ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জি’-এর শেষ ম্যাচে মিসরের সাথে ১-১ গোলে ড্র করেছে ইরান। নাটকীয় এই ড্রয়ের ফলে সরাসরি দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করতে না পারলেও সেরা তৃতীয় স্থানধারী দল হিসেবে নকআউট পর্বে ওঠার আশা এখনো আছে দলটির।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ইরানের প্রধান কোচ আরদাশির আমির কালেনোয়ি জানান, নকআউট পর্বে উঠতে পারলে তার দল যেকোনো প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।
তিনি বলেন, ‘আগামীকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে যদি আমরা পরের রাউন্ডে উঠি, তাহলে যেকোনো দলের বিপক্ষে খেলতে প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে খেলতে পারলেও আমরা খুশি হব।’
কালেনোয়ি নিজের খেলোয়াড়দের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘আমার দেশ, ইরানের শহীদ এবং আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে আমি গর্বিত। জাতীয় দলের তরুণরা যা করেছে, তা ইতিহাসে লেখার মতো। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আমরা গ্রুপ পর্বে কোনো ম্যাচ হারিনি।’
সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকদের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইরানি কোচ। তার অভিযোগ, ইরানকে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ দেয়া হয়নি এবং দলটি টুর্নামেন্টজুড়ে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছ থেকে ন্যায্যতা কেড়ে নেয়া হয়েছে। যদি আমরা আরো আগে এসে প্রস্তুতি নিতে পারতাম, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। মিসর বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলের সাথে খেলেছে। আর আমরা খেলেছি তিহুয়ানার একটি যুব দলের বিপক্ষে। এসব বিষয় অবশ্যই আমাদের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলেছে।’
মিসরের বিপক্ষে বাতিল হওয়া গোলগুলোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে কালেনোয়ি বলেন, ‘প্রযুক্তির মাধ্যমে অফসাইডের সিদ্ধান্ত সঠিক হয়েছে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য হলো, তিনটি গোল খুব অল্প ব্যবধানে বাতিল হয়েছে। একটি পাঁচ সেন্টিমিটার, একটি ১০ সেন্টিমিটার এবং আরেকটি ৩০ সেন্টিমিটার অফসাইড ছিল। তিনটি অফসাইড মিলিয়েও এক মিটার হয় না।’
তিন ম্যাচে তিন ড্র ও তিন পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে গ্রুপ ‘জি’-এর তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইরান। অন্যদিকে, পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে বেলজিয়াম ও মিসর যথাক্রমে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ হিসেবে সরাসরি নকআউটে উঠে গেছে।
এখন ইরানের ভাগ্য নির্ভর করছে অন্য গ্রুপগুলোর ফলাফলের ওপর। নির্দিষ্ট কয়েকটি ফলাফল একসাথে না ঘটলে সেরা তৃতীয় স্থানধারী দল হিসেবে নকআউটের টিকিট পেতে পারে ইরান। ফলে মিসরের সাথে নাটকীয় ড্রয়ের পরও বিশ্বকাপে ইরানের নকআউট স্বপ্ন এখনো বেঁচে রয়েছে।
সূত্র : পার্সটুডে



