূল্য আড়াই শ’ কোটি ডলার। অন্য চুক্তিটি ছটি পরমাণু চুল্লি নির্মাণসংক্রান্ত। এ সফরে আরো কিছু সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় নিয়ে গোপনে আলোচনা হতে পারে বলে সামরিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। রাজধানী দিল্লিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সুরক্ষিত করার প্রকল্পের সাথে ছয়টি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার সরবরাহ করার দেনদরবারও এতে হতে পারে। ট্রাম্প ও মোদি পরস্পরের ব্যাপক স্তুতি-স্তাবকতা করলেও বাণিজ্য সুবিধা আদায়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মোদির মতো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামার কোনো রেকর্ড নেই। রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ট্রাম্প একজন রেসলার, সহজ ভাষায় যাকে কুস্তিগির বলি। মানুষকে উৎপীড়ন করে মজা পায় এমন মানুষের দলে রয়েছেন তিনি। মানুষকে মেরে অপমান-লাঞ্ছনা করে বিনোদন করছেন, এমন বহু ভিডিও রেকর্ড রয়েছে তার। তার আরেকটি বিকৃতি রয়েছে যৌনতাসংক্রান্ত। অনেকের বিরুদ্ধে তিনি যৌনসন্ত্রাস চালিয়েছেন। ২৫ জন নারী তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছেন এ ব্যাপারে। এর মধ্যে তার সাবেক স্ত্রীও রয়েছেন। বিশ্ব সুন্দরী, নায়িকা, গায়িকারা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। এটিকে নিজেদের প্রেসিডেন্ট বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের পছন্দের অধঃপাত বলতে হবে। ক্ষমতায় আসার পরও তিনি বেসামাল রয়েছেন। অর্ধসত্য মিথ্যা উদ্ভট আশ্চর্য সব কর্মকাণ্ড তিনি করে চলেছেন।

একটি চলতি কথা রয়েছে, তুমি যদি আমাকে ‘হাজী’ বলো আমি তোমাকে ‘কাজি’ বলব। মোদি ট্রাম্প বিশ্বসভায় পরিচিত দু’টি মুখ। সবাই তাদের পার্সোনাল প্রোফাইল জানেন। তাদের পক্ষে কেউ চারিত্রিক সনদ নিয়ে আসবেন, এমন নেতা বিশ্ব আঙিনায় নেই। এ জন্যই কি তারা দু’জন নিজেদের একে অপরের প্রশংসা গেয়ে চলেছেন।

[email protected]


আরো সংবাদ