ইতিহাস গড়েছেন ফেললেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন তিনি। জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে পেছনে ফেলে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে গড়েছেন নতুন ইতিহাস।
বিশ্বকাপে ১৩ গোল নিয়ে এবারের আসর শুরু করেছিলেন মেসি। প্রথম ম্যাচেই আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে গোলসংখ্যা ১৬-তে নিয়ে যান। বসে যান বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা ক্লোসার পাশে।
এরপর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ডালাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৩৮তম মিনিটে গোল করে পৌঁছে যান ১৭ গোলে, যা তাকে এককভাবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসিয়েছে। পরে অবশ্য পেয়েছেন আরো একটি গোল।
তবে ইতিহাস গড়ার সুযোগ এসেছিল আরো আগেই। ম্যাচের নবম মিনিটে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। বিশ্বরেকর্ড গড়ার সুবর্ণ সুযোগ সামনে পেয়েও বল পোস্টের বাইরে পাঠিয়ে দেন মেসি। যা হতাশ করে সমর্থকদের।
ম্যাচ শেষে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গ্রহণ করে মেসি মজার ছলেই বলেন, পেনাল্টিতে গোল না পাওয়াটা হয়তো শেষ পর্যন্ত তার জন্য ভালোই হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমার পেনাল্টিতে গোল করার সুযোগ ছিল, যা ব্যবধান আরো বাড়াতে পারত। কিন্তু হয়তো আমি যদি সেই পেনাল্টি থেকে গোল করতাম, তাহলে পরের দু’টি গোল আর করা হতো না।’
দলের জয় নিয়ে নিজের আনন্দ লুকাননি তিনি। বলেন, ‘এই জয়ে আমি খুব খুশি। খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি জয় ছিল এটি। কঠিন একটি ম্যাচ খেলেছি আমরা, এই ম্যাচের জন্য কঠোর পরিশ্রমও করতে হয়েছে। সামনের চ্যালেঞ্জগুলোর আগে এই জয় আমাদের অনেক মানসিক প্রশান্তি দেবে।’
২-০ গোলের এই জয়ে গ্রুপ পর্বের এক ম্যাচ বাকি থাকতেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। মেসির বিশ্বাস, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে অর্জিত এই জয় দলের আত্মবিশ্বাস আরো বাড়াবে।
মেসি বলেন, ‘এই জয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কঠিন একটি জয়। বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের। আমরা ছয় পয়েন্ট অর্জন করতে পেরেছি, যা আমাদের জন্য দারুণ একটি অর্জন।’
এবারের বিশ্বকাপে অপ্রতিরোধ্য মেসি। দুই ম্যাচে করেছেন ৫ গোল। এর মাঝে কোন গোলটি তার সবচেয়ে প্রিয় ও নতুন ইতিহাস গড়ার অনুভূতি কেমন? জানতে চাওয়া হলে মেসির উত্তর, ‘আমি খুব ক্লান্ত।’



