ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউটে পা রেখেছে আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্ট। ই গ্রুপের ম্যাচে ইউরোপীয় দেশ কুরাসাওকে ২-০ গোলে হারিয়ে তারা এ গৌরব অর্জন করে।
অপরদিকে, একই গ্রুপে জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছে ইকুয়েডর।
কুরাসাওয়ের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ড্র বা জয় যেকোনো একটি হলেই চলতো আইভরি কোস্টের। কিন্তু নিকোলাস পেপের জোড়া গোলে ২-০ গোলে জিতে নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউটে পা রেখেছে আইভরি কোস্ট। আর বিদায় নিয়েছে কুরাসাও।
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে আইভরি কোস্টের হয়ে দুই অর্ধে দুটি গোলই করেন পেপে।
প্রথম গোলটি তিনি করেন ৭ মিনিটে। পেপের ওই গোলে গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর প্রথমার্ধের খেলা শেষেও ওই গোলেই লিডে ছিল আইভরি কোস্ট।
নকআউট নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় এক পয়েন্ট নিশ্চিতেই ম্যাচের শুরুতে গোল করলেন পেপে। কুরাসাওয়ের ডিফেন্ডারদের ক্লিয়ারেন্স ব্যর্থ হলে কিছুটা সৌভাগ্য নিয়ে বল পান ইয়ান দিয়োমান্দে।
তিনি বাইলাইন থেকে কাটব্যাক করেন, আর সাবেক আর্সেনাল তারকা নিকোলাস পেপে ছয় গজ দূর থেকে প্রথম ছোঁয়াতেই বল জালে পাঠান।
নটিংহ্যাম ফরেস্টের মিডফিল্ডার ইব্রাহিম সাঙ্গারের দারুণ পাস থেকে বল পেয়ে চমৎকার কার্লিং শটে দূরের কোণে দ্বিতীয়বার জালে বল জড়ান পেপে ৬৪ মিনিটে। তার করা দ্বিতীয় গোলে ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় ।
রাউন্ড অব ৩২ -এ ফ্রান্স বা নরওয়ের বিপক্ষে খেলবে আইভরি কোস্ট।
জার্মানি-ইকুয়েডর
ম্যাচের শুরুতেই ১–০ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল জার্মানি। কিন্তু তারপর যে এমন হার অপেক্ষা করবে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের জন্য তা জানত কে!
এবার বিশ্বকাপে অন্যতম সেরা অঘটনের জন্ম দিয়ে নিউ জার্সির এ ম্যাচে জার্মানির জালে দুটি গোল করে ইকুয়েডর। শেষ পর্যন্ত জার্মানিকে ২–১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে উঠল দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি।
গ্রুপের তৃতীয় সেরা দলগুলোর তালিকায় শ্রেয়তর অবস্থান নিয়ে বিশ্বকাপে শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে উঠল ইকুয়েডর।
তবে হারলেও ‘ই’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে নকআউটে উঠল জার্মানি। ৩ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট। দ্বিতীয় আইভরি কোস্টের সংগ্রহও সমান ৬ পয়েন্ট। তবে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে গ্রুপের রানার্স আপ দল হিসেবে আফ্রিকার দলটি প্রথমবারের মতো উঠল বিশ্বকাপের নকআউটে।
৩ ম্যাচে ইকুয়েডরের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। ১২টি গ্রুপে তৃতীয় সেরা দলগুলোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ইকুয়েডর। এর অর্থ হলো, ২০০৬ বিশ্বকাপের পর এবারই প্রথম নকআউটে উঠল তারা।
এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলতে আসা ৩ ম্যাচে ১ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের তলানিতে। জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বকাপের ইতিহাসে ক্ষুদ্রতম এই দেশের একটি ম্যাচ ড্র করতে পারাও কম নয়!



