বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার পর ব্যালন ডি’অর জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী কিলিয়ান এমবাপ্পে। রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকার মতে, ২০২৬ সালটা হতে পারে তার ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো বর্ষসেরা ফুটবলারের এই পুরস্কার জয়ের উপযুক্ত সময়।
২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পে গত মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৪৪ ম্যাচে করেছেন ৪২ গোল। তবে ব্যক্তিগতভাবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও দলটি কোনো শিরোপা জিততে পারেনি। অন্যদিকে, ২০২৬ বিশ্বকাপে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন এমবাপ্পে।
আসরে ১০ গোল করে জিতেছেন গোল্ডেন বুট। তিনটি বিশ্বকাপ মিলিয়ে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তবে তার দল ফ্রান্স আসর শেষ করেছে চতুর্থ হয়ে।
ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে শিরোপাহীন মৌসুম কাটালেও এবারের ব্যালন ডি’অর জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এমবাপ্পেকে। রিয়াল মাদ্রিদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিযান শুরুর আগে সোমবার সংবাদ সম্মেলনে নিজের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন তিনি।
এমবাপ্পে বলেন, ‘আমার মনে হয়, যখন বিশ্বের সেরা ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলেন, তখন মানুষ আপনাকে এই পুরস্কারের সাথে যুক্ত করবেই। আমাকেও ব্যালন ডি’অর নিয়ে অনেকেই কথা বলেন। অবশ্যই আমি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় ইতিহাস গড়েছি। হয়তো এর জন্য এটা ভালো বছর, কিন্তু মানুষ তাদের নিজেদের ভাবনা অনুযায়ী ভোট দিতে পারে।’
‘আমি সবসময় মনে করি, আমিই বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়, কিন্তু প্রত্যেকেরই নিজস্ব মতামত আছে। হয়তো মানুষ ভিন্নভাবে চিন্তা করে। আমার মনে হয় না, এই আলোচনা আমাদের করা দরকার। অবশ্যই, ব্যালন ডি’অর জিততে এই বছর আমার জন্য ভালো হতে পারে। কিন্তু ভোট দেন সাংবাদিকরা।’
নিজের সামর্থ্য নিয়ে এমবাপ্পের আত্মবিশ্বাসও বরাবরের মতোই দৃঢ়। তিনি মনে করেন, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় তিনি নিজেই। তবে ব্যালন ডি’অর নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা করতে চান না এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।
ফরাসি সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’ মঙ্গলবার ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করবে। আগামী ২৬ অক্টোবর ঘোষণা করা হবে বিজয়ীর নাম।
এবারের পুরস্কারে এমবাপ্পের অন্যতম বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এগিয়ে আছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। গত মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ৫১ ম্যাচে ক্লাব রেকর্ড ৬১ গোল করেছেন তিনি। ঘরোয়া ডাবল জয়ের পাশাপাশি বিশ্বকাপে করেছেন ছয় গোল। সব মিলিয়ে মৌসুমে তার গোলসংখ্যা ৭৩।
বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা এবং স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা লামিন ইয়ামালও ব্যালন ডি’অর জয়ের অন্যতম দাবিদার।২০২৫-২৬ মৌসুমে ৪৫ ম্যাচে ২৪ গোল করেছেন ১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
উল্লেখ্য, মোনাকোয় ক্লাব ক্যারিয়ার শুরু করা এমবাপ্পে পরে পিএসজিতে যোগ দেন। প্যারিসের ক্লাবটির হয়ে ৩০৮ ম্যাচে তার গোল ২৫৬টি। ফ্রান্সের হয়ে ১০৬ ম্যাচে করেছেন ৬৬ গোল। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এখন পর্যন্ত ১০৭ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ৯০।
তবে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর টানা দুই মৌসুমে বড় কোনো শিরোপা জিততে পারেননি এমবাপ্পে। অথচ তার সাবেক ক্লাব পিএসজি এই সময়ে টানা দু’বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছে।
এমবাপ্পে টানা আটটি লিগে গোল্ডেন বুট জিতেছেন- ছয়টি লিগ আঁ এবং দুটি লা লিগায়। বিশ্বকাপে দুটি এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও দুটি গোল্ডেন বুট রয়েছে তার ঝুলিতে।
ফ্রান্সের হয়ে ২০১৮ বিশ্বকাপ জেতা এমবাপ্পের ক্যারিয়ারে এখনো একটি অপূর্ণতা রয়ে গেছে- ক্লাব পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা। এবার ব্যালন ডি’অর জিতে সেই আক্ষেপের কিছুটা হলেও ঘোচাতে পারবেন কি না, সেটিই দেখার বিষয়।



