বিশ্বকাপে স্বাভাবিকভাবেই নেই বাংলাদেশ। তবে মাঠে না থাকলেও বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরে বাংলাদেশ আছে অন্য এক পরিচয়ে—সমর্থক হিসেবে। আর সেই সমর্থনের তীব্রতা বরাবরের মতোই নজর কাড়ছে গোটা বিশ্বের।
বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশ যেন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। একপক্ষ ব্রাজিল, অন্যপক্ষ আর্জেন্টিনা। প্রিয় দলের ম্যাচের দিন দেশের অলিগলি, শহর-বন্দর থেকে গ্রাম—সবখানেই ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আবহ। পতাকা, জার্সি আর উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ।
ভিডিও ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই যুগে বাংলাদেশের সেই ফুটবলপ্রেম পৌঁছে গেছে সুদূর ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাতেও। লাতিন আমেরিকার দুই ফুটবল পরাশক্তি এখন ভালো করেই জানে, বাংলাদেশে তাদের প্রতি সমর্থন কতটা গভীর।
সেই ভালোবাসার আরেকটি প্রমাণ মিলল বিশ্বকাপ কভার করতে যাওয়া টি-স্পোর্টসের দুই সিনিয়র সাংবাদিক নাভিল খান ও রিফাত মাসুদের সৌজন্যে।
শেষ ৩২-এর ম্যাচে নাটকীয় লড়াইয়ে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে ব্রাজিল। শেষ মুহূর্তের সেই জয়ের পর যেমন বাংলাদেশে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন সেলেসাও সমর্থকেরা।
ম্যাচ শেষে স্টেডিয়ামেই ব্রাজিলের গোলরক্ষক আলিসন বেকারকে কাছে পেয়ে বাংলাদেশের কোটি ভক্তের ভালোবাসার কথা তুলে ধরেন ওই দুই সাংবাদিক।
এ সময় বাংলাদেশের সমর্থকদের উদ্দেশে আলিসন বলেন, ‘ধন্যবাদ বাংলাদেশ, আমাদের সমর্থন করার জন্য। আমি বাংলাদেশের অনেক ভিডিও দেখেছি। বাংলাদেশের মানুষকে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই।’
‘ব্রাজিলিয়ানরাও বাংলাদেশকে ভালোবাসে। এত ভালোবাসা দেয়ার জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। ঈশ্বর আপনাদের মঙ্গল করুন।’
জাপানের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়া ম্যাচে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরানো মিডফিল্ডার কাসেমিরোও ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে বাংলাদেশের সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এর আগে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজও বাংলাদেশের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা জানিয়েছিলেন। জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে তিনি বলেছিলেন-
‘আমি বাংলাদেশকে খুব ভালোবাসি। আমি সেখানে গিয়েছি। আমি জানি, বাংলাদেশের মানুষ আমাদের জন্য কতটা পাগল। বাংলাদেশের প্রতি আমার অনেক ভালোবাসা।’



