ইতিহাস গড়া অব্যাহত রেখেছে ডিআর কঙ্গো। বিশ্বকাপের বিস্ময় হয়ে উঠেছে যেন তারা। ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরুর পর এবার প্রথম জয়ও পেয়ে গেছে আফ্রিকান দেশটি, পেয়েছে নকআউটের টিকিটও।
আটলান্টায় গ্রুপের শেষ ম্যাচে নাটকীয়ভাবে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জিতেছে ডিআর কঙ্গো। আর এই জয়ে তৃতীয় সেরা দলগুলোর একটি হয়ে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে তারা।
৫২ বছর পর বিশ্বকাপে আসা দলটার প্রথম জয় এটিই। ১৯৭৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেললেও ডিআর কঙ্গো জয়ের দেখা পায়নি। পায়নি কোনো গোল বা পয়েন্টও। তবে এবার যেন নতুন রূপকথাই লিখল তারা।
অথচ বিশ্বকাপে টিকে থাকতে জিততেই হবে- এমন সমীকরণে মাঠে নেমে শুরুতেই গোল খেয়ে বসল ডিআর কঙ্গো। অনেকটা সময় পর্যন্ত পিছিয়ে থাকায় তাদের সম্ভাবনাও ফিকে হয়ে আসছিল একটু করে।
তবে ১০ মিনিটের এক ঝড়ে বদলে গেল চিত্র। দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে নকআউট পর্বে উঠে আফ্রিকার দলটি। যদিও সেখানে দিতে হবে কঠিন পরীক্ষা। তাদের প্রতিপক্ষ সাবেক চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড।
আটলান্টায় বাংলাদেশ সময় রোববার সকালের ম্যাচে ম্যাচের ১০ মিনিটেই গোল হজম করে ডিআর কঙ্গো। আকমাল মোজগোভয়ের দারুণ পাস থেকে বল জালে পাঠান এলদর শোমুরোদভ।
এই গোলে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় উজবেকিস্তান। যা ধরে রেখে বিরতিতেও যায় দলটা। অবশ্য ১৭ মিনিটে জালের দেখা পেয়েছিল কঙ্গোও। কিন্তু ভিএআর যাচাইয়ের পর বাতিল হয় গোলটি।
আক্রমণ শুরুর সময় নাথানায়েল এমবুকু হাত ছিটকে উজবেকিস্তানের শেরজোদ নাসরুল্লায়েভের মুখে আঘাত লাগায় ফাউল বিবেচনা করে বাতিল করা হয় এই গোল। ফলে আর সমতায় ফেরা হয়নি।
৬৭ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল কঙ্গো। পরের মিনিটে বক্সের ভেতরে ফাউল করে বসেন আবদুকোদির খুসানভ। পেনাল্টি থেকে সমতা টানেন ইয়োয়ান উইসা, নতুন করে জাগে আশা।
আর ৭৮তম মিনিটে দলকে এগিয়ে নেন দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামা ফিস্টন মায়েলি।কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ডান পায়ের জোরাল শটে বল জালে পাঠান তিনি। স্কোর হয় ২-১।
এবারই প্রথম কোনো বিশ্বকাপ ম্যাচে জোড়া গোল করল কঙ্গো। অবশ্য যোগ করা সময়ে আসে তৃতীয় গোল। এই গোল করে সব অনিশ্চয়তার ইতি টেনে দেন উইসা। ডিআর কঙ্গো এগিয়ে যায় ৩-১ গোলে।
ডিআর কঙ্গো প্রথম ম্যাচে পর্তুগালের সাথে ড্র করে চমক দেখায়। এরপর কলম্বিয়ার সাথে হারলেও এই জয়ে তারা ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় সেরা দল হিসেবে উঠে গেল দ্বিতীয় পর্বে। যা দেশটির কাছে স্বপ্নসম।



