ইরানের খলিলজাদেহ বল জড়ালেন জালে। ম্যাচে তখন ইনজুরি টাইমের তৃতীয় মিনিট চলমান। শেষ মুহূর্তে জয়ের উচ্ছ্বাসে মাতলো ইরান। কিন্তু ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) কেড়ে নিল সেই হাসি। অফসাইডে বাতিল হলো গোল। আর এতে ১-১ গোলে ড্র হয়ে গেল মিসর-ইরানের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ।
এই ড্রয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৯২ বছরের অবসান কাটিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে পা রাখল মিসর। সর্বপ্রথম ১৯৩৪ এবং পরে ১৯৯০ ও ২০১৮ বিশ্বকাপ খেললেও পা রাখতে পারেনি নকআউট পর্বে।
ম্যাচের মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই মিসরকে এগিয়ে নিয়ে যান মাহমুদ সাবের। মোহাম্মদ সালাহর শট ইরানের গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ ঠিকমতো সামাল দিতে না পারলে ফিরতি বলে প্রথম ছোঁয়ায় জোরাল শটে জাল খুঁজে নেন মাহমুদ।
তার কিছুক্ষণ পর আবদেলমোনেমের ফাউলে পেনাল্টি পায় ইরান। তবে ইরানের তারকা স্ট্রাইকার মেহেদি তারেমির নেয়া পেনাল্টি শটটি দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন মিসরীয় গোলরক্ষক মোস্তফা শুাবির।
তবে মাত্র ১৪ মিনিটের মাথায় সমতায় ফেরে ইরান। পেনাল্টি মিসের ধাক্কা সামলে অবশ্য ম্যাচের ১৪ মিনিটেই ইরানকে সমতায় ফেরান রামিন রেজায়িয়ান।
বিরতির আগে ও পরে উভয় দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করে। ইরানের খলিলজাদেহের হেড অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়, অন্যদিকে মিসরের ট্রেজেগের শট রুখে দেন বেইরানভান্দ।
৮৯তম মিনিটে তারেমির শক্তিশালী হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে খলিলজাদেহ বল জালে জড়িয়ে ইরানকে এগিয়ে দিয়েছেন বলে মনে হলেও ভিএআর পর্যালোচনায় গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।
ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে এজাতোলাহির ছয় গজ দূর থেকে নেয়া শটও ক্রসবারে লেগে ফিরে আসলে ভাগ্যের কারণে জয়বঞ্চিত হয় ইরান।
এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে শেষ ৩২-এ উঠেছে মিসর। নকআউট পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ডালাস স্টেডিয়ামে।
অন্যদিকে ইরান সেরা তৃতীয় স্থান অধিকারী দলগুলোর একটি হিসেবে এখনো অপেক্ষায় রয়েছে।



