অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভোরে মাঠে নামছে বাংলাদেশ, লক্ষ্য সিরিজ জয়

বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য আবারো কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেবেন অস্ট্রেলিয়ার পেসত্রয়ী প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউড এবং স্পিনার নাথান লায়ন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
নাজমুল হোসেন শান্ত
নাজমুল হোসেন শান্ত |ফাইল ছবি

সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে শনিবার ভোরেই ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ দল। প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে টাইগাররা। অন্যদিকে, বাংলাদেশের কাছে সিরিজ হার এড়াতে জয়ের বিকল্প নেই অস্ট্রেলিয়ার।

সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টটি বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় শুরু হবে। ডারউইনে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দাপট দেখিয়ে ৯ উইকেটে জয় পায় বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে টেস্ট ইতিহাসে অজিদের বিপক্ষে প্রথম জয়ের স্বাদ পায় টাইগাররা। এতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখছে নাজমুল ইসলাম শান্তর দল।

প্রথম টেস্ট জয়ে অস্ট্রেলিয়ার কাছে সিরিজ হারের কোনো সুযোগ নেই বাংলাদেশের। এমনকি অস্ট্রেলিয়া যদি এই টেস্ট জিতেও যায় এবং সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হয়, তারপরও বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এই সিরিজের ফলাফল সেরার কাতারেই থাকবে।

চাপে থেকেই দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামবে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের কাছে সিরিজ হারলে, ১৩৯ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠে ‘হোয়াইটওয়াশ’ বা প্রতিপক্ষের কাছে সিরিজের সব ম্যাচ হারের লজ্জা পাবে অজিরা। সর্বশেষ ১৮৮৭ সালে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের কাছে দুই ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টকে দলের ব্যাটিং ইউনিটের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে রান তুলে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর সেরা সুযোগ ব্যাটারদের।

বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য আবারো কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেবেন অস্ট্রেলিয়ার পেসত্রয়ী প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউড এবং স্পিনার নাথান লায়ন।

শান্ত মনে করেন, এমন শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের মুখোমুখি হওয়াটা দলের জন্য অনেক বড় সুযোগ।

দ্বিতীয় টেস্টকে সামনে রেখে আজ সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে, এখানে আসার আগে থেকেই আমি এমন বোলিং আক্রমণের মুখোমুখি হতে চেয়েছিলাম। আমি সবসময়ই বিশ্বাস করি, আমরা যদি এ ধরনের বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে রান করতে পারি, তাহলে যেকোনো বোলিং আক্রমণের বিপক্ষেই রান করা সম্ভব।’

ডারউইনে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে দুর্দান্ত ব্যাটিং নৈপুণ্য দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে ৪২৬ রান তুলে টাইগাররা। ফলে ২২৮ রানের লিডে ম্যাচ জয়ের পথ সহজ হয়ে যায় বাংলাদেশের।

ম্যাকাইতেও পারফরমেন্সের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেতে চায় বাংলাদেশ। শান্ত বলেন, ‘ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে এটি আমাদের জন্য একটি সুযোগ এবং বড় চ্যালেঞ্জ। এ ধরনের দলের বিপক্ষে রান করলে ভবিষ্যতে একই ধরনের কন্ডিশন বা বোলিং আক্রমণের মুখোমুখি হওয়ার সময় অনেক আত্মবিশ্বাস দেবে।’

ডারউইনের চেয়ে ম্যাকাইয়ের উইকেটে বাউন্স বেশি থাকবে বলে মনে করেন বাংলাদেশের সফল টেস্ট অধিনায়ক শান্ত। তবে দ্বিতীয় টেস্টের জন্য দল পুরোপুরি প্রস্তুত বলে মনে করছেন তিনি।

শান্ত বলেন, ‘আমার মনে হয় ডারউইনের তুলনায় এখানে বল কিছুটা বেশি বাউন্স করবে। এখানে আসার আগেই আমরা এমন বাউন্সি উইকেটের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। এ ছাড়া এখানে আসার আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আমাদের একটি সিরিজ ছিল, যেখানে উইকেটগুলো প্রায় একই রকম ছিল।’

সাম্প্রতিক নেট সেশনে বাড়তি বাউন্স সামলানোর অনুশীলন করেছে বাংলাদেশের ব্যাটাররা। তাই ম্যাকাই টেস্টের আগে আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে টাইগার ব্যাটারদের।

শান্ত বলেন, ‘আমি মনে করি, গত কয়েক দিনের নেট সেশনে ব্যাটাররা তাদের দক্ষতা নিয়ে কাজ করেছে। আমার বিশ্বাস, তারা বাড়তি বাউন্স সামলাতে পারবে।’

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ৭টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। এরমধ্যে দুটিতে জয় পেয়েছে টাইগাররা। ২০১৭ সালে মিরপুরে ২০ রানের জয়ের পর এবার ডারউইনে জিতেছে বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার কাছে পাঁচ টেস্ট হেরেছে বাংলাদেশ। ২০০৩ সালে প্রথম অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই টেস্টই হারে তারা। পাঁচ টেস্ট হারের মধ্যে তিনটিই ছিল ইনিংস ব্যবধানে।

প্রথম টেস্ট জয়ের পরই একাদশে পরিবর্তন আনতে পারে বাংলাদেশ। একাদশে জায়গা করে নিতে পারেন বাঁ-হাতি পেসার শরিফুল ইসলাম।

এদিকে, দ্বিতীয় টেস্টের জন্য ইতোমধ্যেই একাদশ ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া। ওপেনার জেক ওয়েদারল্ডের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পেয়েছেন ম্যাট রেনশ।

বাংলাদেশ দল : নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মেহেদি হাসান মিরাজ (সহ-অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান, মোমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, অমিত হাসান, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, এবাদত হোসেন, লিটন দাস ও শরিফুল ইসলাম।

অস্ট্রেলিয়া একাদশ : ম্যাট রেনশ, ট্রাভিস হেড, মার্নাস লাবুশেন, স্টিভ স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি, বো ওয়েবস্টার, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), নাথান লায়ন ও জশ হ্যাজলউড।